আজ সোমবার, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ।   ১৩ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৭২ ঘণ্টার আ*লটিমেটাম: বগুড়ায় নেতাকর্মীদের নামে ‘মি*থ্যা মা*মলার’ প্র*তিবাদে ফুঁ*সছে রাজপথ

আরো খবর

​মাজেদুর রহমান,ব্যুরো চীফ:
​বগুড়া শহরের শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করার ষড়যন্ত্র এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ মামলার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার সাতমাথা। যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতাদের নামে দায়েরকৃত মামলাকে ‘রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের অপচেষ্টা’ আখ্যা দিয়ে রাজপথে নেমেছেন কয়েকশ বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।
​রবিবার সকাল ১১টায় শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথায় আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন সমাবেশে নেতৃত্ব দেন বগুড়া শহর স্বেচ্ছাসেবক দল। শহরের চেলোপাড়া ও ফুলবাড়ি এলাকা থেকে আগত প্রায় ৫ শতাধিক নারী-পুরুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়ে স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত করেন রাজপথ। সমাবেশে বক্তারা চেলোপাড়ার কুখ্যাত ‘সান্দার পট্টি’ উচ্ছেদ এবং অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে ঘটা হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক নেতাদের নামে মামলা দিয়ে ফায়দা লোটার তীব্র নিন্দা জানান।
উল্লেখ্য যে, গত সোমবার (৬ এপ্রিল) রাতে ফুলবাড়ি এলাকায় অভ্যন্তরীণ কোন্দলে রবিন হোসেন নামে এক ব্যক্তি খুন হন। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আতাউর রহমান শম্ভু, শহর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জামিনুর হাসান শাওনসহ আপেল, রাহুল, রায়হান, সামাদ ও নীরবের মতো গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রকৃত খুনিদের আড়াল করে রাজনৈতিক শক্তিকে দমনেই এই ‘সাজানো’ মামলা দেওয়া হয়েছে।
শহর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক হোসেন আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন শহর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আদিল শাহরিয়ার গোর্কি। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন শহর স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি রুবেল, সাংগঠনিক সম্পাদক সম্রাট ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল।
​বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ​”বিএনপির কিছু বহিষ্কৃত নেতা আজ পকেটমার, ছিনতাইকারী ও সুদখোর সন্ত্রাসীদের মদদ দিচ্ছে। তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে উল্লাপাড়া থেকে আসা ‘সান্দার’ গোষ্ঠীরা করতোয়া নদীর জায়গা দখল করে শহরজুড়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। এই ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসীরা বগুড়ার জন্য এখন ক্যান্সারে রূপ নিয়েছে। এদের এখনই শহর থেকে বিতাড়িত করতে হবে।”
প্রশাসনের উদ্দেশ্যে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে সমাবেশ থেকে জানানো হয়, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যদি নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা না হয়, তবে বগুড়াবাসী বসে থাকবে না। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বিধায় এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে, তবে দাবি আদায় না হলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাওসহ আরও কঠোর ও বৃহত্তম কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
বক্তারা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে নিরপরাধ নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও হয়রানি বন্ধের জোর দাবি জানান।
আলোকিত প্রতিদিন /১২ এপ্রিল ২০২৬ /মওম
- Advertisement -
- Advertisement -