আজ সোমবার, ১৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ।   ৩০ মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইরানে মার্কিন স্থল অভিযানের হুঁশিয়ারি, বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১১৬ ডলার ছাড়ালো

আরো খবর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের যুদ্ধ বহুমুখী রূপ নেওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ছে। সোমবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলার ছাড়িয়েছে। গত ১৯ মার্চের পর তেলের এই দাম সর্বোচ্চ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানে স্থল অভিযান চালাতে পারে, তেহরানের এমন আশঙ্কার পর জ্বালানি বাজারে এই অস্থিরতা শুরু হয়েছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মার্কিন সেনারা ইরানে পা রাখলে তাদের ‘আগুনে পুড়িয়ে’ মারা হবে এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।

তেলের দাম বাড়ার সমান্তরালে এশিয়ার পুঁজিবাজারে বড় ধস নেমেছে। সোমবার সকালে জাপানের নিক্কেই ২২৫ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি ইনডেক্স ৪ শতাংশের বেশি দরপতন হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত তেলের দাম প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে। হরমজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে, যা ভয়াবহতম জ্বালানি সংকটে ফেলেছে বিশ্বকে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী ৬ এপ্রিলের মধ্যে হরমজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আলটিমেটাম দিয়েছেন। অন্যথায় ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তিনি। তবে রবিবার রাতে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, আমি ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা দেখতে পাচ্ছি। এটি খুব শিগগিরই হতে পারে। পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দুই পক্ষের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনার চেষ্টা চালাচ্ছে।

ট্রাম্প আলোচনার কথা বললেও তেহরান তার দেওয়া ১৫ দফার শান্তি প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। পরিবর্তে ইরান নিজস্ব যুদ্ধবিরতির শর্ত দিয়েছে, যার মধ্যে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং হরমজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতির দাবি রয়েছে।

অনিক্স ক্যাপিটাল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী গ্রেগ নিউম্যান আল-জাজিরাকে বলেন, ইউরোপের বাজারে তেলের এই ঘাটতির প্রভাব অনুভূত হতে আরও তিন সপ্তাহ সময় লাগবে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১২০ ডলার ছাড়িয়ে আরও ওপরে উঠতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, বাজারের এই অস্থিরতা আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে ভয়াবহ এবং আগামী মাসগুলোতে এর আসল রূপ অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানে প্রকাশ পাবে।

যুদ্ধ শুরুর আগে হরমজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১২০টি জাহাজ চলাচল করত। বর্তমানে সেই সংখ্যা নগণ্য। তবে শান্তি প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইরান কিছু ছাড় দিচ্ছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছেন, ২০টি পাকিস্তানি পতাকাবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে তেহরান। মালয়েশিয়াসহ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিরোধী জোটের বাইরের কিছু জাহাজকেও চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন /৩০ মার্চ ২০২৬ /মওম

- Advertisement -
- Advertisement -