আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লেবাননে ইসরায়েলের ভয়াবহ আগ্রাসী হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি অথবা ইসরায়েলের পক্ষে যুদ্ধ যে কোনো একটিকে বেছে নিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগ এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় আরাগচি বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো পরিষ্কার এবং স্পষ্ট: যুক্তরাষ্ট্রকে এখন অবশ্যই বেছে নিতে হবে যে তারা যুদ্ধবিরতি চায়, না-কি ইসরায়েলের পক্ষে যুদ্ধ করতে চায়। কারণ, এই দু’টো একসঙ্গে চলতে পারবে না।”
“লেবাননে যে বিধ্বংসী হামলা, বেপরোয়া হত্যাকাণ্ড চলছে— পুরো পৃথিবী তার সাক্ষী। বল এখন যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে। তারা তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করবে কিনা— তা বিশ্ব দেখছে।”
লেবাননের সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, লেবাননের রাজধানী বৈরুত এবং অন্যান্য অঞ্চলে ইসরায়েলের আগ্রাসী হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে কমপক্ষে ২৫৪ জনে পৌঁছেছে। সেই সঙ্গে এখন পর্যন্ত আহত হয়েছেন ১ হাজার ১০০ জনেরও বেশি মানুষ। নিহত এবং আহতরে সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
মাত্র ১০ মিনিট ধরে চলে এই অভিযান। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মাত্র ১০ মিনিট ধরে চলা এই অভিযানে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর ৫০টি যুদ্ধবিমান অংশ নিয়েছে এবং ১০ মিনিটে পুরো লেবাননে ১০০ বারেরও বেশি বোমাবর্ষণ করা হয়েছে।
লেবাননের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে অধিকাংশ বোমা ফেলা হয়েছে। ফলে ধ্বংস এবং প্রাণহানি মাত্রা অনেক বেশি। এক প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে, নিহত-আহত এবং তাদের স্বজনদের ভিড়ে রীতিমতো হিমসিম খাচ্ছে বৈরুত ও লেবাননের অন্যান্য শহর-গ্রামের হাসপাতালগুলো। ধ্বংসস্তূপ আটকা পড়া নিহত ও আহতদের উদ্ধারে বেগ পেতে হচ্ছে উদ্ধারকারী বাহিনীর সদস্যদেরও।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

