নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা বিতরণে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এখন থেকে উপবৃত্তির টাকা সরাসরি শিক্ষার্থীর মায়ের নামে নিবন্ধিত মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে।
নতুন পদক্ষেপ বা নির্দেশিকা অনুযায়ী, ডিজিটাল পদ্ধতিতে জিটুপি (G2P) প্রক্রিয়ায় মায়েদের হাতে এই টাকা পৌঁছে দেওয়া হবে। তবে মায়ের অনুপস্থিতিতে বাবা অথবা বৈধ অভিভাবক এই সুবিধা পাবেন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিটিআই সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয় ও শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট পরিচালিত বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই উপবৃত্তির আওতায় আসবে। একটি পরিবারের সর্বোচ্চ দুইজন শিক্ষার্থী এই সুবিধা পাবে, যা দিয়ে তারা স্কুল ব্যাগ, ড্রেস, জুতা ও টিফিন বক্সসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ ক্রয় করতে পারবে।
সোমবার (৯ মার্চ) প্রাথমিক এবং গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রম বাস্তবায়ন নির্দেশিকা, ২০২৬ জারি করে এই নতুন নিয়ম ঘোষণা করেছে।
নতুন নিয়মে উপবৃত্তির হারও পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির শিক্ষার্থীরা মাসে ৭৫ টাকা ও প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ১৫০ টাকা করে পাবে। একই পরিবারের দুইজন শিক্ষার্থী থাকলে তারা ৩০০ টাকা পাবে। এছাড়া যেসব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি চালু আছে, সেখানকার শিক্ষার্থীরা মাসে ২০০ টাকা এবং একই পরিবারের দুইজন হলে ৪০০ টাকা হারে উপবৃত্তি পাবে।
উপবৃত্তি সচল রাখতে শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু শর্তারোপ করা হয়েছে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে মাসে অন্তত ৮০ শতাংশ দিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকতে হবে। এছাড়া বার্ষিক পরীক্ষায় ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে (বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য ৩৩ শতাংশ)। কোনো শিক্ষার্থী টানা তিন মাস অনুপস্থিত থাকলে তার উপবৃত্তি সাময়িকভাবে স্থগিত হয়ে যাবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ রাখতে ডিজিটাল তদারকি করবে। অর্থ বিতরণ প্রক্রিয়ায় কোনো প্রকার অনিয়ম হলে প্রচলিত আইনে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে ।
আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

