আজ বৃহস্পতিবার, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ।   ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

উৎসবের আমেজ বেড়েছে কেনাবেচা ক্রেতা-দর্শনার্থীর ভিড়

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা

আরো খবর

রিপন পাল:

ছুটির দিন মানেই যেন বাণিজ্য মেলায় বসে উৎসব। তরুণ-তরুণীরা আনন্দ, উল্লাস, উৎচ্ছাস আর হৈ-হুল্লোড়রের মধ্যে মেলায় প্রবেশ করছে। শিশু-কিশোরাও আনন্দে মেতে ওঠে। সাপ্তাহিক ছুটির ষষ্ঠ দিন গতকাল ২৪জানুয়ারি শনিবার বাণিজ্য মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড়ে মেলাপ্রাঙ্গণ পরিণত হয় জনারণ্যে। তাদের পদচারণায় মুখোরিত হয়ে ওঠে মেলার চারপাশ। চারদিকে শুধু মানুষ আর মানুষ। ছুুটির দিন হওয়ায় সকাল থেকেই মেলায় আসতে শুরু করে দর্শনার্থীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ভিড়। বিকালে নারী ও শিশুদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। দিন যত যাচ্ছে বিক্রেতাদের ব্যস্ততা তত বাড়ছে। কেনাকাটার পাশাপাশি মেলা প্রাঙ্গণে ফোয়ারার সামনে ছবি ও সেলফি তুলতে অনেকেই ব্যস্ত হয়ে পড়ে। মেলায় এখন দর্শনার্থীদের চেয়ে ক্রেতার সংখ্যা বাড়ছে।
বাণিজ্য মেলা এখন অপরূপ সাজে সেজেছে। ক্রেতা-দর্শনার্থীদের আগমনে মেলাপ্রাঙ্গণ এখন জনারণ্যে পরিণত হয়েছে। মেলার শিশুপার্কে ভিড় লেগেই থাকে। খাবার দোকানগুলোতে বসার স্থান থাকে না। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খাবার খাচ্ছেন ক্রেতারা। মেলায় অধিকাংশ পণ্যে থাকছে ১৫ থেকে ২৫ ভাগ ছাড়। গৃহস্থালি পণ্য, ইমিটেশনের গহনা, প্রসাধনী, খেলনা ও কাপড়ের স্টলে ভিড় ছিলো বেশি।
মেলায় প্রবেশের টিকিট ইজারাদারের ডিজি ইনফোটেক লিমিটেডের হেড অব অপারেশন এস এম আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রত্যাশার তুলনায় শুক্রবার ও শনিবার মেলায় লোক সমাগম হয়েছে বেশি। শুক্রবার লক্ষাধিক টিকিট বিক্রি হয়েছে। আর গতকাল ২৪জানুয়ারি শনিবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত ৯০ হাজার ক্রেতা-দর্শনার্থী টিকিট কেটে মেলায় প্রবেশ করেছে। শুক্রবার ও শনিবার ক্রেতা-দর্শনার্থীদের বেশি লক্ষ্য করা যায় গৃহস্থালি পণ্য, ইমিটেশনের গহনা, ক্রোকারিজ, প্রসাধনী, খেলনা ও কাপড়ের স্টলে।
বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, থ্রি-পিস, শাড়ি, ওড়না, চাদর, নকশি কাঁথা, বেডশিট প্রচুর বিক্রি হয়েছে। মেলার গৃহস্থালি পণ্য, ইমিটেশনের গহনা, ক্রোকারিজ, প্রসাধনী, বাণিজ্য খেলনা ও কাপড়ের স্টলে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, থ্রি-পিস, শাড়ি, ওড়না, চাদর, নকশি কাঁথা, বেডশিট প্রচুর বিক্রি হয়েছে।
কারাবন্দীদের তৈরি পণ্যের প্যাভিলিয়নে বাঁশ, বেত, কাঠ ও পাটের তৈরি বাহারী পণ্যের সমাহার ক্রেতা-দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কাড়ছে। বিক্রিও হচ্ছে প্রচুর। নারীদের পছন্দের পণ্যে ছাড় দেওয়া হচ্ছে বেশি।
