আজ মঙ্গলবার, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ।   ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শেরপুরের ইতিহাসে জামায়াতে ইসলামীর প্রথম সংসদ সদস্য হলেন রাশেদুল ইসলাম

আরো খবর

মামুনুর রহমান:

শেরপুর-১ (সদর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে ইতিহাস গড়েছেন হাফেজ রাশেদুল ইসলাম। স্বাধীনতা উত্তর শেরপুর জেলার ইতিহাসে জামায়াতে ইসলামী থেকে তিনিই প্রথম সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।
রাশেদুল ইসলাম ১৯৯০ সালে শেরপুর সদরের বাজিতখিলা ইউনিয়নের কুমরী মুদিপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম আলহাজ মুহাম্মদ আবুল কাশেম ছিলেন একাধারে একজন শিক্ষাব্রতী, দ্বীনি জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব এবং বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে রাশেদুল ইসলাম সর্বকনিষ্ঠ; তবে মেধা ও যোগ্যতায় তিনি পরিবার ও সমাজের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। তাঁর ভাই-বোনেরা সবাই দ্বীনি ও সাধারণ উভয় শিক্ষায় উচ্চশিক্ষিত এবং শিক্ষকতা পেশার সাথে যুক্ত।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ২০২৩ সালে ডা. রুকাইয়া বিনতে সেলিমের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং বর্তমানে তিনি এক সন্তানের জনক।
হাফেজ রাশেদুল ইসলামের শিক্ষাজীবন দ্বীনি ও আধুনিক শিক্ষার এক অপূর্ব সমন্বয়। কুমরী কালিতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে তিনি কুমরী বাজিতখিলা মাদরাসা, ঘোনাপাড়া হাফেজিয়া মাদরাসা এবং ফারুকিয়া দারুসসালাম মাদরাসা থেকে পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করেন।
এরপর আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা থেকে দাখিল এবং ঢাকার প্রখ্যাত তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা থেকে আলিম পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগ থেকে বিএসসি (অনার্স) ও এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।
এছাড়াও শিক্ষা-পিপাসু এই নেতা কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রফেশনাল আইটি বিষয়ে ডিপ্লোমা এবং মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ ডিগ্রি লাভ করেন। একজন উচ্চশিক্ষিত হাফেজে কোরআনকে প্রতিনিধি হিসেবে পেয়ে শেরপুর-১ আসনের সাধারণ মানুষের মাঝে এখন নতুন আশার আলো সঞ্চার হয়েছে।
এদিকে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর জামায়াতে ইসলামীর নারী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় রাশেদুল ইসলাম বলেছেন,’এবারের নির্বাচনে মানুষ রায় দিয়েছে ন্যায় এবং ইনসাফের পক্ষে, আমরা ন্যায় এবং ইনসাফের পক্ষে রায় পেয়েছি। আমি ১ লাখ ২৭ হাজার ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছি, আমি শুধু ১ লাখ ২৭ হাজার ভোটারদের এমপি না, আমি এখন শেরপুর সদর আসনের সাড়ে ৪ লাখ ভোটারের এমপি।’
এমপি রাশেদুল ইসলাম আরো বলেন,শেরপুরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাস্তাঘাট, নারীদের নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা জোরদার করাসহ ইভটিজিং নির্মূল করা হবে। মাদক এবং জুয়ামুক্ত শেরপুর গড়ে তুলবো।
এমপি রাশেদুল ইসলাম বলেন, কুটিরশিল্প গড়ে তোলার মাধ্যমে নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে ।

আলোকিত প্রতিদিন/১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬/মওম

- Advertisement -
- Advertisement -