আজ মঙ্গলবার, ১৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ।   ৩১ মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নোয়াখালীতে অবৈধ ইটভাটা, হুমকিতে শতাধিক পরিবার

আরো খবর

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বার ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে মনেন্দ্রবাবু গ্রামের কোল ঘেঁসে গড়ে ওঠেছে পপুলার ব্রিকস লিমিটেড নামের ড্রাম চিমনি বিশিষ্ট অবৈধ ইটভাটা। সরেজমিনে দেখা যায়,কাঁচা ইট প্রস্তুত করছে অর্ধশতাধিক মানুষ। ভাটায় জ্বলছে আগুন।জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে গাছ। জানা যায়,গত বছর নভেম্বরে সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো: আজিজ উল্যা দলীয় প্রভাব বিস্তার করে অবৈধ ইটভাটাটি স্হাপন করেন।
শতাব্দী প্রাচীন মনেন্দ্র বাবুর গ্রামে রয়েছে শতাধিক সংখ্যালুঘু হিন্দু পরিবারের বসবাস।স্হানীয়রা দাবি করেন, ইটভাটা স্হাপনের পর থেকে শান্ত নিরিবিলি গ্রামটি এখন বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই স্হানীয় মানুষেরা অভিযোগ করে বলেন,আমাদের গ্রামে প্রায় ৫০০ শতাধিক মানুষ বসবাস করেন।এই গ্রামের নারীরা পূর্ব থেকে হাতের বিভিন্ন কাজ করতেন। কিন্তু এখন আর নিরাপত্তার অভাবে করছেন না।কারণ এখানে দিনরাত বিভিন্ন এলাকার মানুষের যাতায়াত বেড়েছে।রয়েছে ইটভাটার শতাধিক শ্রমিক।
এছাড়াও চলাচল করছে ভারী যানবাহন।রাস্তা ভেঙে ধুলোবালিতে অতিষ্ঠ গ্রামবাসী ভয়ে প্রতিবাদও করতে পারছেন না।
মুঠোফোনে যোগাযোগে সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকিব ওসমান জানান,চরজব্বার ইউনিয়নে নতুন করে অবৈধ ইটভাটা তৈরি হওয়ার সংবাদ আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে এরপর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্হা নেয়া হবে।অপর এক প্রশ্নে বলেন,আবাসিক এলাকায় অথবা গ্রামের কোল ঘেঁসে কোন অবস্হাতে ইটভাট স্হাপনের সুযোগ নেই।গ্রামের পাশে অবৈধ ইটভাটা স্হাপন প্রসঙ্গে জানতে যুবদল নেতা আজিজ উল্যার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগে নিজেকে যুবদলের সুবর্ণচর উপজেলার যুগ্ম আহ্বায়ক পরিচয় দিয়ে বলেন, এখানে একটি জিগজাগ পদ্ধতির ইটভাটা স্হাপনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। পরিবেশ অধিদপ্তর নোয়াখালীতে আবেদন করা হয়েছে। এছাড়াও ফায়ার লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স নেয়া হয়েছে।গ্রামের কোল ঘেঁসে ইটভাটা স্হাপন প্রসঙ্গ উত্থাপন করাতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিএনপির সিনিয়র নেতাকর্মীদের নাম ভাঙিয়ে প্রতিবেদককে দেখা করতে বলে জানান, অনুমতি না মিললে সরকার ভেঙে দিলে দিবে।
পরিবেশ অধিদপ্তর নোয়াখালী জেলার উপপরিচালক শওকত আরা কলি বলেন,উক্ত ইটভাটার স্হাপনের বিষয়টি জানতে পেরেছি। অচিরেই ওই ইটভাটায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে গুড়িয়ে দেয়া হবে।তিনি আরো বলেন,
পপুলার নামের কোনো ইটভাটার আবেদনের প্রশ্নই ওঠে না।ছাড়পত্র তো বহুদূরের বিষয়।

আলোকিত প্রতিদিন/ ১৯ জানুয়ারি ২০২৬/মওম

 

- Advertisement -
- Advertisement -