রিপন পাল:
ঢাকা আর্ন্তজাতিক বাণিজ্য মেলায় এক ছাদের নিচে নারীদের পছন্দের গৃহস্থালী পণ্য বিক্রির দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে। মেলায় এখন পণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে। গৃহস্থালী পণ্যের চাহিদা বেশি। নারীদের পছন্দের তালিকার রয়েছে গৃহস্থালি ক্রোকারিজ পণ্য। এর মধ্যে প্লাস্টিক সামগ্রীর চাহিদাও কম নয়। দর্শনার্থীরা মেলার ১০/১২দিন ঘুরে ফিরে, রসনাবিলাস শেষে ছবি-সেল্ফি তুলে সময় পার করছেন। এখন তারাই কেনাকাটা শুরু করেছেন। জমে উঠেছে বাণিজ্য মেলা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মেলায় দর্শনার্থীর বেশিরভাগই নারী। রয়েছে শিক্ষার্থী এবং শিশুরা। আর মেলায় আগতদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছে গৃহস্থালি পণ্য। পছন্দের পণ্য, টেকসই আর তুলনামূলক দাম কম হওয়ায় ক্রেতারা এসব পণ্য কিনতে আসছেন মেলায়। অন্যদিকে মেলায় ছাড় আর অফারে পাওয়া যাচ্ছে নানা পণ্য। বিকাশ অ্যাপেও রয়েছে ক্যাশ ব্যাক।
অন্য পণ্যের পাশাপাশি মেলায় রয়েছে গৃহস্থালী পণ্য। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে অ্যালুমিনিয়ামের তৈজসপত্র, হটপট, রাইস কুকার, ইলেকট্রিক চুলা এবং নন-স্টিক চুলা, কারুকাজ করা টিফিন ক্যারিয়ার, মগ, থালাবাসন ও হাড়ি, হোম অ্যাপ্লায়েন্স, জুস ব্লেন্ডার, ইলেকট্রিক কেটলি, কিচেন হুড, ওয়াটার ফিল্টার, গ্যাস-স্টোভ ও রাইস কুকার। এদিকে ভোক্তাদের স্বার্থরক্ষায় মেলায় কঠোর নজরদারি রাখছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
রাজধানীর শেওড়াপাড়া থেকে আসা গৃহবধূ সালমা আক্তার বলেন, মেলায় আসা মূলত ক্রোকারিজ পণ্য কেনার জন্য। এখানে পণ্যের গুণাগুণ ভালো, টেকসই পণ্য পাওয়া যায়। দামের দিক থেকেও কম, আবার রয়েছে ছাড়। সব মিলিয়ে অনুকূল পরিবেশ থাকায় তিনি বেশ কিছু গৃহস্থালী পণ্য কিনেছেন।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে স্বপরিবারে আসা গৃহবধূ সোনিয়া আক্তার বলেন, মেলা উপলক্ষে বিশেষ ছাড় থাকায় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রই বেশি কিনছেন। আবার এমন অনেক পণ্য আছে, যা মেলা ছাড়া পাওয়া যায় না। সেগুলো বেশি করে কেনা হয়।
নারায়ণগঞ্জের কাঞ্চন থেকে ভাবীর সঙ্গে আসা গৃহবধূ সুমি আক্তার বলেন, একই ছাদের নিচে গৃহস্থালির সব পণ্য পাওয়া যায়। এমন কিছু নতুন পণ্য পাওয়া যায় যেগুলো সচরাচর মার্কেটে চোখে পড়ে না। দাম ও পণ্যের গুণগত মান যাচাই-বাছাই করে কিনলে পণ্য কিনে জেতা সম্ভব।
রাজধানীর রামপুরা এলাকা থেকে মেলায় আসা গৃহবধূ মাহফুজা আক্তার বলেন, গত বছর নতুন সংসার শুরু করেছি। এক সঙ্গে সংসারের সব জিনিস পাওয়ার একটাই উপায়, সেটা হলো ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আসর। মেলা থেকে প্রয়োজনীয় সব তৈজসপত্র কিনে সংসার সাজাবো।
কিয়াম মেটালের বিক্রয় প্রতিনিধি ইফতেখার উদ্দিন বলেন, প্রতি বছর ক্রোকারিজ পণ্য বিক্রি ভালো হয়, এবছর এখন পর্যন্ত বেশি বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, গৃহস্থালি সব পণ্য সমানভাবে বিক্রি হচ্ছে।
এসকেবি স্টলের বিক্রয় প্রতিনিধি মিজানুর রহমান বলেন, মাসব্যাপী চলা এ মেলায় দেশি-বিদেশি স্টল ও প্যাভিলিয়নে ঘুরে পছন্দের পণ্য কিনছেন দর্শনার্থীরা। সবচেয়ে বেশি আগ্রহ গৃহস্থালি পণ্যে। ভিড় ঠেলে সেগুলো কিনছেন দর্শনার্থী। ব্যবসায়ীরা বলছেন, মেলার যত দিন যাচ্ছে, বিক্রি ততই বাড়ছে।
কিয়ামের বিক্রয় প্রতিনিধি আব্দুল করিম বলেন, একই ছাদের নিচে বাসনকোসন, হাঁড়ি-পাতিল থেকে শুরু করে গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় সব পণ্য মিলছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায়। প্রায় অর্ধশতাধিক স্টল ও প্যাভিলিয়নে এসব পণ্য পাওয়া যাচ্ছে। সচরাচর পণ্যের সঙ্গে নতুন পণ্যও এনেছে প্রতিষ্ঠানগুলো। বাহারি রঙ ও নকশার পাশাপাশি আছে দামেরও ভিন্নতা। তাই হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন নারী ক্রেতারা। বিক্রয় কর্মীরা বলছেন, বিশেষ ক্ষেত্রে মূল্যছাড়সহ সব ধরণের পণ্য বিক্রি হচ্ছে পাইকারি দামে।
দিল্লি এ্যালুমিনিয়ামের বিক্রয় প্রতিনিধি রমেশ চন্দ্র রায় বলেন, বেশির ভাগ পণ্য পাইকারি দামে বিক্রি করছেন তারা। নতুন পণ্যগুলো মেলার মাধ্যমে বাজারে আসে। এ ছাড়া সচরাচর পণ্যের উপর ৫ থেকে ১০ শতাংশ মূল্যছাড় দেওয়া হয়। তাই ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। কারো কারো মতে শুধু বিক্রি নয়, ক্রেতাদের কাছে নিজেদের নতুন পণ্যের পরিচয় করানোটাই আসল উদ্দেশ্য। ৫০ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে মিলছে স্টেইনলেস স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম ও লোহার তৈরি সংসারের প্রয়োজনীয় সব পণ্য।
আলোকিত প্রতিদিন/ ১৫ জানুয়ারি ২০২৬/মওম
- Advertisement -

