আজ শুক্রবার, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ।   ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিবালয়ে শহীদ জিয়ার স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক কাশাদহ খাল খনন প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন এমপি জিন্নাহ কবির

আরো খবর

​সৈয়দ এনামুল হুদা : ​মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ‘কাশাদহ পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর আওতাধীন বোরো সেচ প্রকল্পের খাল খনন কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই খনন কাজের উদ্বোধন করেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এস.এ. জিন্নাহ কবির।

​উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এস.এ. জিন্নাহ কবির বলেন, “এই কাশাদহ খাল বাংলাদেশের কৃষি ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ১৯৭৯ সালের ১ ডিসেম্বর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচির শুভ সূচনা করেছিলেন এই কাশাদহ খালের মাধ্যমেই। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, কালের বিবর্তনে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক প্রকল্প অবহেলার শিকার হয়েছে। বোরো আবাদ ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ধরণের সেচ প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি।”

​অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন -শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিষা রানী কর্মকার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল নাঈম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া তরফদার, উপজেলা প্রকৌশলী মিজানুর রহমান, পিআইও তাহমিনা আক্তার চৌধুরী, মানিকগঞ্জ জেলা যুবদলের আহবায়ক কাজী মুস্তাক হোসেন দীপু, উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং কাশাদহ পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো: আওরঙ্গজেব সহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালের পশ্চিম পয়েন্টে আরিচা ঘাটের দক্ষিণে ছোট আনুলিয়া গ্রাম সংলগ্ন যমুনা নদীতে এ বছর বিশাল চর জেগে উঠেছে। ফলে যমুনা নদী থেকে সেচ প্রকল্পের জন্য পানি উত্তোলনে চরম অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এই সংকট নিরসনেই জরুরি ভিত্তিতে পলি অপসারণ ও খাল খনন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

​কাশাদহ পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি মো: শফিউদ্দিন খান জানান, এই প্রকল্পের আওতায় চলতি মৌসুমে প্রায় আড়াই হাজার একর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে যমুনার উৎস মুখে চর জেগে ওঠায় সময়মতো সেচ দেওয়া নিয়ে কৃষকদের মাঝে শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও জানান, যমুনার মূল প্রবাহ সচল না থাকলে পুরো মৌসুমে পানি সেচ বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ​

ঐতিহাসিক এই সেচ প্রকল্পটি পুনরায় সচল হওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মাঝে আশার আলো সঞ্চারিত হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ১৯৭৯ সালের ১ ডিসেম্বর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই কাশাদহ খাল খননের মাধ্যমেই সারা দেশে বিখ্যাত ‘খাল খনন কর্মসূচি’র শুভ সূচনা করেছিলেন। দীর্ঘ সময় পর এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সংকট নিরসনে আজ আবারও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

- Advertisement -
- Advertisement -