আজ মঙ্গলবার, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২৮ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

অতিবৃষ্টিতে হাওরের পাকা ধান তলিয়ে যাচ্ছে, বিপাকে কৃষক

আরো খবর

আলোকিত প্রতিবেদক:

কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটার মৌসুমে উৎসবমুখর পরিবেশ থাকলেও টানা অতিবৃষ্টিতে সেই আনন্দে নেমে এসেছে ভাটা। গত তিন দিনের ভারী বর্ষণে হাওরের নিম্নাঞ্চলে পানি জমে পাকা ধানক্ষেত ডুবে যেতে শুরু করেছে।

বিশেষ করে অষ্টগ্রাম উপজেলার খয়েরপুর-আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নে খোয়াই নদীর পানি প্রবেশ করে বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত তলিয়ে দিয়েছে। এতে কৃষকদের স্বপ্নের সোনালি ফসল এখন পানির নিচে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অতিবৃষ্টির প্রভাব শুধু মাঠেই সীমাবদ্ধ নেই—ধান শুকানোর খলাতেও পানি জমে যাওয়ায় মাড়াই ও সংরক্ষণ প্রক্রিয়ায় চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।

নিকলী আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগের দিন সোমবার ২৪ ঘণ্টায় ২০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। আগামীকালও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার বিস্তীর্ণ হাওর এলাকায় নিম্নাঞ্চলের বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। অষ্টগ্রাম উপজেলায় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া ইটনা, মিঠামইন, নিকলী, তাড়াইল, করিমগঞ্জ ও বাজিতপুর উপজেলাতেও জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। ফলে যন্ত্রের মাধ্যমে ধান কাটাও ব্যাহত হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ মৌসুমে কিশোরগঞ্জে ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে, যার মধ্যে হাওরাঞ্চলে রয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৮১ হেক্টর। মোট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৯৬ হাজার ৬৮৬ টন চাল। এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে।

অষ্টগ্রামের কৃষক ফুল মিয়া জানান, “অতিবৃষ্টিতে শত শত একর জমির ধান পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। অনেক জায়গায় পানি বেড়ে যাওয়ায় মেশিন দিয়ে ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে না। চোখের সামনে ফসল নষ্ট হচ্ছে, আমরা অসহায়।”

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে এবং দ্রুত একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। তিনি জানান, ইতোমধ্যে খোয়াই নদীর পানি ঢুকে কিছু এলাকায় পাকা ধানক্ষেত তলিয়ে গেছে।

অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, এখনো পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি, তবে টানা বৃষ্টিতে পানি বাড়ছে। আগাম বন্যা এড়াতে আগে থেকেই কৃষকদের ৮০ শতাংশ ধান পাকলেই কাটার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

- Advertisement -
- Advertisement -