রহমান উজ্জল:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশের মতো টাঙ্গাইল সদর আসনেও চলছে বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা। ঢাকার সন্নিকটে ইতিহাস- ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ একটি জেলা হলেও টাঙ্গাইলের সব কিছু মূলত মুখ থুবড়ে পড়ে একজন উপযুক্ত নেতার অভাবে। টাঙ্গাইলে উন্নয়নের নামে যা হয়েছে, তা মূলত ফাঁপা গল্প ছাড়া আর কিছু নয়। ফ্যাসিস্ট আমলে রাজনৈতিকভাবে ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইল সদর আসনের এমপিকে অন্য একটি আসনের এমপির হাতে চড় খেতেও দেখা যায়।
টাঙ্গাইল সদরের পশ্চাৎপদ চরাঞ্চলসহ টাংগাইল সদরের ব্যাপক উন্নয়নের সূচনা হয় মূলত বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল ( অবঃ) মাহমুদুল হাসানের হাত ধরে। টাঙ্গাইলের অসংখ্য রাস্তাঘাট, স্কুল, কলেজ এই কর্মবীরের অমর কীর্তি। শেষ জীবনে বার্ধক্যের কারণে মাহমুদ নগর ব্রিজ এবং যমুনার ভাঙ্গন থেকে চরবাসীকে রক্ষা করতে একটি বেড়িবাঁধ নির্মাণ না করতে পারার আফসোস ছিল তার সব সময়।
ত্রয়োদশ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইল সদর আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি থেকে নমিনেশন প্রার্থী ছিলো অন্তত ৫-৬ জন । এর মধ্যে সক্রিয় ছিলেন বিএনপি নির্বাহী কমিটির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহিন ,টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল , জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সাইদুল হক ছাদু , জেলা ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক সভাপতি এবং জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আহমেদুল হক সাতিল , বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন মন্ত্রী আব্দুর রহমানের নাতি প্লেটো প্রমূখ । এরমধ্যে বিএনপি হাই কমান্ড সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিলে জেলা বিএনপির সেক্রেটারি এডঃ ফরহাদ ইকবাল ব্যতীত অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দলীয় নির্দেশের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন এবং ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে কাজ শুরু করেন। অন্যদিকে দলীয় নির্দেশনা অমান্য ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল ।
দীর্ঘদিন যাবত টাঙ্গাইলবাসী ও টাঙ্গাইল সদর উপজেলাবাসী একজন বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রয়োজন অনুভব করছিল। বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু যেন সেই অভাব পূরণ করেন। প্রথম দিকে বিদ্রোহী প্রার্থীর দিকে দুই একজন থাকলেও মার্কা ঘোষণার পর এখন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি ও সদর উপজেলা বিএনপি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সাথে একাট্টা হয়ে মাঠে নেমেছে। দীর্ঘদিন পর টাঙ্গাইল সদর আসনে জয় পেতে বিএনপি এখন মরিয়া । জামায়াতে ইসলাম কখনোই টাঙ্গাইল সদর আসনে জয় পাওয়ার মত অবস্থান তৈরি করতে পারেনি । এছাড়া ইসলামী আন্দোলনসহ অন্যান্য প্রার্থীরা মাঠে থাকলেও তাদের ভোটার সংখ্যা সীমিত ।
মূলত সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর আইকনিক নেতৃত্ব, কর্মদক্ষতা এবং জনগণের সঙ্গে বিনয়ী সদাচরণ তাকে ভোটারদের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছে। খুনি হাসিনার বিগত ১৭ বছরের আমলে সালাম পিন্টু- টুকু পরিবারের উপর দিয়ে যে ঝড় বয়ে গেছে- ভোটারদের অনেকেই এখন বিষয়টিকে মূল্যায়ন করছেন। তাছাড়া ভোটারদের বড় একটা অংশ মনে করেন, যমুনার বেড়িবাঁধসহ টাঙ্গাইলের বড় বড় কাজগুলো একমাত্র সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর পক্ষেই করা সম্ভব।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তের ভোটারদের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে যমুনার ভাঙ্গন কবলিত কাকুয়া ইউনিয়নের মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, চরের মানুষ এখন আর চাইল- ডাইল চায়না । বর্ষাকালে আমরা নদীর ভাঙ্গনের ডরে রাইতে ঘুমাইতে পারি না । এবার ধানের শীষরে বিজয়ী কইরা এলাকার জন্য একটা বাঁধ চামু ।
সিলিমপুর ইউনিয়নের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কৃষক বলেন, আগে ফরহাদ ইকবালের সাথে আছিলাম। চিন্তা কইরা দেখলাম, সারা জীবন ধানের শীষ করছি ।এখন আর তাই বেইমানি করতে পারুম না । ভোটটা ধানের শীষেই দিমু ।
