আজ বুধবার, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২৯ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৮ বছরেও উৎপাদনে যেতে পারেনি সিরাজগঞ্জের বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র

আরো খবর

ওয়াসিম সেখ:

দীর্ঘ আট বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো চালু হয়নি সিরাজগঞ্জের বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র। ৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পটি কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এখনো প্রকল্পটি সম্পন্ন করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কাছে হস্তান্তর করেনি, ফলে জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

সিরাজগঞ্জ শহরের মালশাপাড়া এলাকায় যমুনা নদীর পশ্চিমপাড় সংলগ্ন ক্রসবার-৩ এ ২০১৮ সালে ২ মেগাওয়াট ক্ষমতার বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০১৯ সালের এপ্রিলেই কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও স্থান পরিবর্তন, জাতীয় নির্বাচন ও করোনা পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন কারণে প্রকল্পের কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকে।

প্রকল্প এলাকায় ৮টি টাওয়ার নির্মাণ করে টারবাইন বসানো হলেও এখন পর্যন্ত সেগুলো সচল হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, তারা কখনো টারবাইনের পাখা ঘুরতে দেখেননি এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনও শুরু হয়নি। নির্মাণ জটিলতা ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন আটকে আছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতা সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, এটি একটি অপরিকল্পিত প্রকল্প। বায়ুর প্রবাহ যাচাই না করেই এ ধরনের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্যান এশিয়া পাওয়ার সার্ভিস লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী ইঞ্জিনিয়ার ফজলুর রহমান জানান, করোনাসহ বিভিন্ন কারণে কাজ বিলম্বিত হয়েছে। টাওয়ারের উচ্চতা সংক্রান্ত কিছু সমস্যাও ছিল। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে চালু করা যাবে। তবে এখানে ২ মেগাওয়াট নয়, ১ মেগাওয়াট বা তার কম বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হতে পারে। এ বিষয়ে পিডিবি সিরাজগঞ্জ কার্যালয়ের কর্মকর্তারা সুনির্দিষ্ট কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ প্রকল্পটি পরিকল্পনাহীনভাবে নেওয়া হয়েছে এবং বিগত সময়ে দুর্নীতির উদ্দেশ্যে এটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়েছিল। তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রকল্পটি চালুর দাবি জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন সঠিক পরিকল্পনা, স্থান নির্বাচন ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশেও বায়ু বিদ্যুৎ হতে পারে টেকসই জ্বালানির একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। তবে সিরাজগঞ্জের এই প্রকল্পটি দ্রুত চালু না হলে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ অপচয়ের ঝুঁকি থেকেই যাবে।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

- Advertisement -
- Advertisement -