আজ বৃহস্পতিবার, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ।   ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির বিভক্তি, জমেছে ত্রিমুখী লড়াই

আরো খবর

মতিয়ার রহমান: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ ও সদরের আংশিক) আসনে নির্বাচনী উত্তাপ তুঙ্গে। প্রচারের নির্ধারিত সময়সীমা মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টায় শেষ হয়েছে। আর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি)। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রচার-প্রচারণা ও গণমিছিলে সরব ছিল পুরো এলাকা। এ আসনে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল লড়াই হবে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে—এমনটাই ধারণা করছেন ভোটাররা। বিশেষ করে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভাজন নির্বাচনের সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ঝিনাইদহ-৪ আসনটি সদর উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন, কালীগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। মোট ১২০টি ভোটকেন্দ্রে ভোট দেবেন ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৪৬১ জন ভোটার। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৫৬ জন, নারী ১ লাখ ৬৫ হাজার ২০০ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৫ জন। কারা লড়ছেন মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন—জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের আবু তালিব, বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের রাশেদ খান, স্বতন্ত্র (কাপ-পিরিচ) প্রতীকের সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের আব্দুল জলিল, জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীকের এমদাদুল ইসলাম, গণফোরামের উদীয়মান সূর্য প্রতীকের খনিয়া খানম, মিছিল-জনসভায় সরব কালীগঞ্জ প্রচার শেষের আগে টানা তিন দিন কালীগঞ্জ শহর ছিল মিছিল ও জনসমাবেশে মুখর। ৭ ফেব্রুয়ারি নলডাঙ্গা ভূষণ স্কুল মাঠে জামায়াতে ইসলামী জনসভা করে। ৮ ফেব্রুয়ারি একই স্থানে গণমিছিল ও সমাবেশ করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ।
৯ ফেব্রুয়ারি মাঠে জনসভা করেন বিএনপি প্রার্থী রাশেদ খান। তিন প্রার্থীর সমাবেশেই ছিল উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি, যা ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস দিচ্ছে। বিএনপির ভেতর বিভাজনই কি নির্ধারণ করবে ফল? এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে শুরু থেকেই ছিল জটিলতা। স্থানীয়ভাবে তিনজন মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকলেও দল মনোনয়ন দেয় রাশেদ খানকে। তিনি পূর্বে গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং মনোনয়ন পাওয়ার পর বিএনপিতে যোগ দেন। তবে তিনি এই আসনের বাসিন্দা নন—এ বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের বিএনপি নেতা ও এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম ফিরোজ মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। পরে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে স্থানীয় বিএনপির একটি বড় অংশ তার পক্ষে রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির ভোট দুই ভাগে বিভক্ত হলে তার সুবিধা পেতে পারেন জামায়াত প্রার্থী আবু তালিব। তিনি আগেও এ আসনে প্রার্থী ছিলেন এবং দলীয় ভোটব্যাংকের ওপর ভরসা রাখছেন। ভোটারদের প্রত্যাশা ভোটারদের বড় একটি অংশ সৎ, যোগ্য ও এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন—এমন প্রার্থীকে বেছে নিতে চান। তরুণ ভোটার শাহিনুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন পর ভোট দিতে পারছেন। তিনি উন্নয়নমুখী ও সৎ প্রার্থীকে ভোট দেবেন। মেহেদী হাসান নামের এক ভোটার জানান, তারা দুর্নীতিমুক্ত ও চাঁদাবাজিমুক্ত শাসন চান। ইজিবাইক চালক প্রদীপ কুমার বলেন, “সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকেই ভোট দেব, তবে এলাকার সন্তান হলে অগ্রাধিকার থাকবে।” সমীকরণে আরও কিছু বিষয় এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ না নেওয়ায় তাদের ভোট কোন দিকে যাবে, সেটিও বড় প্রশ্ন। পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটারদের ভোটও জয়-পরাজয়ে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভক্তি, জামায়াতের সংগঠিত ভোটব্যাংক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর স্থানীয় প্রভাব—এই তিন সমীকরণে জমে উঠেছে ত্রিমুখী লড়াই। এখন দেখার বিষয়, ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে শেষ হাসি কে হাসবে।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি 
- Advertisement -
- Advertisement -