আজ শুক্রবার, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ১ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

স্বৈরাচাররা শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছিল : তারেক রহমান

আরো খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পার্টি (বিএনপি) চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, “স্বৈরাচাররা শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছিল।” তিনি বলেন, বাংলাদেশের শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের পথে একের পর এক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছিল, যা তাদের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করেছে।

আজ (শুক্রবার) বিকেলে বিএনপির শ্রমিক সমাবেশে, আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে, নয়াপল্টনে আয়োজিত এই সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এই মন্তব্য করেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শ্রমিকদের জন্য তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি
সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, “শ্রমিকদের স্ত্রীরা এখন ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। কৃষকদের ১০ হাজার টাকা ঋণ মওকুফ করা হয়েছে এবং তাদের জন্য নতুন কার্ডের ব্যবস্থা চলছে।” তিনি আরও বলেন, “গ্রামের মানুষ পানির অভাবে ভুগছে, সেজন্য আমরা খাল খননের কাজ শুরু করেছি। শ্রমিক ও কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তন হলে দেশের ভাগ্যও পরিবর্তিত হবে।”

শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা
শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, “১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ শ্রমিক ভাইদের পাশাপাশি নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং গত বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার বিপ্লবে শ্রমিক দলের ৭২ জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। আজকের এই দিনে আমি তাঁদের স্মরণ করছি।”

স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ
তারেক রহমান বিগত সরকারের দমন-পীড়নের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “আজ আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করছি, কিন্তু কয়েক বছর আগে এই রাজপথে ছিল আতঙ্ক। স্বৈরাচারের বাহিনী আমাদের হামলার ভয় দেখিয়ে প্রতিবাদ স্তব্ধ করার চেষ্টা করেছিল।” তিনি আরও বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এদেশের মানুষ স্বৈরাচারকে বিদায় দিয়েছে।”

তারেক রহমান অভিযোগ করেন, “গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দেশের প্রতিটি খেটে খাওয়া মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং মানুষের রাজনৈতিক অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেই শোষণ থেকে মুক্তি পেতে ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে এই স্বৈরাচারকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে।”

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

- Advertisement -
- Advertisement -