শহীদুল ইসলাম রুবেল, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি: নেত্রকোনা জেলায় এই প্রথম মগড়া নদীর ওপরে ২২ কোটি ২৫ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা ব্যয়ে দৃষ্টিনন্দন আর্চ আরসিসি ব্রীজের নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।নেত্রকোনা পৌর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ কামরুল হক বলেন, নেত্রকোনা মহকুমা ১৯৮৪ সালে জেলায় উন্নীত হওয়ার পর জেলা শহর সংলগ্ন রৌহা ইউনিয়নের রাস্তা ঘাটের তেমন উন্নয়ন না হওয়ায়
উক্ত ইউনিয়নের দক্ষিণাঞ্চলের লোকজনকে সারা বছর বিশেষ করে বর্ষাকালে খেয়া নৌকা আর শুকনা কালে বাঁশের নড়বড়ে সাঁকো দিয়ে জেলা শহরে যাতায়াত করতে হয়। এতে করে নৌকা ডুবে ও বাঁশের নড়বড়ে সাঁকো থেকে পড়ে গিয়ে একাধিক প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও এসব গ্রামের লোকজন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে কিংবা গর্ভবতী নারীদের ব্যাথা উঠলে তাদেরকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া অনেক কঠিন ও দুর্ভোগের কারন হয়ে দাড়াত। তাই রৌহা ইউনিয়নের জনগন যাতে সহজেই নেত্রকোনা জেলা শহরে যাতায়াত করতে পারে তার জন্য দীর্ঘ দিন যাবৎ নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সাকুয়া বাজার সংলগ্ন মগড়া নদীর ওপর একটি ব্রীজ নির্মাণের দাবী জানিয়ে আসছিল। নেত্রকোনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, জনগনের দাবীর প্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সাকুয়া বাজার সংলগ্ন মগড়া নদীর উপর একটি দৃষ্টিনন্দন ব্রীজ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। ২২ কোটি ২৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ব্রিজ নির্মাণের আহবান করা হলে মেসার্স হামিম ইন্টারন্যাশনাল নামক একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এই ব্রিজ নির্মাণের কাজ পায়। ব্রীজের দৈর্ঘ্য ৭৫.২০ মিটার আর ফুটপাতসহ প্রস্থ ৭.৩ মিটার। এর ব্রীজের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে মগড়া নদীর দুপাশে দুটি পিলার থাকলেও মাঝে কোনো পিলার থাকবে না। এই ব্রীজটি দেখতে অনেকটা অস্ট্রেলিয়ার সিডনি হারবারের আদলে তৈরি করা হবে।বিগত ২৪ সালের ৩ জুন কার্যাদেশ পাওয়ার পর ব্রীজের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। নেত্রকোনায় এই প্রথম মগড়া নদীর উপর দৃষ্টিনন্দন আর্চ আরসিসি ব্রীজের নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে।নেত্রকোনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান জানান, মগড়া নদীর উপর আর্চ আরসিসি ব্রীজের নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। আশা করছি, চলতি বছরের জুনের মধ্যে এই দৃষ্টিনন্দন ব্রীজের নির্মাণ কাজ শেষ হবে। উক্ত ব্রীজটি নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সাথে রৌহা ইউনিয়ন তথা সাতপাই রেলক্রসিং বাজারের যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত করা হবে। ব্রীজটি নির্মিত হলে রৌহা ইউনিয়নবাসীর অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাবে। ইউনিয়নবাসী সহজেই অল্প খরচে দ্রুততম সময়ে জেলা শহর, ময়মনসিংহ, রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের সাথে সব ধরনের যোগাযোগ রক্ষা করতে পারবে। অপরদিকে তাদের উৎপাদিত ফসল সহজে বাজারজাত করতে পারবে। এটি বিকল্প বাইপাস হিসেবে একদিকে জেলা শহরের যানজট নিরসন ও জনদুর্ভোগ বহুলাংশে কমে আসবে। অপরদিকে সারা জেলার সাথে বিশেষ করে বারহাট্টা, মোহনগঞ্জ, কলমাকান্দা, মধ্যনগর ও ধর্মপাশা উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি ঘটবে।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি
- Advertisement -

