আজ শুক্রবার, ১৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ।   ২৭ মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গণতন্ত্র ও স্বাধিকার আন্দোলনের আপসহীন সৈনিক খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন

আরো খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশের রাজনীতি এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন। যিনি ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ভাষা সৈনিক। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র দুঃসময়ের এই কান্ডারীকে তাঁর ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণ না করায় ক্ষোভ এবং হতাশা বিরাজ করছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে। এছাড়াও মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার পাচুরিয়া গ্রামে তাঁর কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

২০০৭ সালের ১/১১ পরবর্তী রাজনৈতিক সংকটে যখন বিরাজনীতিকরণের নীল নকশা চলছিল, তখন চরম প্রতিকূলতার মাঝেও দলকে রক্ষা করেছিলেন খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, তাঁর আপসহীন ভূমিকার কারণেই বিএনপি আজ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফিরতে পেরেছে ও তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। দুর্দিনের কান্ডারি এই ‘লৌহমানব’কে দল ও সরকার ভুলে গেছে কি না- এমন প্রশ্ন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।

গত ১৬ মার্চ খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে ঘিওরের বাড়িতে কোনো কেন্দ্রীয় কর্মসূচি না থাকায় হতাশ স্থানীয় সমর্থকরা। তারা বলছেন, “যদি আজ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সক্রিয় থাকতেন, তবে দেলোয়ার হোসেনকে এভাবে অবমূল্যায়ন করা হতো না।

তৃণমূলের দাবি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উচিত একবারের জন্য হলেও মানিকগঞ্জে গিয়ে এই বীর সেনানীর কবর জিয়ারত করা। পাশাপাশি ১/১১-এর সময়ে তারেক রহমানের জন্য চরম নির্যাতনের শিকার হওয়া খোন্দকার দেলোয়ারের বড় ছেলে ড. খোন্দকার আকবর হোসেনকে যোগ্যতা অনুযায়ী যথাযথ মূল্যায়ন করার আহ্বান জানিয়েছেন মানিকগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষ।

বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ রূপকার ছিলেন মরহুম খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন। বিশেষ করে ১/১১-এর ক্রান্তিলগ্নে তিনি যে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, তা দেশের যেকোনো রাজনৈতিক দলের জন্য এক বলিষ্ঠ দৃষ্টান্ত। তৃণমূলের দাবি, দলের এই দুঃসময়ের কান্ডারীর ঋণ স্বীকার করে তাঁর পরিবার ও স্মৃতিকে যথাযথ সম্মানে ভূষিত করবে বিএনপি ও বর্তমান সরকার।

মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ভাষাসৈনিক খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনকে মরণোত্তর ‘স্বাধীনতা পদক’-এ ভূষিত করতে সরকারের নিকট জোর দাবি উঠেছে। দেশের গণতন্ত্র ও স্বাধিকার আন্দোলনে তাঁর অবদানের ন্যায্য স্বীকৃতি স্বরূপ এই পদক তার প্রাপ্য বলে মনে করেন নেতাকর্মীরা ।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

- Advertisement -
- Advertisement -