নিজস্ব প্রতিবেদক:
এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে বাংলা প্রশ্ন তুলনামূলক সহজ হওয়ায় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা গেছে স্বস্তি ও আনন্দের ছাপ। পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে অনেকেই জানিয়েছেন, প্রশ্ন সহজ হওয়ায় তারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সব উত্তর লিখে আসতে পেরেছেন।
তেজগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহনাজ রহমান, যিনি সরকারি বিজ্ঞান উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন, বলেন—প্রশ্ন এতটাই সহজ ছিল যে সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পেরেছেন। যদিও বাংলা বিষয় হওয়ায় কিছু নম্বর কাটার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
শাহনাজ আরও জানান, পরীক্ষা কঠিন হতে পারে—এমন শঙ্কা ছিল তার ও পরিবারের। তবে বাস্তবে প্রশ্ন সহজ হওয়ায় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তার মতে, প্রশ্ন অনেকটাই কমন পড়ায় কেউ নকলের প্রয়োজনও অনুভব করেনি।
একই কেন্দ্রে পরীক্ষা দেওয়া হলি ক্রস গার্লস হাই স্কুলের শিক্ষার্থীরাও একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, পড়া বিষয় থেকেই প্রশ্ন এসেছে এবং লিখতে কোনো সমস্যা হয়নি। পরিদর্শকদের আচরণ নিয়েও তারা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
হলি ক্রসের শিক্ষার্থী নাজিফা আনজুম বলেন, বাংলা পরীক্ষা সহজ হবে ধারণা ছিল, তবে এতটা সহজ হবে তা ভাবেননি। ভালো সূচনা হওয়ায় তিনি গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়ার আশা করছেন। তার সহপাঠীরাও গণিত ও উচ্চতর গণিত সহজ হলে ভালো ফলের ব্যাপারে আশাবাদী।
শিক্ষার্থীদের এমন সন্তুষ্টির বিপরীতে কিছু শিক্ষক প্রশ্নপত্রের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। রাজধানীর এক শিক্ষিকা ইসমত আরা বলেন, অনেক প্রশ্ন গাইড বই থেকে হুবহু নেওয়া হয়েছে, যা সৃজনশীল প্রশ্নপত্রের মান নিয়ে বিতর্ক তৈরি করতে পারে।
তবে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক কামাল উদ্দিন হায়দার জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্র একাধিক স্তরে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে প্রণয়ন ও পরিমার্জন করা হয়, এবং তা মানসম্মত বলেই তারা বিশ্বাস করেন।
এদিকে, প্রথম দিনের পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ও অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা কিংবা অনিয়মের কারণে বহিষ্কারের তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
পরীক্ষা শেষে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, সারাদেশে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