হ্যারিটেজ ইকো প্রোডাক্টসের বিক্রয় প্রতিনিধি মাহফুজা আক্তার বলেন, গত কয়েক দিনের তুলনায় শুক্র ও শনিবার পণ্য বিক্রি হয়েছে বেশি। এবার মেলার সকল ব্যবসায়ীই লাভবান হয়েছেন।
নরসিংদী জেলার নারী উদ্যোক্তা নীলকান্তা স্টলের মালিক রোকসানা আক্তার বলেন, মেলার প্রথম ১৫ দিন ক্রেতা-দর্শনার্থীরা ঘুরেফিরে মেলার পর্যবেক্ষণ করেন। শেষের ১৫ দিন কেনাকাটা জমে ওঠে। গত শুক্রবার ও গতকাল শনিবার প্রচুর পণ্য বিক্রি হয়েছে। দিন দিন ক্রেতা দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে।
সেভয় আইসক্রিমের বিক্রয় প্রতিনিধি উম্মে হাবিবা বলেন, মেলার শেষের দিকে কেনাবেচা ভালো হয়। এবার বাণিজ্য মেলা ব্যাবসায়িকভাবেও সফল হবে।
হাজী বিরিয়ানির বিক্রয় প্রতিনিধি হাজী মুনসুর আলী বলেন, মেলায় বিপুলসংখ্যক ক্রেতা-দর্শনার্থীর আগমনে শুক্রবার দোকানের খাবারগুলো সন্ধ্যার আগেই শেষ হয়ে যায়। সেকারণে গতকাল শনিবার খাবারের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে।
আকিজ ইলেকট্রনিকসের বিক্রয় প্রতিনিধি সুমাইয়া খন্দকার সুমা বলেন, এখন যারা মেলায় আসছে তারা প্রত্যেকেই কিছু না কিছু কিনছে। মেলার বাকি দিনগুলোতে তারা আরো বিক্রির ব্যাপারে আশাবাদী।
ভারতীয় কাশ্মীরি শালের বিক্রয় প্রতিনিধি রামা কান্ত সরকার বলেন, ক্রোকারিজ সামগ্রীর পাশাপাশি মেয়েদের থ্রি-পিস, শাড়ি, ওড়না, চাদর, শীতের পোশাক, নকশিকাঁথা, বেডশিটসহ গৃহস্থালি পণ্য বিক্রি হয়েছে প্রচুর।
ঢাকার শামীবাগ এলাকা থেকে আসা গৃহবধূ সুমা আক্তার বলেন, এবারের মেলায় তৃতীয়বারের মতো তিনি গতকাল আসেন। তিনি মূল্য ছাড়ে প্রেসার কুকার ও ফ্রাইপ্যান কিনেছেন।
গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থেকে স্বপরিবারে মেলায় আসা গৃহবধূ বেবী নাজমিন বলেন, ‘ঢাকা বাইপাস সড়কে দীর্ঘ যানজটে চরম ভোগান্তি সয়ে মেলায় এসেছি। যানজটে মেলার আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে। তবে আশা করি আগামী মেলার আগেই এই সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ হবে। তখন আর ভোগান্তি থাকবে না।
কুমিল্লার চান্দিনা থেকে স্বপরিবারে আসা ব্যবসায়ী জামাল মিয়া বলেন, ভুলতা গাউছিয়া থেকে মেলাপ্রাঙ্গণ ১৫ মিনিটের রাস্তা। অথচ যানজটে দুই ঘণ্টা সময় লেগেছে। যানজটেই সময় শেষ হয়ে গেছে।
বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর(ইপিবি) সচিব তরফদার সোহেল রহমান বলেন, ক্রেতা-দর্শনার্থীদের আগমনে প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলে। সাপ্তাহিক বন্ধের দিন রাত ১০টা পর্যন্ত চলে। দর্শনার্থীদের আসা-যাওয়ার সুবিধার্থে বিআরটিসি বাস সার্ভিস চলাচলের পথ সুগম করেছে।

আলোকিত প্রতিদিন/২৫ জানুয়ারি ২০২৬/মওম

- Advertisement -
- Advertisement -