করটিয়া ইউনিয়নের করটিয়া বাজারের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী বলেন, বিগত ১৭ বছর মনে হতো নরকে বাস করছি। সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে ভোট দিয়ে এবার একটি নিরাপদ টাঙ্গাইল চাই।
টাঙ্গাইল পৌর শহরের ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু একজন শিক্ষিত ও চৌকস মানুষ । এবার মানুষ সঠিক জায়গাতেই সিল মারবে ।
তরুণ প্রজন্মের একজন নতুন ভোটার তাসনিম বলেন , টুকু ভাই আমাদের ক্রীড়া অনুষ্ঠানে পুরস্কার বিতরণ করেছিলেন। হাসিখুশি একজন মানুষ। উনাকে ভালো লেগেছে। আমার প্রথম ভোটটা উনাকেই দিতে চাই ।
টাঙ্গাইল সদর আসনে নির্বাচন ও সুলতান সালাউদ্দিন টুকু সম্পর্কে জানতে চাইলে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী বলেন, যোগ্যতার মাপকাঠিতে সে অনেক বড় নেতা। তার ধারে কাছে কেউ নেই। টাঙ্গাইল সদর আসনে উন্নয়ন করতে চাইলে, বিশেষ করে যমুনা নদীর বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হলে দেশনায়কের সাথে সম্পর্ক আছে- এমন একজন মানুষের প্রয়োজন। তাই টাংগাইল সদর উপজেলাবাসী এখন ঐক্যবদ্ধ। ঐক্যবদ্ধ সদরবাসী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু তথা ধানের শীষকে বিজয়ী করতে বদ্ধপরিকর।
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু বলেন, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ধানের শীষের প্রার্থী ।একজন জাতীয় নেতা হলেও নির্বাচন উপলক্ষে উনি অস্বাভাবিক পরিশ্রম করেছেন ।ভোটাররাও উনার ডাকে সাড়া দিচ্ছেন। টাঙ্গাইলের সব বয়সী ভোটারদের মধ্যে ইতিমধ্যেই সুলতান সালাউদ্দিন টুকু সম্পর্কে ব্যাপক ইতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে । আশা করি , উনি সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হবেন।
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এবং টাঙ্গাইল সদর আসনে দল থেকে অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী হাসানুজ্জামিল শাহীন বলেন, আসন্ন নির্বাচনে টাঙ্গাইল সদর আসনে আমিও একজন দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলাম। কিন্তু দল মূলত সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে অধিকতর যোগ্য মনে করে তাকে ধানের শীষের প্রতীক দিয়েছেন। আমি দলীয় আনুগত্য মেনে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর পক্ষে নির্বাচন করছি। টাঙ্গাইলের প্রতিটি আসনে আমি ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইছি । জেলা বিএনপির আহবায়ক হিসেবে প্রতিটি জাতীয়তাবাদী ভাই- বোনকে বলবো, আমরা বহুদিন পর একটি নির্বাচনের সুযোগ পেয়েছি। তাই প্রার্থী নয় -দলের পক্ষে কাজ করুন । ধানের শীষে ভোট দিয়ে দলকে বিজয়ী করুন ।
আসন্ন নির্বাচন এবং নিজস্ব ভাবনা সম্পর্কে জানতে চেয়ে বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক ও টাঙ্গাইল সদর আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু’র মুখোমুখি হলে তিনি বলেন , আসলে আমি চাইলে হয়তো অন্য কোথায়ও প্রার্থী হতে পারতাম। কিন্তু আমি আমার সক্ষমতাটুকু টাংগাইলবাসীকে দিতে চেয়েছি । আমি নিজে ঘুরে ঘুরে টাঙ্গাইলের চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকাগুলি দেখেছি। সেখানে মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দেখে মনে হয়, আমরা যেন আফ্রিকার কোন দরিদ্র দেশে বাস করছি । রাস্তাঘাট নাই, খাবার নাই ,এক কাপড় পরেই পার করছে দিনের পর দিন। এক কথায় বলতে গেলে, হতদরিদ্র মানুষগুলো ন্যূনতম নাগরিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত । চরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কার্যকরী অর্থনৈতিক পদক্ষেপ এবং চরবাসীর প্রাণের দাবি একটি বেড়িবাঁধ নির্মাণ অতীব জরুরী । এক সময়ের শিক্ষা নগরী ,সংস্কৃতি নগরী টাঙ্গাইল শহরের অবস্থা এখন যাচ্ছেতাই। রাস্তাঘাট, খেলার মাঠ, খাল, ডোবা-নালা সবকিছুই দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে শুধু মার্কেট আর দোকানপাট। যানজট, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ,মাদক, কিশোর গ্যাং – এর মত সমস্যায় শহরবাসীর একেবারেই নাকাল অবস্থা। ইনশাআল্লাহ ,আমি যদি সফল হতে পারি, তাহলে টাঙ্গাইল হবে একটি আদর্শ ও নিরাপদ নগরী। আমার এই চলার পথে হয়তো মানুষ হিসাবে আমারও কখনো ভুল হতে পারে । তখন আপনারা তা অবশ্যই শুধরে দিবেন। আর আমার জন্য আপনারা দোয়া করবেন সবাই।
আলোকিত প্রতিদিন/২৭ জানুয়ারি ২০২৬/মওম

