আজ রবিবার, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ।   ১ মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ডিজিটাল অগ্রযাত্রার এক যুগ পেরিয়ে ১৩ বছরে জুড়ী অনলাইন প্রেসক্লাব 

আরো খবর

সীমান্ত জনপদ থেকে শক্ত ভিত্তির গল্প…
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, জুড়ী, সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা জুড়ী উপজেলা। ভৌগোলিক ভাবে দূরবর্তী হলেও তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তারে পিছিয়ে থাকেনি এই জনপদ। সময়ের দাবি এবং ডিজিটাল রূপান্তরের ধারায় এখানেই আত্মপ্রকাশ ঘটে এক ব্যতিক্রমী সাংবাদিক সংগঠনের—জুড়ী অনলাইন প্রেসক্লাব।

২০১৩ সালের জানুয়ারির প্রথমার্ধে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হলেও একই বছরের মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে গঠিত হয় প্রথম আহ্বায়ক কমিটি। জুড়ী প্রেসক্লাব (১৯৯৮)-এর সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ফ্রিল্যান্স ক্রাইম জার্নালিস্ট এস. এম. জালাল উদ্দীনকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি দায়িত্ব নেয়। যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে ছিলেন নাজমুন নাহার হোছনা, আব্দুর রহমান শাহীন ও জাকির হোসেন মনির।

প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপটঃ দেশজুড়ে যখন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার পাশাপাশি অনলাইন সাংবাদিকতার প্রসার দ্রুত বাড়ছিল, তখন জুড়ীতেও স্থানীয় সংবাদকে দ্রুত, নির্ভুল ও সহজপ্রাপ্যভাবে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তীব্র হয়ে ওঠে। তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর সংবাদ পরিবেশনা এবং তরুণ সাংবাদিকদের জন্য একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরির লক্ষ্য নিয়েই গড়ে ওঠে জুড়ী অনলাইন প্রেসক্লাব। শুরুর দিকে সীমিত সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও সংগঠনটি ধীরে ধীরে সুসংগঠিত কাঠামো পায়। অনলাইনভিত্তিক সংবাদকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চা প্রতিষ্ঠা করাই ছিল মূল লক্ষ্য।

এক যুগের পথচলাঃ আহ্বায়ক কমিটি ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে সংগঠনকে একটি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করায়। প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ সংবাদকর্মী তৈরি এবং অনলাইন সংবাদ পরিবেশনায় মানোন্নয়নের মাধ্যমে সংগঠনটি জুড়ীর সংবাদ অঙ্গনে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান তৈরি করে। ২০১৭ সালে গঠিত হয় প্রথম পূর্ণাঙ্গ কমিটি। ২০১৭-২০১৯ মেয়াদে সভাপতি ছিলেন এস. এম. জালাল উদ্দীন এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান শাহীন। পরবর্তীতে ২০২০-২০২২ মেয়াদের নির্বাচনে আবারও সভাপতি নির্বাচিত হন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এস. এম. জালাল উদ্দীন এবং সাধারণ সম্পাদক হন হাবিবুর রহমান খান। ২০১৩ সালে শোভাযাত্রার মাধ্যমে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা এখন দীর্ঘ এক যুগ পেরিয়ে ১৩ বছরে পদার্পণ করতে যাচ্ছে। সীমান্তবর্তী একটি উপজেলায় বসে ডিজিটাল সাংবাদিকতার এমন ধারাবাহিক অগ্রযাত্রা নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য।

লক্ষ্য, আদর্শ ও কার্যক্রমঃ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সংগঠনটি বস্তুনিষ্ঠ, তথ্যনির্ভর ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। গুজব ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া, তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ এবং স্থানীয় সমস্যা বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরা তাদের অঙ্গীকারের অংশ।

ডিজিটাল নিরাপত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি দক্ষতা ও নৈতিক সাংবাদিকতা বিষয়ে সদস্যদের সচেতন করতে নিয়মিত সভা, মতবিনিময় ও প্রশিক্ষণমূলক আয়োজন করা হয়েছে। জাতীয় দিবস পালন, আলোচনা সভা, স্মরণানুষ্ঠান, সংবাদ সম্মেলন এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ সংগঠনটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। জুড়ীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, সীমান্ত, কৃষি ও পরিবেশসংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যু অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ধারাবাহিক ভাবে তুলে ধরেছেন সংগঠনের সদস্যরা। তরুণ সাংবাদিকদের দিকনির্দেশনা ও সমন্বয় সভার মাধ্যমে একটি সহযোগিতামূলক পরিবেশও গড়ে উঠেছে। সামাজিক দায়বদ্ধতাঃ সংবাদ পরিবেশনার পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও সংগঠনটি সক্রিয়। দুর্যোগকালীন ত্রাণ সহায়তা, অসুস্থ সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়ানো এবং বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জুড়ী অনলাইন প্রেসক্লাব নিজেকে একটি দায়িত্বশীল সামাজিক সংগঠন হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে।

সামনে যে স্বপ্নঃ বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভিত্তিক সংবাদ প্রচার, লাইভ আপডেট ও তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন তৈরিতে সংগঠনটির ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। ভবিষ্যতে একটি স্থায়ী কার্যালয় প্রতিষ্ঠা, নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন এবং আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এক সময়ের ছোট্ট উদ্যোগ আজ এক যুগের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ। ঐক্য, নিষ্ঠা ও পেশাদার মনোভাবের সমন্বয়ে জুড়ী অনলাইন প্রেসক্লাব সীমান্ত জনপদে ডিজিটাল সাংবাদিকতার একটি শক্ত ভিত্তি গড়ে তুলেছে। আগামী দিনে এই অগ্রযাত্রা আরও বিস্তৃত হবে, এমন প্রত্যাশাই জুড়ীর সংবাদকর্মীদের।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

- Advertisement -
- Advertisement -