সৈয়দ এনামুল হুদা:
আজ সকালবেলা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা। দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক প্রস্তুতি,বিতর্ক, প্রতিশ্রুতি এবং পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের পর দেশ এখন দাঁড়িয়ে আছে ভোটের দ্বারপ্রান্তে। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন শুধু একটি সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি দেশের গণতান্ত্রিক চর্চা, রাজনৈতিক পরিপক্বতা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় পৌনে ১৩ কোটির কাছাকাছি। এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা নারী ভোটারের তুলনায় সামান্য বেশি, যা বাংলাদেশের সামাজিক অগ্রযাত্রার একটি ইতিবাচক প্রতিফলন। তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্য, যাদের একটি বড় অংশ প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে যাচ্ছে। এই বিপুল ভোটার জনগোষ্ঠীই মূলত রাষ্ট্রক্ষমতার প্রকৃত মালিক। আজ সকাল বেলায় প্রচারণার সময় শেষ হয়েছে। সর্বশেষ যা দেখা গেছে; রাজনৈতিক দলগুলো উন্নয়ন, অর্থনীতি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান, সুশাসন ও সামাজিক নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে ভোটারদের প্রত্যাশা এখন আর কেবল প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ নেই। তারা চায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা, জবাবদিহিমূলক রাজনীতি এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের একটি নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য পরিবেশ। আজ সকালে প্রচারণা শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে রাজনীতি থেকে দায়িত্বের ভার আরও স্পষ্টভাবে চলে এসেছে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের ওপর। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা এখন সময়ের সবচাইতে বড় দাবি। একই সঙ্গে প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকেও প্রত্যাশা—তারা যেন নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলে এবং ফলাফল নিয়ে দায়িত্বশীল অবস্থান গ্রহণ করে। এই নির্বাচনে নারী ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। নারীদের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি কেবল সংখ্যাগত দিক থেকেই নয়, বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হওয়া উচিত। একইভাবে তরুণ ভোটারদের সচেতন অংশগ্রহণ ভবিষ্যৎ রাজনীতিকে আরও যুক্তিবাদী ও প্রশ্নমুখর করে তুলতে পারে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন তাই কেবল ক্ষমতার পালাবদলের প্রশ্ন নয়; এটি একটি আস্থার পরীক্ষা। জনগণের আস্থা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির উন্নয়নের পরীক্ষা। ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করাই হবে এই নির্বাচনের সার্থকতা। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত একটাই—ভোটারই শেষ কথা বলবে। তাদের রায়ই নির্ধারণ করবে আগামী দিনের সংসদ, সরকার এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক গতিপথ। সেই রায় যেন হয় স্বাধীন, সচেতন ও মর্যাদাপূর্ণ—এটাই এই সময়ের প্রত্যাশা।
লেখক: সৈয়দ এনামুল হুদা বিশেষ প্রতিনিধি দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন, ঢাকা।
- Advertisement -

