বিশেষ প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ ও European Union (ইইউ)-এর মধ্যে অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি (পিসিএ) চূড়ান্ত করার পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। এ লক্ষ্যে আগামী ২০ এপ্রিল Brussels-এ একটি ফ্রেমওয়ার্ক অ্যাগ্রিমেন্ট সই হতে যাচ্ছে। চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে সই করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং ইইউর পক্ষে সই করবেন ইউরোপীয় কমিশনের হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ Kaja Kallas।
চুক্তির অগ্রগতি ও সময়সূচি
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, ফ্রেমওয়ার্ক অ্যাগ্রিমেন্ট সইয়ের মাধ্যমে চূড়ান্ত পিসিএ চুক্তির পথে আরেক ধাপ এগোবে দুই পক্ষ। সব কিছু অনুকূলে থাকলে ২০২৬ সালের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ চুক্তি সই হতে পারে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইইউর আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল ১৯ এপ্রিল তুরস্ক থেকে ব্রাসেলস যাবে। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, সঙ্গে থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
আলোচনা ও দরকষাকষির অবস্থা
সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকদের মতে, পিসিএ চুক্তির মূল আলোচনা ও দরকষাকষি প্রায় শেষ। এখন চলছে রাজনৈতিক সম্মতির প্রক্রিয়া। গত এক বছরে একাধিক বৈঠক, খসড়া বিনিময় ও আলোচনার মাধ্যমে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে। বর্তমানে যে চুক্তি সই হবে, সেটি মূলত একটি কাঠামোগত বা ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি। তবে চূড়ান্ত চুক্তি সইয়ের আগে এখনও কিছু দাপ্তরিক প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে, বিশেষ করে ইইউর ২৭টি সদস্য দেশের অনুমোদন প্রয়োজন।
ব্রাসেলস সফরের কর্মসূচি
ব্রাসেলস সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেলজিয়ামের উপ-প্রধানমন্ত্রী Vincent Van Peteghem, ইউরোপীয় কমিশনার Ekaterina Zaharieva এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান David McAllister-এর সঙ্গে বৈঠক করবেন।
পটভূমি
বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর নতুন করে পিসিএ চুক্তির আলোচনা শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়। ওই সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট Ursula von der Leyen। পরবর্তীতে বিভিন্ন ধাপে আলোচনা এগিয়েছে—২০২৫ সালে ব্রাসেলসে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ঢাকা ও সিলেটে শেষ দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
পিসিএ চুক্তি কী?
পিসিএ (Partnership and Cooperation Agreement) একটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক চুক্তি, যা ইইউ এবং অংশীদার দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার কাঠামো নির্ধারণ করে।
এই চুক্তির আওতায় সাধারণত অন্তর্ভুক্ত থাকে-
রাজনৈতিক সংলাপ
শান্তি ও নিরাপত্তা
সুশাসন ও মানবাধিকার
বাণিজ্য ও অর্থনীতি
আর্থিক ও উন্নয়ন সহযোগিতা
আলোকিত প্রতিদিন/এম আর এম

