নিজস্ব প্রতিনিধি:
গাজীপুর জেলার সাবেক জয়দেবপুর, বর্তমানে টঙ্গী পূর্ব থানাধীন পাগাড় মৌজায় অবস্থিত জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে ‘জাবের এন্ড জুবায়ের ফেব্রিক্স লিমিটেড’সহ নোমান গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক, মিথ্যা ও সম্মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, উক্ত জমির ইতিহাস ১৯৬৩ সালে শুরু, যখন একাধিক মালিক যৌথভাবে জমিটি বেনামি বায়নাপত্রের মাধ্যমে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় যুক্ত হন। পরবর্তীতে সংখ্যালঘু সম্পত্তি বিক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকারি অনুমতির প্রয়োজন হলে বোর্ড অব রেভিনিউ-এর অনুমোদন নিয়ে জমি ক্রয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। এ সংক্রান্ত দেওয়ানি মামলায় আদালতে সোলেনামা দাখিলের মাধ্যমে রায় ও ডিক্রি জারি হয় এবং পরবর্তীতে জমি পাগাড় হাউজিং সোসাইটির নামে বৈধভাবে রেজিস্ট্রি করা হয়। এতে মোট প্রায় ৭৪.১৮ একর জমি হাউজিং সোসাইটির নিকট হস্তান্তরিত হয়।
পরবর্তীতে পাগাড় হাউজিং সোসাইটির অংশীদার ও পরবর্তী মালিকদের কাছ থেকে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন দলিলের মাধ্যমে “জাবের এন্ড জুবায়ের ফেব্রিক্স লিমিটেড”সহ নোমান গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে প্রায় ২৮ একর জমি ক্রয় করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ক্রয়ের পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় ও রাজস্ব সার্কেল থেকে নিয়ম অনুযায়ী নামজারি ও জমাভাগ সম্পন্ন করে এবং নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে আসছে।
নোমান গ্রুপের দাবি, তারা গত ৩৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে উক্ত জমিতে বৈধভাবে শিল্পকারখানা স্থাপন করে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলে রয়েছে। সরকারি অনুমোদন, লাইসেন্স ও ছাড়পত্র গ্রহণ করে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে ২০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে এবং উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে ১.৩ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। অপরদিকে, অভিযোগ করা হয় যে, আহাম্মদ আলীর মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকারীরা স্বত্বহীন অবস্থায় সম্পত্তি হস্তান্তরের চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে এ সংক্রান্ত মামলা আদালতে দায়ের হলে তা খারিজ হয়ে যায় এবং আপিল পর্যায়েও তা বহাল থাকে। আদালতের রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, তাদের কোনো বৈধ স্বত্ব বা অধিকার নেই এবং তাদের দ্বারা সম্পাদিত দলিলসমূহ অকার্যকর।
নোমান গ্রুপের চেয়ারম্যান মোঃ নুরুল ইসলাম জানান, কাজল সরকারসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র ভুয়া ও অকার্যকর দলিলের ভিত্তিতে জমির মালিকানা দাবি করে আসছে। এমনকি অতীতে তারা নিজেরাই পাগাড় হাউজিং সোসাইটির স্বত্ব স্বীকার করে জমি বিক্রয় করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট একটি মামলা গাজীপুর জেলা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, উক্ত চক্র ভুয়া দলিল তৈরি, প্রতারণা এবং জাল আম মোক্তারনামা সৃষ্টির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৯৩, ১৯৫ ও ২১১ ধারাসহ ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। এদিকে, গত ১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ঢাকায় রিপোর্টার্স ইউনিটিতে কাজল সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তারা বিভিন্ন অভিযোগ উপস্থাপন করেন। তবে নোমান গ্রুপের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ওই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত তথ্য মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনসহ দেশ-বিদেশে নোমান গ্রুপের সুদৃঢ় সুনাম রয়েছে। এ ধরনের মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা সেই সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা মাত্র। নোমান গ্রুপ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এ ধরনের অপপ্রচার বন্ধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

