আজ সোমবার, ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ।   ১৬ মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করা হবে: তারেক রহমান

আরো খবর

বিশেষ প্রতিনিধি: বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, নারীদের আমরা ফ্যামিলি কার্ড করে দেবো, যাতে তারা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন। পাশাপাশি কৃষকদের কৃষিঋণ সুবিধাসহ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করা হবে।

শনিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা স্কুল মাঠে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দীর্ঘদিন পর ঠাকুরগাঁওয়ে আসার অনুভূতি ব্যক্ত করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, এক সময় প্রতি বছর শীতে আমি এখানে আসতাম। প্রতিটি উপজেলা ও গ্রামে গিয়ে শীতার্ত মানুষের কাছে গরম কাপড় পৌঁছে দিতাম। কিন্তু স্বৈরাচার সরকারের কারণে দীর্ঘদিন আমি এখানে আসতে পারিনি। এখন সময় এসেছে দেশ গঠনের। আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা দেশকে এগিয়ে নিতে চাই।

কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়ন প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, নারীদের পাশাপাশি কৃষক ভাইদেরও আমরা স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলবো। প্রত্যেক কৃষককে আমরা একটি করে কার্ড দেবো। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সহজে ঋণ ও সরকারি সারসহ অন্যান্য সুবিধা পাবেন। আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ জয়যুক্ত হলে আমরা সব কৃষকের ১০ হাজার টাকা মূল্যের কৃষি ঋণ মওকুফ করবো। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের ক্ষুদ্র ঋণও সরকারের পক্ষ থেকে শোধ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে তারা পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে পারেন।

ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় এলাকার মানুষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, এই এলাকা কৃষিপ্রধান। কৃষিকে এগিয়ে নিতে আমরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবো। পঞ্চগড়ের বন্ধ চিনিকলটি পুনরায় চালু করা হবে, এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। কৃষকরা যাতে তাদের পণ্য সংরক্ষণ করতে পারেন, সেজন্য হিমাগার (কোল্ড স্টোরেজ) নির্মাণ করা হবে। এছাড়া এলাকার তরুণদের উচ্চশিক্ষার সুবিধার্থে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখবো।

বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, এই এলাকায় অনেক শিক্ষিত যুবক বেকার রয়েছেন, তাদের জন্য আমরা বিশেষ ব্যবস্থা রাখবো। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দক্ষ শ্রমিক হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যাতে দেশে-বিদেশে তাদের কর্মসংস্থান হয়।

রাজনৈতিক সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনী জনসভায় এক দল আরেক দলের বিরুদ্ধে কথা বলে, কিন্তু তাতে জনগণের কোনো লাভ হয় না। তাই আমরা কাদা ছোড়াছুড়ি না করে দলের পরিকল্পনা তুলে ধরছি। আমরা ৭১’ সালে যুদ্ধ করেছি, ২৪’ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন করেছি। আমরা কখনো দেখিনি কে বৌদ্ধ, কে খ্রিস্টান বা কে হিন্দু। আমরা হাজার বছর ধরে শান্তিতে বসবাস করছি এবং ভবিষ্যতেও করতে চাই।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

- Advertisement -
- Advertisement -