আজ বৃহস্পতিবার, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ।   ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদী’র নাব্যতা সংকটে নৌযানে যাত্রী পরিবহনে চরম ভোগান্তি

আরো খবর

মাইনুল হাসান মজনু:

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীর নাব্যতা সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। ডুবোচরে আটকে যাচ্ছে নৌকা। উপজেলার বেশকটি নৌরুট গত কয়েকমাস ধরেই বন্ধ রয়েছে। উপজেলার চরাঞ্চলের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষি ফসল সহজে পরিবহন করতে পারছেন না।
গত কয়েকবছর আগেও বগুড়া সারিয়াকান্দিতে বর্ষাকালে যমুনা নদী তার প্রমত্তা রুপ ধারণ করতো। ফলে বন্যায় উপজেলার বিশালাকার এলাকা প্লাবিত হতো। কিন্তু চলতি বছরে সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। ফলে এ বছর উপজেলায় কোনও বন্যা হয়নি। এদিকে গত কয়েকমাস ধরেই যমুনা নদীর পানি একেবারেই তলানিতে গিয়ে পৌঁছেছে। ফলে উপজেলায় এখন যমুনা নদীর প্রকট নাব্যতা সংকট বিরাজমান রয়েছে। নাব্যতা সংকটে যমুনা নদীতে বেশকিছু ডুবোচরের সৃষ্টি হয়েছে। এসব ডুবোচরে প্রতিনিয়ত মাঝিদের নৌকা আটকে যাচ্ছে। ফলে মাঝিরা পানিতে নেমে কাধ দিয়ে নৌকা ডুবোচর থেকে সরিয়ে নিচ্ছেন। এতে নৌকা পারাপারে তাদের ভোগান্তির শেষ নেই। উপজেলার একমাত্র ব্যস্ততম নৌরুট সারিয়াকান্দি এবং মাদারগঞ্জ নৌরুট। এ নৌরুটটির কালিতলা গ্রোয়েনবাঁধ থেকে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিশালাকার চরের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিনিয়ত মাঝিদের দেয়া চাঁদা তুলে এ চর কেটে ড্রেনের মতো একটি খালের সৃষ্টি করা হয়েছে। সেই পথ দিয়ে খুবই কষ্টে প্রতিদিন শতাধিক নৌকা উপজেলার বিভিন্ন নৌঘাটে চলাচল করছে। এদিকে নাব্যতা সংকটে উপজেলার পারতিত পরল গ্রামের আলতাফ আলীর খেয়াঘাট, হাসনাপাড়া খেয়াঘাট, নিজবলাই খেয়াঘাট, দিঘাপাড়া খেয়াঘাট, চারালকান্দি খেয়াঘাটসহ বেশকিছু খেয়াঘাট বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া নাব্যতা সংকটে উপজেলার যমুনা নদীর বেশিরভাগ এলাকাজুড়ে ধূ ধূ বালুচরের সৃষ্টি হয়েছে। এসব বালুচর ডিঙিয়ে কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত কৃষি পণ্য খুবই কষ্টে পরিবহন করছেন। কেউবা ঘোরার গাড়িতে উচ্চ ভাড়ায় অথবা কেউবা পায়ে হেঁটে ঘারে করে তাদের কৃষিপণ্য পরিবহন করছেন। উপজেলার উৎপাদিত কৃষি ফসলের প্রায় অর্ধেকের বেশি ফসল যমুনার চরাঞ্চলে উৎপাদিত হয়। এসব ফসল পরিবহনে কৃষকদের বাড়তি পরিবহন জনিত খরচ হচ্ছে। এতে তাদের উৎপাদিত ফসলের উৎপাদন খরচ বাড়ছে।
সারিয়াকান্দি আলতাফ আলী খেয়াঘাটের মাঝি আলতাফ আলী জানান, যমুনা নদীর নাব্যতা সংকটে তার খেয়াঘাট গত কয়েকমাস ধরেই বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, যত টাকা দিয়ে নৌঘাটটি ইজারা নিয়েছি সেই টাকাই এ বছর উঠবে না।
কাজলা ইউনিয়নের কুড়িপাড়া চরের কৃষক মহসিন আলী বলেন, নদীতে যদি পানি থাকতো তাহলে আমরা খুব সহজেই নৌকায় আমাদের কৃষিফসলগুলো বাজারাজাত করতে পারতাম। পানি না থাকায় ঘোড়ার গাড়িতে প্রতি বস্তা সার বা মরিচসহ নানা ধরনের কৃষিফসল ১২০ টাকা ভাড়া দিয়ে বাজারে নিয়ে যেতে হচ্ছে। এতে আমাদের ফসলের উৎপাদন খরচ বাড়ছে, অপরদিকে সেই অনুযায়ী আমরা বাজারে দাম পাচ্ছি না।
সারিয়াকান্দি কালিতলা নৌঘাটের মাঝি আমিনুল ইসলাম বলেন, যমুনা নদীতে চলাচল করতে নৌকা বারবার চরে আটকে যাচ্ছে। খুবই কষ্টে আমরা পারাপার করছি। নিজেদের টাকা দিয়ে ড্রেজিং করে উপজেলার ব্যস্ততম নৌপথ চালু রেখেছি।
বগুড়া জেলা প্রশাসক মোঃ তৌফিকুর রহমান বলেন, সারিয়াকান্দিতে নৌবন্দর স্হাপনের কাজ চলমান রয়েছে। নৌবন্দর হলে সারাবছর নৌপথ ড্রেজিং এর আওতায় থাকবে। এ বিষয়ে তিনি বিআইডব্লিউটিএর সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন। এছাড়া নদীর ড্রেজিং বিষয়ে তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।

আলোকিত প্রতিদিন/ ১৬ জানুয়ারি ২০২৬/মওম

- Advertisement -
- Advertisement -