মোঃ আনোয়ার হোসেন:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের ফতেহপুর গ্রাম যেন আজ ও রাষ্ট্রীয় উন্নয়নের মানচিত্রের বাইরে। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এ গ্রামের মানুষের ভাগ্যে জোটেনি একটি ব্রিজ। উন্নয়নের জোয়ার, স্মার্ট বাংলাদেশ ও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রচারের আড়ালে চাপা পড়ে আছে বাস্তবতার এ নির্মম চিত্র। প্রায় সাত থেকে আট হাজার মানুষের প্রতিদিনের জীবনযাত্রা নির্ভর করছে একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোর ওপর। স্কুলগামী শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ, গর্ভবতী নারী, কৃষক, শ্রমজীবী এমনকি গুরুতর অসুস্থ রোগীদেরও এই সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়।
বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের এ সাঁকোটিতে উঠা আরও ভয়ংকর। পা পিছলে আহত হওয়ার ঘটনা নিত্য দিনের। অনেক সময় রোগীকে হাসপাতালে নিতে চরম দূর্ভোগে পড়তে হয়। গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দারা জানান-“তাদের জন্মের আগেও এই বাঁশের সাঁকো ছিল, আজও তাই রয়েছে। সময় বদলেছে, সরকার ও জনপ্রতিনিধি বদলেছে কিন্তু বদলায়নি ফতেহপুরবাসীর দুর্ভোগ।” এক শতবর্ষী বৃদ্ধ আক্ষেপ করে বলেন-“তিনি জীবদ্দশায় একটি পাকা ব্রিজ দেখার আশা ছেড়েই দিয়েছেন।”
গ্রামবাসীর অভিযোগ-“নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা গ্রামে এসে ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেয়। ভোট শেষ হলেই সেই প্রতিশ্রুতি হারিয়ে যায় নীরবতার অন্ধকারে।” তাদের প্রশ্ন- ভোট কি শুধু নেওয়ার জন্য, আর উন্নয়ন কি শুধু প্রতিশ্রুতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ?
ফতেহপুর গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন- তারা আর প্রতিশ্রুতি চাই না, তারা চাই তাদের চলাচলের জন্য ব্রিজের বাস্তবায়ন।
আলোকিত প্রতিদিন/০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬/মওম

