আজ রবিবার, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ।   ১২ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ব্যাংক খাতে ভর করে পতন থেকে রক্ষা পেল পুঁজিবাজার

আরো খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশের পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতের শেয়ারে নিম্নমুখি ধারা দেখা যাচ্ছিল কয়েক সপ্তাহ ধরেই। তবে বিদায়ী সপ্তাহে ঊর্ধ্বমুখি ধারায় ফিরেছে ব্যাংক খাতের শেয়ার। এ সময়ে ইতিবাচক রিটার্নও এসেছে ব্যাংক খাতের শেয়ারে। এই খাতে ভর করে গত সপ্তাহে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক বেড়েছে ডিএসইএক্স দশমিক ৭ শতাংশ । দৈনিক গড় লেনদেনও কিছুটা বেড়েছে। অপরদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) গত সপ্তাহে সূচক এবং লেনদেন বেড়েছে।

বাজার বিশ্লেষণ করেলে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইএক্স সূচক আগের সপ্তাহের তুলনায় ৩৮ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ২৫৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৫ হাজার ২২০ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ২২ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ৯৮০ পয়েন্ট। ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গত সপ্তাহে প্রায় ৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৬৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ৫৯ পয়েন্ট।

ডিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ৩৮৭টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৩৮টির, কমেছে ২২০টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ২৯টির। আর লেনদেন হয়নি ২৪টির। গত সপ্তাহে সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, সিটি ব্যাংক ও তাওফিকা ফুড অ্যান্ড লাভেলো আইসক্রিমের শেয়ার।

ডিএসইতে গত সপ্তাহে দৈনিক গড়ে ৬৬৯ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৬৬৮ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে দশমিক ২০ শতাংশ।

বাজার বিশ্লেষকরদের মতে , গত সপ্তাহের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্য এবং অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ঘাটতি নিয়ে বিদ্যমান অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীদের মনোভাব নেতিবাচক ছিল, যা বাজারজুড়ে বড় ধরনের শেয়ার বিক্রির চাপ তৈরি করে। তবে সপ্তাহের চতুর্থ দিন যুদ্ধবিরতির খবরে পুঁজিবাজারে বড় উত্থান দেখা যায়। যদিও যুদ্ধবিরতির স্থায়ীত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতার কারণে শেষ কার্যদিবসে পয়েন্ট হারিয়েছে সূচক।

গত সপ্তাহে ওষুধ এবং রসায়ন খাতের শেয়ারের আধিপত্য ছিল। লেনদেনচিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। ১৪ দশমিক ২ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল প্রকৌশল খাত। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ব্যাংক খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৯ দশমিক ৩ শতাংশ। বস্ত্র খাত ৯ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ অবস্থানে ছিল। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা সাধারণ বীমা খাতের দখলে ছিল মোট লেনদেনের ৮ দশমিক ৮ শতাংশ।

ডিএসইতে গত সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি ২ দশমিক ৪ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে চামড়া খাতে। এ ছাড়া ব্যাংক এবং কাগজ ও মুদ্রণ খাতে ১ দশমিক ৭ শতাংশ, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ১ দশমিক ৪ শতাংশ এবং সিমেন্ট খাতে ১ দশমিক ৩ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। গত সপ্তাহে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে সবচেয়ে বেশি ২ দশমিক ৯ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এ ছাড়া এ সময়ে জীবন বীমা খাতে ২ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে ১ দশমিক ৮ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন ছিল।

সিএসইতে গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই দশমিক ৪৯ শতাংশ বেড়ে ১৪ হাজার ৭৭৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৪ হাজার ৭০১ পয়েন্ট। সিএসসিএক্স সূচকটি সপ্তাহের ব্যবধানে দশমিক ৬৩ শতাংশ বেড়ে ৯ হাজার ৩৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৮ হাজার ৯৮৩ পয়েন্ট।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

- Advertisement -
- Advertisement -