আজ , ।   

​নাগরপুরে ঘাতক ট্রলির চাপায় শিশু আলিফার মর্মান্তিক মৃ*ত্যু

আরো খবর

প্রতিনিধি নাগরপুর:

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে বেপরোয়া গতির ট্রলির চাকায় পিষ্ট হয়ে আলিফা (৮) নামের এক শিশু কন্যার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার মামুদনগর পুরাতন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

​নিহত আলিফা উপজেলার কাশাদহ গ্রামের মো. বাবুল হোসেনের মেয়ে। দুর্ঘটনায় তার ফুপা আজমিরুল ও ফুপি রত্না আক্তার আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিকেলে ফুপার মোটরসাইকেলে চড়ে বেড়াতে বের হয়েছিল শিশু আলিফা। পথিমধ্যে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী ট্রলিকে সাইড দিতে গিয়ে মোটরসাইকেল থেকে রাস্তায় ছিটকে পড়ে সে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, ট্রলি চালক ব্রেক না চেপে দ্রুত গতিতে আলিফার ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দিলে ঘটনাস্থলেই শিশুটির মৃত্যু হয়।

স্থানীয় ও বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ঘাতক ট্রলিটির মালিক আবিদ ব্রিকস এর স্বত্বাধিকারী মোঃ শহিদুর রহমান শহীদ। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মালিকানাধীন এসব অনিয়ন্ত্রিত ও ফিটনেসবিহীন ট্রলিগুলোর কারণে নাগরপুরের সড়কগুলো এখন সাধারণ মানুষের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। চালকদের অদক্ষতা এবং ট্রাফিক আইনের তোয়াক্কা না করার মানসিকতাই আজ একটি পরিবারের স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দিয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ঘাতক ট্রলির মালিক ও আবিদ ব্রিকস এর স্বত্বাধিকারী মোঃ শহিদুর রহমান শহীদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, তিনি ঘটনার বিষয়ে অবগত আছেন বলে জানান। তবে দুর্ঘটনার বিস্তারিত বা মালিকানার বিষয়ে এই মুহূর্তে সংবাদমাধ্যমে কোনো প্রকার মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মুরাদ হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ঘাতক চালক ও ট্রলিটি শনাক্তের কাজ চলছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​সচেতন মহলের দাবি, মালিকের পরিচয় যাই হোক না কেন, এই দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। দোষী চালককে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার পাশাপাশি জনবহুল এলাকায় অবৈধ ট্রলি চলাচল বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

- Advertisement -
- Advertisement -