আজ সোমবার, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ।   ২ মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

খামেনিকে হ/ত্যা মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে সরাসরি যু/দ্ধ ঘোষণা

আরো খবর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যাকাণ্ড যেন ‘মুসলিমদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা’। রোববার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে এমন মন্তব্য করেছেন তিনি। এ সময় খামেনিকে হত্যার ভয়াবহ প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার ক ইরানের প্রেসিডেন্ট।

পেজেশকিয়ান বলেন, ‘‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ ও বিশ্বজুড়ে শিয়া সম্প্রদায়ের একজন বিশিষ্ট নেতাকে হত্যা করা এটা যেন বিশ্বের সব প্রান্তের মুসলিম, বিশেষ করে শিয়াদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুদ্ধের ঘোষণা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। পেজেশকিয়ান বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এই ঐতিহাসিক অপরাধের পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়াকে তার বৈধ দায়িত্ব ও অধিকার বলে মনে করে।

যেভাবে হত্যা করা হয় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে:
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল শনিবার ভোরের দিকে তেহরানে যৌথ অভিযান চালিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করেছে। মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের শেষ মুহূর্তের তথ্যের ভিত্তিতে তেহরানে উচ্চপর্যায়ের অত্যন্ত গোপনীয় এক বৈঠক চলাকালীন ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অত্যান্ত গোপনীয় এবং সুরক্ষিত কক্ষে বৈঠকের সময় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের নিখুঁত হামলা ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীকে সেই সময় পুরোপুরি পর্যুদস্ত করে দেয়। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল শুরুতে রাতের দিকে ইরানে হামলার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু ইসরায়েলি গোয়েন্দারা জানতে পারেন, খামেনির নির্ধারিত বৈঠকটি সন্ধ্যার পরিবর্তে শনিবার সকালেই শুরু হয়েছে। গোয়েন্দাদের এই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হয়।

মার্কিন সূত্র বলেছে, শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে খামেনির বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই মার্কিন-ইসরায়েলের যৌথ বিমান ও নৌ হামলা শুরু হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে লক্ষ্য করে হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কারণ সময় পেলে তিনি আত্মগোপনে যেতে পারেন; এমন ধারণা ছিল মার্কিন গোয়েন্দাদের।

ইরানি দুটি নিরাপত্তা সূত্র বলেছে, হামলার কিছুক্ষণ আগেই ইরানের সর্বোচ্চ এই নেতা দেশটির প্রতিরক্ষা পরিষদের সেক্রেটারি আলী শামখানি এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলী লারিজানির সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন।

ইসরায়েলি সময় ভোর ৬টায় শুরু হওয়া এই অভিযানে ইসরায়েলের এবং যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান তেহরানে পৌঁছাতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লাগে। সকাল ৯ টা ৪০ মিনিটের দিকে খামেনির ব্যাপক নিরাপত্তা বেষ্টিত ভবনে ৩০টি বোমা ফেলে তা পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, খামেনির অবস্থান শনাক্ত করতে মার্কিন ট্র্যাকিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছিল। এই হামলায় তাকেসহ অন্য ইরানি নেতাদের হত্যা করা হয়েছে। খামেনির মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেন ইসরায়েলের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা।

আলোকিত প্রতিদিন/০১মার্চ ২০২৬/ এম আর এম

- Advertisement -
- Advertisement -