বিশেষ প্রতিনিধি: দুই-তৃতীয়াংশের কাছাকাছি আসনে জয় পেয়ে এককভাবে সরকার গঠনের অবস্থান নিশ্চিত করেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি। এর ফলে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানই হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।অন্যদিকে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে।
ঘোষিত ফল অনুযায়ী, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১০টি আসনে জয়লাভ করেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা ৭২টি আসনে জয়ী হয়েছেন। এছাড়াও অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয় পেয়েছেন। এর আগে বিএনপির পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, দল ক্ষমতায় গেলে চেয়ারম্যান তারেক রহমানই হবেন প্রধানমন্ত্রী। এবারের নির্বাচনে তিনি প্রথমবারের মতো অংশ নেন এবং ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ দুটি আসনেই জয় অর্জন করেন।
তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ১৯৮৮ সালে এরশাদ আমলে কাজী জাফর আহমেদ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এরপর ১৯৯০ সালের পর থেকে দেশে আর পুরুষ প্রধানমন্ত্রী দেখা যায়নি। দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সরকারপ্রধানের দায়িত্বে ছিলেন। এরপর ২০২৬ সালে আবারও পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এদিকে নির্বাচনী বিজয় উপলক্ষে কোনো ধরনের বিজয় মিছিল বা সভা-সমাবেশ না করার নির্দেশ দিয়েছে বিএনপি। দলটি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নিরঙ্কুশ জয়ের জন্য জুমার নামাজের পর সারাদেশে শুকরিয়া আদায় করে বিশেষ দোয়া করবে বিএনপি। পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়েও প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।
শেরপুর-৩ (ঝিনাইগাতী-শ্রীবরদী) আসনের নির্বাচন স্থগিত থাকায় এবার ২৯৯ আসনে মোট ২ হাজার ২৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন, স্বতন্ত্র ২৭৪ জন এবং নারী প্রার্থী ৮৩ জন। নারী প্রার্থীদের মধ্যে দলীয় ৬৩ এবং স্বতন্ত্র ২০ জন। এবার মোট ভোটার ছিল ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন। ১২৪টি দেশে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছিল।

