আজ বৃহস্পতিবার, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ।   ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কক্সবাজার পৌর শহরে (জবি) শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে অপহরণ, হামলায় বাবাসহ আহত-৫

সন্ত্রাসীরা আওয়ামী লীগের দোসর ও জুলাই আন্দোলনে হামলাকারী

আরো খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক :

কক্সবাজার শহরে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের হামলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীসহ অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলার সময় শিক্ষার্থীকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ এবং তার কাছ থেকে নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার ২১ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের ঘোনার পাড়া এলাকায় বিবেকানন্দ স্কুলসংলগ্ন পূর্ব মোহাজের পাড়া রাস্তার মাথায়।

আহত শিক্ষার্থী সাইমুন আমিন ইয়াছির (২১) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় তার বাবা সাইমুন আমিন (৪৬) কক্সবাজার সদর থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করেছেন।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ইয়াছিরকে পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী ঘিরে ফেলে। তারা দা, কিরিচ, ছোরা, বন্দুক, লোহার রড, হাতুড়ি ও লাঠিসোঁটাসহ দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত ছিল।

শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত আব্দুল হাকিম নিকেলের নেতৃত্বে হামলাকারীরা ইয়াছিরকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি মারধর করে। বন্দুকের বাট দিয়ে মাথায় আঘাতসহ ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। এ সময় তার পকেট থেকে নগদ ৮ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অপহরণ করে দ্বিতীয় দফা নির্যাতন :
হামলার একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা ইয়াছিরকে টেনে-হেঁচড়ে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে নিয়ে গিয়ে পুনরায় মারধর করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ইয়াছিরের বাবা সাইমুন আমিনকেও মারধর করা হয়। এতে তিনিসহ আরও কয়েকজন আহত হন।

ঘটনার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় প্রতিনিধিরা এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা আওয়ামী লীগের দোসর এবং গত জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় কক্সবাজারে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় জড়িত ছিল। তারা বলেন, একই চক্র এখনো এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে এবং ভিন্নমত দমন করতে সশস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।

বিবৃতিতে তারা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

পরবর্তীতে থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় অপহৃত শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। আহতদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকরা অবস্থার অবনতি দেখে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।

বাদী পক্ষের অভিযোগ, অভিযুক্তরা মামলা না করার জন্য বাদী ও তার ছেলেকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোর ভয় দেখাচ্ছে।

কক্সবাজার সদর থানার এক কর্মকর্তা জানান, এ ঘটনায় এজাহার গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আলোকিত প্রতিদিন/ ২৩ জানুয়ারি ২০২৬/মওম

- Advertisement -
- Advertisement -