আজ বৃহস্পতিবার, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ।   ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নির্বাচনকালীন সময়জুড়েও চলবে ভুয়া তথ্যবিরোধী অভিযান: আইসিটি সচিব

আরো খবর

আলোকিত প্রতিবেদক:

তথ্য এবং যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী বলেছেন, ভুয়া তথ্য ও ক্ষতিকর অনলাইন কনটেন্ট দ্রুত শনাক্ত এবং অপসারণে সরকারের একাধিক সংস্থা সমন্বিতভাবে ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে। নির্বাচনকালীন সময়েও ভুয়া তথ্যবিরোধী অভিযান চলমান থাকবে।

২৭ জানুয়ারি মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে দেশের সর্ববৃহৎ তথ্যপ্রযুক্তি প্রদর্শনী ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

আইসিটি সচিব বলেন, মিসইনফরমেশন এবং ক্ষতিকর ন্যারেটিভ মোকাবিলায় একাধিক বিভাগ ও সংস্থার সমন্বয়ে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি কাজ করছে। ১৫ সদস্যের একটি টিম নিয়মিতভাবে অনলাইন কনটেন্ট মনিটরিং করছে। এ ছাড়া ২১ জন প্রকৌশলী ২৪ ঘণ্টা এ কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছেন।

তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো সন্দেহজনক পোস্ট বা কনটেন্ট শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা বিশ্লেষণ ও ফ্যাক্টচেক করা হয়। যাচাই শেষে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় সাইবার সিকিউরিটি (এনসিএস) কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। এনসিএস সেখান থেকে কনটেন্টগুলো বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কাছে পাঠায়।

শীষ হায়দার চৌধুরী বলেন, বর্তমান সাইবার সেফটি অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী এনসিএস দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা। বিটিআরসি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে রিপোর্ট করলে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলো তাদের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী কনটেন্ট পর্যালোচনা করে। অনেক সময় বানান বা উপস্থাপনার কৌশলে নিয়ম এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ইউটিউব, টিকটক ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। গতকাল যেসব কনটেন্ট শনাক্ত করা হয়েছে, সেগুলোও তাৎক্ষণিকভাবে রিপোর্ট করা হয়েছে। আশা করছি আজ থেকেই সেগুলো আর দেখা যাবে না।

আইসিটি সচিব জানান, ডিজিএফআই, এনএসআই ও স্পেশাল ব্র্যাঞ্চের (এসবি)ও ডেডিকেটেড ২৪ ঘণ্টার টিম রয়েছে। এসব সংস্থা সরকারের রিপোর্টের বাইরেও অনেক কনটেন্ট শনাক্ত ও রিপোর্ট করে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে একই কনটেন্ট একাধিক সংস্থা থেকে রিপোর্ট হওয়ায় দ্রুত এবং সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

নির্বাচনকালীন এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে উল্লেখ করে শীষ হায়দার চৌধুরী বলেন, মিসইনফরমেশন, ডিসইনফরমেশন, হেট স্পিচ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী কনটেন্ট যেন সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে না পারে—এটাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মামুনুর রশীদ ভুঞা, সদস্য (বিনিয়োগ ও পার্ক সমন্বয়) ও আইসিটি বিভাগের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ সাইফুল হাসান এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, মহাসচিব মনিরুল ইসলামসহ আইসিটি বিভাগ, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, আইডিয়া প্রকল্প এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

আগামী ২৮ জানুয়ারি থেকে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএমসি) শুরু হচ্ছে চার দিনব্যাপী ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০২৬’।

আলোকিত প্রতিদিন/২৬ জানুয়ারি ২০২৬/মওম

- Advertisement -
- Advertisement -