মোঃ আনোয়ার হোসেন:
এখন শুরু হইছে রবি শস্যের মৌসুম। কৃষক এখন মহাব্যস্ত ফসল উৎপাদনে। ফসলের উৎপাদন বাড়াতে হলে ট্রাইকো-কম্পোষ্ট ব্যবহার করতে হবে। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় মাটি থেকে সর্বোচ্চ উৎপাদন নিশ্চিত করতে প্রতি ৩ বছরে একবার বিঘা প্রতি ১২০ কেজি ডলুচুন প্রয়োগ করতে হবে। তাই কৃষকের উচিত প্রতি মৌসুমে বিঘা প্রতি ২৫০ থেকে ৩০০ কেজি জৈবসার ব্যবহার করা। ট্রাইকো-কম্পোস্টের উপাদান গুলো হল-
রাসায়নিক মুক্ত গোবর বা পচা জৈব সার, ফসলের অবশিষ্টাংশ (খড়, পাতা, আগাছা), ট্রাইকোডার্মা ছত্রাক কালচার, চাল কুঁড়া বা গমের ভুসি, পানি (আর্দ্রতা বজায় রাখতে)।
এই সব উপাদান ভালো ভাবে মিশিয়ে আর্দ্র অবস্থায় ঢেকে রাখা হয় ৭–১০ দিন। এই সময় ট্রাইকোডার্মা ছত্রাক দ্রুত বংশবিস্তার করে এবং ট্রাইকো-কম্পোস্ট সারে কার্যকরী হয়। এ সার জমিতে ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রতি শতকে ১–১.৫ কেজি বা প্রতি বিঘায় ১০–১৫ কেজি। চারা রোপণের আগে বা জমি চাষের সময় মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হয়। চারা লাগানোর সময় প্রতি গর্তে ১–২ মুঠো ট্রাইকো-কম্পোস্ট দিয়ে চারা লাগালে গোড়া পচা, ঢলে পড়া, শিকড় পচা রোগ কমে যায়। ট্রাইকো-কম্পোস্ট মাটির ক্ষতিকর ছত্রাক ধ্বংস করে, শিকড়ের বৃদ্ধি বাড়ায়, রাসায়নিক ছত্রাকনাশকের প্রয়োজন কমায় ফলন ২০–৩০% পর্যন্ত বৃদ্ধিতে সাহায়তা করে এবং মাটি উর্বর করে।
আলোকিত প্রতিদিন/ ১৩ জানুয়ারি ২০২৬/মওম

