আজ বুধবার, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২২ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পশ্চিমবঙ্গ ভোটে মমতা–মোদি দ্বৈরথ: নির্ধারণী ভূমিকায় যেসব ‘ফ্যাক্টর’

আরো খবর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

রাত পোহালেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন শুরু হচ্ছে। প্রথম দফায় ২৩ এপ্রিল ১৬ জেলার ১৫২টি আসনে এবং দ্বিতীয় দফায় ২৯ এপ্রিল বাকি ৮ জেলার ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। এবারের নির্বাচন কারও জন্য ক্ষমতা ধরে রাখার, কারও জন্য ক্ষমতা দখলের, আবার কারও জন্য রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই। ফলাফল কী হবে তা নিয়ে জোর আলোচনা থাকলেও বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের সমীকরণ নির্ধারণে একাধিক ব্যক্তি ও ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

প্রধান ‘ফ্যাক্টর’ যারা-
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়:
তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘদিন ধরেই নিজেকে রাজ্যের সব আসনের প্রতীকী প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেন। ২০১১ সালে বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসার পর থেকে তিনি টানা শাসন করছেন । তার জনসংযোগ, ‘দিদি’ ইমেজ, নারী ভোটারদের সমর্থন এবং লক্ষ্মীর ভান্ডার, কন্যাশ্রী, স্বাস্থ্য সাথীর মতো সামাজিক প্রকল্প তাকে এগিয়ে রাখে।দলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, নিয়োগ কেলেঙ্কারি, নারী নিরাপত্তা ইস্যু এবং শাসনবিরোধী ক্ষোভ ভোটে প্রভাব ফেলতে পারে।

নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ:
ভারতের শাসক দল বিজেপির প্রধান মুখ এই দুই নেতা। পশ্চিমবঙ্গ জয়ের লক্ষ্যে তারা বারবার রাজ্যে প্রচার চালিয়েছেন।
মোদির ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং অমিত শাহর নির্বাচনী কৌশল বিজেপির বড় শক্তি। কেন্দ্রীয় উন্নয়ন, অনুপ্রবেশ ও দুর্নীতির ইস্যু তুলে ধরছে দলটি। ধর্মীয় মেরুকরণের অভিযোগ, বাঙালি সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গে দূরত্ব এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিতর্ক কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়:
তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি প্রার্থী না হলেও দলের কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তরুণ নেতৃত্ব, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং আধুনিক ভাবমূর্তি তাকে আলাদা করেছে। দুর্নীতি ও ‘পরিবারতন্ত্র’ নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ তার ভাবমূর্তিতে চাপ তৈরি করতে পারে।

শুভেন্দু অধিকারী:
বিরোধী দলনেতা এবং একসময় তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ এই নেতা এখন বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ মুখ। নন্দীগ্রামে মমতাকে পরাজিত করার অভিজ্ঞতা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে প্রভাব তাকে শক্তিশালী করেছে। ধর্মীয় মেরুকরণের অভিযোগ এবং ভোটার তালিকা বিতর্ক তার জন্য অস্বস্তির কারণ হতে পারে।

হুমায়ুন কবীর:
একাধিক দল ঘুরে বর্তমানে নিজস্ব দল গড়া এই নেতা কিছু এলাকায় ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে আলোচনায়। মুর্শিদাবাদ অঞ্চলে প্রভাব এবং মুসলিম ভোটে সম্ভাব্য প্রভাব। দলবদল, বিতর্কিত বক্তব্য এবং ভোট ভাগাভাগির অভিযোগ তার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে:
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনে ব্যক্তিত্ব, ইস্যু এবং কৌশল—সবকিছু মিলেই ফল নির্ধারণ করবে। শাসক দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বিরোধীদের বিকল্প হিসেবে গ্রহণযোগ্যতাও বড় প্রশ্ন। বর্তমানে এসআইআরসহ ভোটার তালিকা ইস্যু রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে, যা অন্যান্য উন্নয়নমূলক ইস্যুকে আড়াল করে দিয়েছে বলেও মত বিশ্লেষকদের।

সারসংক্ষেপ:
পশ্চিমবঙ্গের এবারের বিধানসভা নির্বাচন শুধু দলগত লড়াই নয়, বরং একাধিক প্রভাবশালী নেতার ইমেজ, কৌশল ও বিতর্কের সম্মিলিত প্রতিযোগিতা। ফলে শেষ পর্যন্ত ফল কোন দিকে ঝুঁকবে, তা নির্ভর করছে এই ‘ফ্যাক্টর’গুলোর পারস্পরিক প্রভাবের ওপর।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

- Advertisement -
- Advertisement -