আজ সোমবার, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ।   ২ মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিলো ইরান, চাপের মুখে বাংলাদেশ

আরো খবর

আলোকিত প্রতিবেদক:

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার প্রতিবাদে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান। শনিবার তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে চালানো হামলার পর এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি)। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা ও তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেভাল মিশন ‘এসপাইডেস’-এর একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা না দিলেও আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো বাণিজ্যিক বা যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না। এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে জাহাজগুলোকে ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিপ্লবী গার্ড। ওমান উপসাগর ও আরব সাগরকে যুক্ত করা এই সামুদ্রিক পথটি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। বিশ্বের অন্যতম বড় তেল উৎপাদনকারী দেশ সৌদি আরব, ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এই পথটি ব্যবহার করেই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ করে থাকে। এই রুটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানি কার্যত স্থবির হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তেহরান যদি দীর্ঘ সময় এই পথটি বন্ধ রাখে, তবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার পর্যন্ত ছাড়িয়ে যেতে পারে। ভারতের একটি সিকিউরিটিজ প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি সরবরাহের প্রধান এই পথটি বন্ধ হওয়া মানে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগা। এদিকে, খামেনির মৃত্যুতে ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও সাত দিনের সরকারি ছুটি চলছে। । সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালি বন্ধের এই সিদ্ধান্ত বিশ্বরাজনীতি ও অর্থনীতিতে এক নজিরবিহীন সংকটের জন্ম দিয়েছে।

বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশই আমদানিনির্ভর। এর বড় অংশই তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও এলপিজি, যা মূলত কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান থেকে আমদানি করা হয়। সমুদ্রপথে এসব জ্বালানি দেশে আনতে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করা হয়, যা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি রুট।

রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌ মিশন অ্যাসপিডসের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ইরানের বিপ্লবী গার্ডের পক্ষ থেকে জাহাজগুলোকে ভিএইচএফ বার্তার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম না করার সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন/০১মার্চ ২০২৬/মওম

- Advertisement -
- Advertisement -