বাণিজ্যিক চাষাবাদ বাড়ছে
কৃষকের নতুন আশা সূর্যমুখী
যমুনার বালুচর আবাদের আওতায়
সাইফুল ইসলাম সবুজ:
ধু ধু যমুনার বুকে সূর্যমুখী যেন এক টুকরো বন্দি রোদ। ভোরের শিশিরভেজা ঘাসে যখন সূর্যের প্রথম পরশ লাগে তখন এই হেমন্ত-বসন্তের সোনালি অলঙ্কারগুলো যেন প্রেমের এক চিরন্তন সংলাপে মেতে ওঠে। সূর্যমুখীর প্রতিটি পাপড়ি যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা এক একটি স্বপ্ন- যা কেবল আলোর তৃষ্ণায় চাতক পাখির মতো আকাশের পানে চেয়ে থাকে। যমুনার
বিস্তীর্ণ তীর-মাঠজুড়ে এখন এমনই হলুদের আভা। দিগন্তজুড়ে বড় বড় থালার মতো সূর্যমুখী ফুল বাতাসের তালে দুলছে। ভোরের স্নিগ্ধ আলো যখন এসব ফুলের ওপর পড়ে, তখন চারপাশ যেন এক মায়াবী রূপ ধারণ করে। ভোরের আলো ফুটতেই যমুনা নদীর বাম তীরে টাঙ্গাইল অংশে ঝলমল করে উঠে সূর্যমুখী ফুলের সোনালি হাসি। সবুজ পাতার আড়াল ভেদ করে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা ফুলগুলো যেন সূর্যের দিকে তাকিয়ে নতুন দিনকে অভিবাদন জানায়। ধু ধু বেলে-দোআশ
নদীতীরের বিস্তৃত এই হলদে আভা প্রকৃতির শোভা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে টাঙ্গাইলের কৃষকদের চোখেমুখে ফুটিয়ে তুলেছে সচ্ছলতার স্বপ্ন। শুধু সৌন্দর্য নয়, সূর্যমুখী এখন এ অঞ্চলের কৃষকদের জন্য হয়ে উঠেছে বাড়তি আয়ের এক নতুন আশার নাম। ফলে জেলায় দিন দিন সূর্যমুখীর চাষাবাদ বাড়ছে। টাঙ্গাইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে জেলার ১২টি উপজেলায় মোট ১৭৮ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করা হয়েছে। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ৪৫ হেক্টর,
বাসাইলে ৪৬ হেক্টর, কালিহাতীতে ৮ হেক্টর, ঘাটাইলে ১০ হেক্টর, নাগরপুরে ১০ হেক্টর, মির্জাপুরে ১০ হেক্টর, মধুপুরে ১৪ হেক্টর, ভূঞাপুরে ৫ হেক্টর, গোপালপুরে ৫ হেক্টর, সখীপুরে ৩ হেক্টর, দেলদুয়ারে ২০ হেক্টর এবং ধনবাড়ী উপজেলায় ২ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে টাঙ্গাইল জেলায় সূর্যমুখীর বাম্পার ফলন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং কৃষি বিভাগের যথাযথ সহযোগিতায় এবারে জেলার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন উপজেলায় এই তৈলবীজ চাষে
নীরব বিপ্লব ঘটেছে। গত বছরের চেয়ে এবার ৮-১০ হেক্টর বেশি জমিতে সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে। সখের সূর্যমুখী এখন বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদের মর্যাদা পেয়েছে। দিগন্তজোড়া হলুদ ফুলের সমারোহ দেখতে যেমন ছাত্র-ছাত্রী, প্রেমিক-প্রেমিকাসহ নানা বয়সী দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন, তেমনি লাভের অংক কষতে শুরু করেছেন কৃষকরা। সূত্রমতে, টাঙ্গাইলের চরাঞ্চলের বিশাল এলাকা একসময় অনাবাদি পড়ে থাকত, সেখানে এখন সূর্যমুখীর চাষ হচ্ছে। কৃষি বিভাগ মনে করছে, যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে তবে আগামি কয়েক বছরে জেলায় সূর্যমুখী চাষের পরিধি কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে। যমুনার পাড়ে এখন কেবল ফুল নয়, ফুটছে কৃষকের ভাগ্য। সবুজ প্রকৃতি আর হলুদের মিতালীতে টাঙ্গাইলের মাঠ এখন এক অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি। সেই সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক সফল কৃষি অর্থনীতির গল্প। সূর্যমুখীর এই সোনালি হাসি টাঙ্গাইলের কৃষকের জীবনে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য নিয়ে এসেছে।
আলোকিত প্রতিদিন /০৩মার্চ ২০২৬ / এম আর এম

