মোঃ আনোয়ার হোসেন:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীবগরের বিভিন্ন স্থানে পরিবশের জন্য ক্ষতিকর দ্রুত বর্ধনশীল ইউক্যালিপটাস গাছ রোপন বন্ধ হয়নি। এ গাছ পরিবেশের জন্য হুমকি স্বরূপ, পানির স্তর নিচে নামিয়ে দেয়। এতে পরিবেশের বিপষয়ের আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদরা। সাধারণত স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা, বসতবাড়ি, অফিস প্রাঙ্গন , রাস্তার দু’ধারে এ গাছ দেখতে পাওয়া যায়। জানা যায়- ২০০৮ সালে সরকারের বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে দেশে ইউক্যালিপটাস পাছের চারা উৎপাদন নিষিদ্ধ করে। উল্লেখ্য এ গাছটিকে কেনিয়া, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকায় ইতিমধ্যে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এটি কাঠ উৎপাদনকারী গাছ, যা প্রকৃতিগত ভাবে অস্ট্রেলিয়ায় পাওয়া যায়। বৈজ্ঞানিক ভাষায় এই গাছকে ডাকা হয় “ইউক্যালিপটাস ওবলিকোয়া” হিসেবে। সারা বিশ্বে ইউক্যালিপটাসের প্রায় ৭০০ প্রজাতি আছে। এই গাছ থেকে- কিনো, তেল ও ট্যানিন পাওয়া যায়। বেশ কিছু ইউক্যালিপটাসের প্রজাতিকে গাম নিঃস্বরণের কারণে গাম ট্রি নামেও অভিহিত করা হয়। গাছটির মূল মাটির ১৫ মিটার পর্যন্ত গভীরে যায়। ভূ-গর্ভের প্রায় ৫০ ফুট নিচের এবং আশে পাশের প্রায় ১০ ফুট এলাকার পানি শোষণ করে। ফলে মাটিতে পানি শূন্যতা দেখা দেয়। এ গাছ অতিরিক্ত পানি শুষে ডাল-পালায় জমা রাখে। ফলে যে স্থানে এ গাছ লাগানো হয়, সে স্থানটি হয়ে পড়ে পানি শূন্য, কমে যায় মাটির উর্বরতা শক্তি। ফলে অনান্য প্রজাতির গাছের স্বাভাবিকতা নষ্ট হয়ে পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ে। এ সব ক্ষতিকর দিক জানার পর উপজেলার নানা স্থানে এই গাছ লাগানো চলছে। সুর সম্রট আলাউদ্দিন খাঁ ডিগ্রি কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক জানান- “এই গাছের পাতায় এক ধরণের অ্যান্টিসেপটিক থাকায় এর নিচে ছোট গাছ বাড়তে পারে না। পোকা-মাকড় ও মারা যায়”। নবীনগর উপজেলা কৃষি অফিসার জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান- “ইউক্যালিপটাস ও আকাশমনি গাছের ক্ষতিকর প্রভাব অনেক, মাটি থেকে অতিরিক্ত পানি শোষণ করে, যা মাটির আর্দ্রতা কমিয়ে দেয় এবং শুষ্ক এলাকায় ক্ষতির কারণ হতে পারে। এ গাছের পাতা ও অন্যান্য অংশ থেকে নিঃসৃত বিষাক্ত পদার্থ মাটিতে মিশে উর্বরতা নষ্ট করে। ফলে এ গাছের আশে-পাশে অন্যান্য উদ্ভিদ জন্মাতে সমস্যা হয়। পোকা-মাকড় এবং পাখিদের আবাসস্থল হিসেবেও এই গাছ উপযুক্ত নয়”। তাই সরকার এ গাছের উৎপাদন নিষিদ্ধ করেছে।
আলোকিত প্রতিদিন /০৪ মার্চ ২০২৬ /মওম

