জাহিদুল হক রনি:
বাংলাদেশের প্রশাসনিক হৃদপিণ্ড ঢাকা জেলায় ঘটে গেল এক নীরব বিপ্লব। পুলিশ প্রশাসনে তৈরি হলো এক নতুন ইতিহাস।ব্রিটিশ আমল থেকে গত দেড়শ বছরেরও বেশি সময় ধরে যে চেয়ারটি ছিল শুধুই পুরুষ কর্মকর্তাদের,সেই প্রথা ভেঙ্গে ঢাকার জেলা প্রশাসনের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নারী পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্ব পেলেন নড়াইলের মেয়ে শামীমা পারভীন শিল্পী।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেন।শামীমা পারভীন ২৫তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের মাধ্যমে ২০০৬ সালে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগ দিয়ে দীর্ঘ ১৮ বছরের কর্মজীবনে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দেশি ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দ্বায়িত্ব করেছেন। তিনি জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে হাইতিতে ১৩৯ সদস্যের নারী পুলিশের সফল নেতৃত্ব দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক নারী পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের (IAWP) কো-অর্ডিনেটর হিসেবে বিশ্বের ২২টি দেশে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।তিনি ডিএমপি’র ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে সহকারী কমিশনারের দায়িত্ব পালনকালে নির্যাতিত নারী ও শিশুদের আইনি সহায়তা ও পূর্ণবাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে সুনাম অর্জন করেন।ঢাকা জেলার এসপি হওয়ার আগে তিনি পুলিশ সদর দপ্তরে এআইজি(শিক্ষা,ক্রীড়া ও সংস্কৃতি) হিসাবে কর্মরত ছিলেন। বিদায়ী এসপি মো. মিজানুর রহমানের স্থলাভিষিক্ত হওয়া শামীমা পারভীন শুধু ঢাকা জেলার প্রথম নারী এসপি-ই নন, বরং তিনি নারী ক্ষমতায়ন ও পুলিশ প্রশাসনে নারীদের নেতৃত্বের এক নতুন মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হলেন। তাঁর এই সাফল্যে জন্মভূমি নড়াইলসহ দেশজুড়ে বইছে আনন্দের জোয়ার।
শামীমা পারভীন শিল্পীর এই অর্জনকে সমগ্র নড়াইলবাসী গর্বের সাথে উদযাপন করছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানিয়ে হাজার হাজার পোস্ট করছে।নড়াইলের বিশিষ্টজনেরা মনে করেন,জননিরাপত্তা বিধান ও অপরাধ দমনে আধুনিক ও জনবান্ধব পুলিশিং উপহার দিয়ে শামীমা পারভীন শিল্পী কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে পুলিশের সর্বোচ্চ পদে পদন্নোতি পেয়ে নড়াইলবাসীকে গর্বিত করবে।
আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

