ক্রীড়া ডেস্ক:
২৯১ রানের লক্ষ্যে সালমান আলী আগা সেঞ্চুরিতে জয়ের আশা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। ৪৮তম ওভারে তাকে ১০৬ রানে থামান তাসকিন আহমেদ। তখন মনে হচ্ছিল ম্যাচ বুঝি এখানেই শেষ। কিন্তু শেষ দুই ওভারে যখন ২৮ রান প্রয়োজন তখনই মোস্তাফিজের ৪৯তম ওভারে দুটি ছক্কা মেরে আবারও রোমাঞ্চকর পরিস্থিতির জন্ম দেন শাহীন আফ্রিদি। তার ওপর মারাত্মক চোটআঘাতও পান মোস্তাফিজ। তার পরও ওই ওভারের শেষ বলে হারিস রউফকে (১) ফিরিয়ে পাকিস্তানকে খাদের কিনারে ফেলে দেন কাটার মাস্টার। নবম উইকেট পতনের পর ৬ বলে সমীকরণ দাঁড়ায় ১৪ রানের। কিন্তু শেষ ওভারে রিশাদের ঘূর্ণিতে আর পেরে উঠেননি শাহীন। স্নায়ুর লড়াইয়ে বড় শট খেলতে চেষ্টা করলেও মাত্র দুই রান নিতে পেরেছেন পাকিস্তান অধিনায়ক। তার ওপর শেষ বলে স্টাম্পড হওয়াতে পাকিস্তান ২৭৯ রানে অলআউট হয়েছে। বাংলাদেশ পেয়েছে ১১ রানের রোমাঞ্চকর এক জয়। তাতে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে নিশ্চিত হয়েছে মিরাজদের।
বাংলাদেশের হয়ে সেরা বোলিং পারফরম্যান্স ছিল তাসকিন আহমেদের। ৪৯ রানে ৪ উইকেট নেন তিনি। ৫৪ রানে তিনটি নেন মোস্তাফিজুর রহমান। ৬২ রানে দুটি নেন নাহিদ রানা। একটি শিকার করেছেন রিশাদ হোসেন।
সিরিজ নির্ধারণী ওয়ানডেতে শুরুতে তানজিদ তামিমের ১০৭ রানে ভর করে ৫ উইকেটে ২৯০ রান সংগ্রহ করেছিল বাংলাদেশ। জবাবে ১৭ রানে তিন উইকেট হারিয়েই বিপদে পড়ে পাকিস্তান। ৬৭ রানে চতুর্থ উইকেট পতনের পর ম্যাচে প্রাণ ফেরাতে থাকেন সালমান আগা ও সাদ মাসুদ। ৭৯ রানের জুটিতে লড়াই করছিলেন তারা। সাদ মাসুদ ফিরলে তার পর সালমানের ১০৬ রানের লড়াকু সেঞ্চুরিতে জয়ের সম্ভাবনা জাগায় পাকিস্তান। তার বিদায়ের পর শাহীনের মিনি ঝড় রোমাঞ্চ ছড়ালেও বাংলাদেশের দুর্দান্ত বোলিংয়ে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান পরাস্ত হয়েছে।
শেষ দিকে লড়াইটা জমিয়ে তুলেছিলেন সালমান আগা। সেঞ্চুরিতে প্রান্ত আগলে জয়ের আশা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। ৪৮তম ওভারে তাকে ১০৬ রানে থামিয়েছেন তাসকিন আহমেদ। মেরে খেলতে গিয়ে আগা ৯৮ বলের ইনিংস খেলে ফিরেছেন। তাতে ছিল ৯টি চার ও ৪টি ছয়।
৬৭ রানে চতুর্থ উইকেট পতনের পর ম্যাচে প্রাণ ফেরাচ্ছিলেন সালমান আগা ও সাদ মাসুদ। ৭৯ রানের জুটিতে লড়াই করছিলেন তারা। কিন্তু ৩১.২ ওভারে দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে এই জুটি ভেঙেছেন মোস্তাফিজুর রহমান। ৪৪ বলে ৩৮ রান করা সাদ মাসুদকে বোল্ড করেছেন কাটার মাস্টার। তাতে ১৬১ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারিয়ে আরও বিপদে পড়েছে পাকিস্তান।
