আজ বুধবার, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ।   ১১ মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সরাইলে ৯ বছর যাবত, একই কর্মস্থলে থেকে দুর্নীতি*র ইতিহাস করেছেন কায়সার আলম

আরো খবর

শওকত আলী, ক্রাইম রিপোর্টার: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে কর্মরত উপ-সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাইসার আলম এর বিরুদ্ধে সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির কোটি টাকার মালিক খেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছেন। এছাড়াও চাকুরি বিধি অনুযায়ী ৩ বছর পর পর বদলীর নিয়ম থাকলেও একই কর্মস্থলে দীর্ঘ প্রায় ৯ বছর ধরে চাকুরি করছেন কাইসার আলম। জনমনে প্রশ্ন একই কর্মস্থলে থাকার নেপথ্যে রহস্য কি ?

তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে জানা যায়, জেলা প্রশাসন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রায় ২ যুগ পূর্বে এম এল এস পদে যোগ দিয়ে ছিলেন আশুগঞ্জ উপজেলার আন্দিদিল গ্রামের এক কৃষকের ছেলে কাইসার আলম,, গত ২০১৭ সালে যোগদান করেন সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে,,গত ২০২৪ সালে পদোন্নতি পেয়ে অফিস সহকারী থেকে হয়েছেন ১৫ গ্রেডের উপ-সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা। কিন্তু বদল হয়নি একই কর্মস্থল,,একই কার্যালয়ে দুই-চার বছর নয় দীর্ঘ ৯ বছর ধরে একই কর্মস্থলে বহাল আছেন তিনি।

দীর্ঘ ৯ বছর যাবৎ একাধারে সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয়ে চাকরির সুবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের মধ্যপাড়াস্থ অভিজাত এলাকায় নিজের নামে এবং স্ত্রীর নামে ক্রয় করেছেন আলিশান ফ্ল্যাট, নামিদামি আসবাবপত্র, চোখ ধাঁধানো পাথরের কারুকাজ; কী নেই সেখানে! দীর্ঘ ২৮ বছরের চাকরির জীবনে এই ‘সোনার হরিণ’ পেয়ে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে,, বিপুল সম্পদ তিনি অর্জন করেন,জলমহাল ইজারা, হাটবাজার ইজারা এবং ১% তহবিলে অর্থ ছাড় করণসহ নানান দাপ্তরিক নথি অনুমোদন করার ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে।

অভিযোগ রয়েছে, কাইসার আলম প্রতি মাসে ৩৩ হাজার টাকার বেতন পেয়েও তাঁর পরিবারে প্রতি মাসে খরচ প্রায় লক্ষাধিক টাকা,, এক মেয়েকে পড়াশুনা করাচ্ছেন রাজধানীর ১ম শ্রেণির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ও এক ছেলের পিছনে খরচ প্রতি মাসে প্রায় ৪০ হাজার টাকার মতন,,সম্প্রতি সরাইল উপজেলা পরিষদের মালিকানাধীন পুকুরের মাছ রাতের আধাঁরে বিক্রি করার মূল তিন কারিগরের মধ্যে তিনি ও একজন,,সরাইলবাসী চায় তার অজ্ঞাত আয় বহির্ভুত আয় ও দুর্নীতির তদন্ত হোক দুদকের মাধ্যমে।

সরাইলের স্থানীয় সাধারণ জনগণ এর একজন নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক,বলেন, তিনি একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারি হয়ে একই কর্মস্থলে দীর্ঘ ৯ বছর থাকার নেপথ্যে রহস্য কারন কি,যা দুদক কিংবা গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করলে অজানা বহু তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন সুশীল সমাজের অনেকেই,,তাই তার বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত প্রয়োজন জরুরী হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই ।

এ বিষয়ে উপ-সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাইসার আলম সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে নারাজ,, ব্রাহ্মণবাড়িয়া আপনার দুটি ফ্ল্যাট আছে বলতেই তিনি বলেন, আমার সাথে যারা চাকরি করে তারা ২/৩ টা বাড়ি গাড়ি হয়েছে, আমি শুধু একটা ফ্ল্যাটের মালিক,, আমি ও আমার স্ত্রী চাকরি করে মাসে লাখ টাকা ইনকাম করি,,আমার এক ছেলে ও এক মেয়ে আছে।

সূত্রে আরো জানা যায়, সরাইলের ৪১ টা ইট ভাটার ম্যানেজার ও মালিকের বরাত দিয়ে জানা যায়। প্রত্যেক রাষ্ট্রীয় প্রোগ্রামে যেমন স্বাধীনতা দিবস ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৬ই ডিসেম্বর ও আরো অনেক রাষ্ট্রীয় প্রোগ্রামের নাম দিয়ে এই ইট ভাটা গুলো থেকে কমপক্ষে পঞ্চাশ হাজার টাকা করে চাদা কালেকশন করে আসছে বিগত ৯ বছর যাবৎ।

যেখানে এসব প্রোগ্রামে রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ থাকে তারপরও সে এই টাকা গুলো কালেকশন করে থাকেন। তার এত দুর্নীতির পরও কেন সে একই জায়গায় বহাল আছেন ৯ বছর তার পিছনে শক্তি কি।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

- Advertisement -
- Advertisement -