আজ রবিবার, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ।   ১ মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিক্ষার্থীদের আ*ত্ম*হ*ত্যার প্রবণতা উ*দ্বেগজনকভাবে বেড়েছে

আরো খবর

আলোকিত ডেস্ক:

উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার প্রবণতা। ২০২৫ সালে সারাদেশে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার মোট ৪০৩ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। হতাশা ও অভিমান থেকেই আত্নহত্যার পথ বেছে নেয় শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরী। দেশের ১৬৫টি স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত আত্মহত্যা সংক্রান্ত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এ সমীক্ষা প্রকাশ করা হয়।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক সংগঠন আঁচল ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

জরিপের ফলে দেখা গেছে, ৪০৩ জন আত্মহননকারী শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৯০ জনই স্কুল পর্যায়ের। যা মোট ঘটনার ৪৭ দশমিক ৪০ শতাংশ। কলেজ পর্যায়ে ৯২ জন (২২.৮ শতাংশ), বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৭ জন (১৯.১০ শতাংশ) এবং মাদ্রাসায় ৪৪ জন (১০.৭২ শতাংশ) শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, কৈশোরের সূচনালগ্নে আবেগীয় অস্থিরতা, পরিচয় সংকট এবং একাডেমিক চাপ শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি:
লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণ থেকে জানা যায়, আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে ২৪৯ জন (৬১.৮ শতাংশ) নারী এবং ১৫৪ জন (৩৮.২ শতাংশ) পুরুষ। স্কুল পর্যায়ে ১৩৯ জন নারী এবং ৫১ জন পুরুষ, কলেজে ৫০ জন নারী এবং ৪২ জন পুরুষ আত্মহত্যা করেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ৪১ জন পুরুষের বিপরীতে ৩৬ জন নারী শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। বিশ্লেষণে বলা হয়, কৈশোরে মেয়েরা পারিবারিক ও সামাজিক চাপ, সম্পর্কগত টানাপড়েন এবং আবেগীয় সংকটে বেশি ভঙ্গুর হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পুরুষ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা ও কর্মসংস্থান সংকট বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

হতাশা ও অভিমান প্রধান কারণ:
কারণভিত্তিক বিশ্লেষণ করে জানা যায়, হতাশা ২৭.৭৯ শতাংশ এবং অভিমান ২৩.৩২ শতাংশ ঘটনার পেছনে দায়ী। হতাশাজনিত আত্মহত্যার ক্ষেত্রে নারী ৬২ জন (৫৫.৩৫ শতাংশ) এবং পুরুষ ৫০ জন (৪৪.৬৫ শতাংশ)। অভিমানে আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে নারী ৫৮ জন (৬১.৭০ শতাংশ) ও পুরুষ ৩৬ জন (৩৮.২৯ শতাংশ)।

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের বিশ্লেষণ:
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ৭৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪৪ জন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের, ১৭ জন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের, ৬ জন মেডিকেল কলেজের এবং ১০ জন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষার্থী।প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে হতাশার হার বেশি—৪৭.০৫ শতাংশ। এছাড়া অভিমান (১৭.৬৭ শতাংশ), পারিবারিক টানাপড়েন (১১.৭৬ শতাংশ) ও প্রেমঘটিত কারণ (৫.৮৮ শতাংশ) আত্মহত্যার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আত্মহত্যার ক্ষেত্রে হতাশা (৩৬.৩৬ শতাংশ) এবং প্রেমঘটিত কারণ (২৯.৫৪ শতাংশ) উল্লেখযোগ্য। মানসিক অস্থিরতা দায়ী ১৮.১৮ শতাংশ ক্ষেত্রে।

বিভাগভিত্তিক পরিস্থিতি:
ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ১১৮ জন (২৯.২৪ শতাংশ) শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। চট্টগ্রামে ৬৩ জন (১৫.৬৩ শতাংশ), বরিশালে ৫৭ জন (১৪.৪ শতাংশ) এবং রাজশাহীতে ৫০ জন (১২.৪০ শতাংশ)।সমীক্ষায় বলা হয়, এটি কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের সমস্যা নয়; বরং জাতীয় পর্যায়ে বিস্তৃত এক সামাজিক সংকট।

বয়সভিত্তিক চিত্র সবচেয়ে উদ্বেগজনক:
১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার ৬৬.৫০ শতাংশ। এদের মধ্যে ১৯০ জন নারী ও ৭৮ জন পুরুষ। ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার ২২.৬ শতাংশ; যেখানে পুরুষ ৫১ জন এবং নারী ৪০ জন। ১ থেকে ১২ বছর বয়সী ৪৪ জন শিশুর আত্মহত্যা সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

কাঠামোগত পরিবর্তনের আহ্বান:
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, পরিবারে খোলামেলা যোগাযোগের অভাব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পেশাদার কাউন্সেলিং ব্যবস্থার ঘাটতি এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সামাজিক অজ্ঞতা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।

আলোকিত প্রতিদিন/ এম আর এম

- Advertisement -
- Advertisement -