আজ বৃহস্পতিবার, ১৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ।   ২ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

রূপগঞ্জে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধিতে আতঙ্কিত অভিভাবকরা

আরো খবর

রিপন পাল:

নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত ১৫ দিনে হামের লক্ষণ নিয়ে অর্ধশতাধিক শিশু হাসপাতালে এসেছে। গত সোমবার সকাল ৯টা থেকে গতকাল ২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত ১৫ শিশু ভর্তি করা হয়। গত বুধবার বিকেলে ৮ শিশুকে চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত ভর্তি রয়েছে ৭ শিশু। তাদের হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে হামের লক্ষণ থাকা ও আক্রান্ত শিশুদের ভর্তি করা হচ্ছে। হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধিতে অভিভাবকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। আগামী ৫ এপ্রিল রবিবার হামের জরুরী টিকাদান শুরু হবে জেনে রোগীর অভিভাবকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত ৩০ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ২২ শিশু। এছাড়া হামের লক্ষণ নিয়ে গত ২৪ মার্চ রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়নের মাছিমপুর বাড়ইপাড়া এলাকার রকির ছেলে আরিয়ান ইসলাম ঢাকার শহিদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় মারা যায়। গত ১৯ মার্চ ঢাকার মহাখালী উদরাময় হাসপাতাতলে মারা যায় কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চনপাড়া এলাকার এক বছর বয়সী নুহাশ। গতকাল ২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামের লক্ষণ নিয়ে ৭ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। তারা হচ্ছে রূপগঞ্জের মাহমুদাবাদ গ্রামের ফয়সালের মেয়ে ফাতিহা(২), পূবেরগাঁও গ্রামের সোহেল আহম্মদের ছেলে দিহান(১০), মঙ্গলখালী গ্রামের আল-আমিনের ছেলে মিনহা(৮), মাসাবো গ্রামের মামুন হাসানের ছেলে হাসিম(৪), পাড়াইন গ্রামের হাফিজুল ইসলামের মেয়ে হাফসা আক্তার(৮), চনপাড়া গ্রামের রাব্বির ছেলে এক বছর বয়সী রাইয়ান ইসলাম, রূপগঞ্জ গ্রামের দ্বীন ইসলামের ছেলে আযান(৪)। রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য সহকারী এসোসিয়েশনের সভাপতি মাকসুদুল হাসান মতিন বলেন, স্বাস্থ্য সহকারীরা নিজ নিজ এলাকায় প্রতিদিন হামের লক্ষণকৃত শিশুদের খুঁজে বের করে হাসপাতালে নিয়ে আসছে। তাদের চিকিৎসাও দেওয়া হচ্ছে।

রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আইভি ফেরদৌস বলেন, হাম রোগীদের চিকিৎসায় আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। সেখানে মেডিকেল টিম গঠন করে চিকিৎসা চলছে। হাম সংক্রমণ ব্যাধি হলেও আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে। হামে আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের কাছ থেকে আলাদা রাখতে হবে। শিশুদের ভিটামিনযুক্ত খাবার দিতে হবে।

গত ১৭ মার্চ থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুদের মধ্যে ২০টি শিশুর নমুনা সংগ্রহ করে চিকিৎসা চলছে। নমুনা সংগ্রহ করে ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড মিজেলস ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়। এর মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২০টি নমুনার পরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে মধ্যে ১৫টি শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়। নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মশিউর রহমান বলেন, আক্রান্ত শিশুদের ৮০ শতাংশই ৯ মাসের নিচে বয়স। তাদের হামের টিকা নেওয়ারই সময় হয়নি এখনো। বাকি শিশুদের মধ্যে ১০ শতাংশ ১ ডোজপ্রাপ্ত এবং বাকি ১০ শতাংশ ২ ডোজপ্রাপ্ত। পরিস্থিতি সামলাতে ইতিমধ্যে সব ধরণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ-১(রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু বলেন, হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে নারায়ণগঞ্জ জেলায় বর্তমানে ৭৫হাজার ডোজ হাম টিকা মজুদ রয়েছে। এসব টিকা পর্যায়ক্রমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ও শিশুদের মধ্যে প্রয়োগের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সরকারি স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে রূপগঞ্জের ৪১টি কমিউনিটি ক্লিনিক, দুইটি ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র সচল ও রোগী পরিবহনে নৌ অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থা করা হবে। হাম নিয়ে একটি পক্ষ আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। অভিভাবকদের আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে হবে। তিনি রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সার্বিক কার্যক্রম, রোগীদের চিকিৎসা সেবা, ওষুধ সরবরাহ ও হামের টিকাদান কার্যক্রমের অগ্রগতির সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ খবর নিচ্ছেন।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

- Advertisement -
- Advertisement -