আজ বৃহস্পতিবার, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ।   ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা: শীতবস্ত্রের স্টলে উপচে পড়া ভিড় বিক্রিতে খুশি ব্যবসায়ীরা

আরো খবর

রিপন পাল:

শীত আর ঘন কুয়াশার কারণে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় এখন কেনাকাটার শীর্ষ তালিকায় রয়েছে নানা ধরণের শীতবস্ত্র। ফলে শীতের পোশাকের স্টলগুলোতেই ক্রেতা-দর্শনার্থীদের সবচেয়ে বেশি ভিড়। বিক্রি হচ্ছে প্রচুর। দাম হাতের নাগালে। শীতবস্ত্র ন্যায্য মূল্যেই ক্রয় বিক্রয় হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। ব্যবসায়ীরাও খুশি।
১২ জানুয়ারি সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ক্রেতারা দেখেশুনে পছন্দমতো শীতের পোশাক ক্রয় করছেন। শীতবস্ত্রের স্টলগুলোতে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। স্টলে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। কেউ চাদর কিনছেন। কেউ সোয়েটার, জ্যাকেট, আবার কেউ-বা কোট ব্লেজার কিনছেন। শীতবস্ত্রের দোকানিরা জানিয়েছেন, ক্রেতার কাছে শীতের পোশাক হিসেবে সবচেয়ে বেশি চাহিদা জ্যাকেট, চাদর, সোয়েটার, শাল, টুপি, কোট, ব্লেজার, মাফলার, কানটুপি, মোজা, হাত মোজা, পা মোজা, কম্বল এবং ট্রাউজারের।
মেলায় শীতের পোশাকের পাশাপাশি সাইজ ও মানভেদে ৬০০ টাকা থেকে সাড়ে ৫হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে কম্বল। অনেকেই কম্বল কিনে বাসায় ফিরছেন। পণ্যগুলোর মানও ভালো। তবে ক্রেতাদের কেউ কেউ পণ্যের দাম বেশি বলে অভিযোগ করছেন।
ভারতীয় কাশ্মীরি শালের স্টলের মালিক কুমার হোসেন বলেন, স্টলের বরাদ্দ, নির্মাণ, সাজসজ্জা এবং কর্মচারীর বেতন পুষিয়ে নিতে পণ্যের দাম একটু বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে পণ্যের মান ভালো। চাহিদাও বেশি। বিক্রিও হচ্ছে দেদারসে। এখানে শীতবস্ত্রের মধ্যে নারীদের চাহিদার শীর্ষে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী কাশ্মীরি শালের। নারীরাই শীতবস্ত্রের মূল ক্রেতা।
মেলায় স্টলগুলো ঘুরে দেখা গেছে, শীতবস্ত্র বিক্রিতে মূল্যছাড় দেওয়া হচ্ছে। ক্রেতারা দেখে শুনে শীতের পোশাক কিনছেন। কেউ কেউ শাড়ির রঙের সঙ্গে মিলিয়ে শাল কিনছেন। কাশ্মীরি শাল ২ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। সঙ্গে ৩০ ভাগ ছাড়। ব্লেজারের স্টলগুলোতে কলেজ পড়–য়াদের ভিড় লেগেই থাকে। প্রতিটি ব্লেজার ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এখানে ১৫ ভাগ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। চামড়ার তৈরি কোট ব্লেজারের দাম একটু বেশি। এখানে ৬ হাজার টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত একেকটি চামড়ার ব্লেজার বিক্রি হচ্ছে। এখানে ২০ ভাগ ছাড় রয়েছে। দামের পাশাপাশি মূল্য ছাড়ের দিকে লক্ষ্য রেখে ক্রেতারা শীতবস্ত্র কিনছেন। এক্ষেত্রে কোনো কোনো স্টল মালিক সঠিক মূল্যের দ্বিগুণ দাম লিখে পোশাকের সঙ্গে মূল্য তালিকায় সেঁটে দিয়েছেন। পরে ওই পোশাকের মূল্যের ৫০ভাগ ছাড় দিচ্ছেন।
পাকিস্তানি কোয়ালিটি স্টলের বিক্রয় প্রতিনিধি হাজিক হাবিব বলেন, শীত আর ঘন কুয়াশায় শীতবস্ত্রের চাহিদা বেশি। ভালো মানের হওয়ায় অনেকেই মেলা থেকে শীতবস্ত্র ক্রয় করছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শীতবস্ত্রের স্টলের কর্মচারীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।
ক্লাসিক্যাল হোমটেক্সের বিক্রয় প্রতিনিধি নুরুল ইসলাম বলেন, শিশু, কিশোর, নারী, পুরুষ সকলেরই আগ্রহ শীতবস্ত্রের প্রতি। তাই এখানে বিপুল পরিমাণ শীতবস্ত্র বিক্রি হচ্ছে।
রাজধানীর বাড্ডা এলাকার ব্যবসায়ী মেলায় এসে তার স্ত্রীর পছন্দে ৪ হাজর ৮০০ টাকায় একটি কাশ্মীরি শাল ক্রয় করেছেন।
নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া থেকে আগত এনজিওকর্মী স্বপরিবারে মেলায় এসেছেন। ছবি তোলা আর খাওয়া ছাড়া মেলায় প্রথমে কিছু কিনতে চাননি। কিন্তু ছোট মেয়ের আবদারে শীতবস্ত্রের স্টলে যান তারা। পরে পোশাক পছন্দ হওয়ায় পরিবারের সবার জন্য শীতের পোশাক কেনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

আলোকিত প্রতিদিন/ ১২ জানুয়ারি ২০২৬/মওম

- Advertisement -
- Advertisement -