তৃতীয় উইকেট পতনের পর ধাক্কা সামাল দিতে ঘোরির সঙ্গে প্রতিরোধ গড়েছিলেন আব্দুল সামাদ। ঘোরির প্রতিরোধ ভাঙার পর স্থায়ী হয়নি সামাদের ইনিংসও। ১৭.৪ ওভারে সামাদকে লিটনের গ্লাভসবন্দি করান মোস্তাফিজুর রহমান। পাকিস্তানি ব্যাটার ৪৫ বলে করেছেন ৩৪ রান। তাতে ছিল ৫টি চার।
২৯১ রানের লক্ষ্য দিয়ে বল হাতে দুর্দান্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ। প্রথম ওভারেই আঘাত হেনেছেন তাসকিন আহমেদ। উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ৬ রানে ফিরেছেন ওপেনার সাহেবজাদা ফারহান (৬)। পরের ওভারে আঘাত হানেন নাহিদ রানা। আগ্রাসী হতে চাওয়া মাজ সাদাকাতকেও গ্লাভসবন্দি করান তিনি। পরের ওভারে তাসকিন আবারও আঘাত হানলে ৩ ওভারেই বিপদে পড়ে যায় পাকিস্তান। নতুন ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ানকে ৪ রানে বোল্ড করেছেন তিনি। পাকিস্তান তৃতীয় উইকেট হারায় ১৭ রানে!
সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডেতে পাকিস্তানকে ২৯১ রানের লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেটে ২৯০ রানের সংগ্রহ পেয়েছে স্বাগতিক দল। যার মূল মঞ্চ গড়ে দিয়েছেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। শুরু থেকে আক্রমণাত্মক ব্যাট করে পাকিস্তানি বোলারদের ওপর ছড়ি ঘুরিয়েছেন। পেয়েছেন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। আউট হওয়ার আগে ১০৭ বলে করেছেন ১০৭ রান। দলীয় ১৯৪ রানে তার বিদায়ের পর ইনিংস টেনে নেন লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয়। তাদের ব্যাটেই স্কোর আড়াইশ পার হয়েছে। লিটন ৪১ রানে আউট হলে হৃদয় ৪৪ বলে ৪৮ রানে অপরাজিত থেকে ইনিংসটাকে শেষ পর্যন্ত নিয়ে গেছেন। অবশ্য যেভাবে শেষ দিকে জ্বলে ওঠার দরকার ছিল, সেটা পারেননি।
পাকিস্তানের হয়ে সেরা বোলার ছিলেন হারিস রউফ। ৫২ রানে ৩ উইকেট নেন তিনি। একটি করে নেন শাহীন আফ্রিদি, আবরার আহমেদ।
শুরু থেকে বাংলাদেশের ইনিংস এগিয়ে নিচ্ছিলেন তানজিদ হাসান। তার আগ্রাসী ব্যাটিংয়েই বাংলাদেশ দ্রুত গতিতে রান তুলেছে। তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। ৩৬.২ ওভারে তাকে ১০৭ রানে থামিয়েছেন আবরার আহমেদ। কাট করতে গিয়ে শাহীনের কাছে ক্যাচ দেন তানজিদ। তার ১০৭ বলের ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৭টি ছয়। শুরু থেকে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন মূলত ওপেনার তানজিদ হাসান। তার আগ্রাসী ব্যাটেই বাংলাদেশ ৩৩ ওভারে ২ উইকেটে ১৭৭ রান তুলেছে। যার মধ্যে একশ রান করেছেন তানজিদ। তিনি ৯৮ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন।
সাইফ হাসানের বিদায়ের পর নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়েও জুটি গড়েন তানজিদ হাসান। প্রান্ত আগলে মূল দায়িত্বটা পালন করছেন তিনি। তবে ২৯.২ ওভারে শান্তকে এলবিডাব্লিউতে ফিরিয়ে ৫৩ রানের দ্বিতীয় উইকেট জুটি ভেঙেছেন হারিস রউফ। রিভিউ নিয়েও লাভ হয়নি। শান্ত ৩৪ বলে ৩ চারে করেছেন ২৭ রান।
সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান মিলে দারুণ শুরু এনে দিয়েছিলেন। দুই ওপেনারের ব্যাটে ১৮ ওভারেই স্কোরবোর্ডে জমা হয় ১০৫ রান। দুজনের মধ্যে বেশি আগ্রাসী ছিলেন তানজিদ। তবে ১৮.১ ওভারে আক্রমণাত্মক হওয়ার মাশুল দিয়েছেন সাইফ। শাহীনের বলে এগিয়ে এসে বড় শট খেলতে গিয়ে ৩৬ রানে বোল্ড হয়েছেন তিনি। সাইফের ৫৫ বলের ইনিংসে ছিল ৩টি চার।
মিরপুরে রবিবার সিরিজ নির্ধারণী লড়াই। গুরুত্বপূর্ণ সেই ম্যাচে অবশ্য টস জিততে পারেনি বাংলাদেশ। আগের দুই ম্যাচে টস জিতলেও শেষ ওয়ানডেতে টস হেরেছে। তাদের ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছে পাকিস্তান।
এক ম্যাচ হাতে রেখেই ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে ব্যাক-টু ব্যাক ওয়ানডে সিরিজ জয়ের সুযোগ ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু দ্বিতীয় ওয়ানডেতে পুরোপুরি অসহায় আত্মসমর্পণ করে স্বাগতিক দল। বাংলাদেশের ওপর আধিপত্য দেখিয়ে সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে পাকিস্তান। সিরিজের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিকরা পাকিস্তানকে মাত্র ১১৪ রানে অলআউট করে ৮ উইকেটের বড় জয় পেয়েছিল। বৃষ্টিবিঘ্নিত দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশও ১১৪ রানে গুটিয়ে যায়। আর ১২৮ রানের বড় ব্যবধানে ম্যাচ জেতে শাহীন আফ্রিদির দলগত ম্যাচে চোট পাওয়ায় ছিটকে গেছেন হুসেইন তালাত। জায়গা হয়নি শামিল হুসেইনেরও। দলটায় পরিবর্তন তিনটি। মোহাম্মদ ওয়াসিমের জায়গায় এসেছেন আবরার আহমেদ। অভিষেক হচ্ছে গাজী ঘোরি ও সাদ মাসুদের। বাংলাদেশ অবশ্য পরিবর্তিত একাদশ নিয়েই মাঠে নেমেছে।
তৃতীয় ওয়ানডের সংক্ষিপ্ত স্কোর:বাংলাদেশ ৫০ ওভারে ২৯০/৫ (আফিফ ৫*, হৃদয় ৪৮*; সাইফ ৩৬, শান্ত ২৭, তানজিদ ১০৭, লিটন ৪১, রিশাদ ০)
পাকিস্তান ৫০ ওভারে ২৭৯/১০ (আবরার ০*; ফারহান ৬, সাদাকাত ৬, রিজওয়ান ৪, ঘোরি ২৯, সামাদ ৩৪, সাদ ৩৮, ফাহিম ৯, সালমান ১০৬, রউফ ১, শাহীন ৩৭)
ফল: বাংলাদেশ ১১ রানে জয়ী।
সিরিজ- বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জয়ী।
ম্যাচ ও সিরিজসেরা: তানজিদ হাসান।
বাংলাদেশ একাদশ: সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান, তাওহীদ হৃদয়, নাজমুল হোসেন, লিটন দাস (উইকেটকিপার), আফিফ হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা ও মোস্তাফিজুর রহমান।
পাকিস্তান একাদশ: সাহেবজাদা ফারহান, মাজ সাদাকাত, গাজী ঘোরি, মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেটকিপার), সালমান আগা, আব্দুল সামাদ, সাদ মাসুদ, ফাহিম আশরাফ, শাহীন আফ্রিদি (অধিনায়ক), আবরার আহমেদ, হারিস রউফ।
আলোকিত প্রতিদিন /১৬ মার্চ ২০২৬ /মওম

