রিপন পাল:
শীতের প্রভাব কিছুটা কম থাকায় বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেলায় ছিলো ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মেলাপ্রাঙ্গণ প্রাণচাঞ্চল্য হয়ে ওঠে। ১১জানুয়ারি রবিবার পণ্য কেনাবেচাও হচ্ছে গত কয়েক দিনের তুলনায় বেশি। এতে বিক্রেতা, ব্যবসায়ী ও আয়োজকরা খুশি।
মেলায় প্রবেশের জন্য ই-টিকেটিং সেবা কার্যক্রমে এবার গেইটে ভিড় নেই। নেই কোন কোলাহল। তাতে ক্রেতা-দর্শনার্থী বিশেষ করে শিশু, তরুণী ও নারীরা স্বাচ্ছন্দে মেলায় প্রবেশ করেছেন। দর্শনার্থীরা ঘরে বসেই মোবাইল টেলিফোন নির্ভর যেকোনো আর্থিক লেনদেনের সুবিধা কিংবা দেশের স্বনামধন্য বেশ কিছু ব্যাংকের একাউন্ট ব্যবহার করে সহজেই টিকেট সংগ্রহ করতে পারছেন। প্রবেশের সময় মোবাইল ফোনে সংরক্ষিত এই টিকেটের ইমেজ প্রদর্শন করে একজন ব্যক্তি বা টিকেটে উল্লেখিত সংখ্যক দর্শনার্থী সহজেই মেলায় প্রবেশ করতে পারছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রবিবার বেলা ১১টা থেকে ক্রেতা দর্শনার্থীরা মেলায় আসতে শুরু করে। শীতের পোশাকের স্টলগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এবারের মেলায় শিশুদের জন্য শিশুপার্ক, স্লিপার, নাগরদোলা, ওয়ারবল ও মিনি ট্রেনসহ রাইডগুলো ছিল আকর্ষণীয়। তবে এ রাইডের টিকিটের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় অভিভাবকরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। নারীদের পছন্দের কসমেটিকস, গৃহস্থালি তৈজসপত্র, থ্রি-পিসের দোকানে ভিড় যেন লেগেই ছিল।
মেলার বিভিন্ন স্টল ও প্যাভিলিয়নের পাশাপাশি খাবারের দোকানগুলোতে ছিল ভোজনরসিকদের উপচেপড়া ভিড়। মেলায় এসেছেন, কিন্তু কিছু খাননি এমন একজনকেও বোধ হয় খুুঁজে পাওয়া যাবে না। ভিড় এতটাই ছিল যে, কোনো কোনো খাবারের স্টলে লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার খেতে হয়েছে।
গতকাল প্রবেশ গেইটে কোন ভিড় ছিলো না। অধিকাংশ ক্রেতা-দর্শনার্থী ই-টিকিট ব্যবহার করছে। তাতে এবছর মেলার স্থায়ী কাউন্টারগুলো থাকে অধিকাংশ সময়ই ফাঁকা। স্মার্ট মোবাইল ফোনে ই-টিকেটের ইমেজ ও ভিসিবল ডিজিটাল সাইন (ভিডিএস) নামে পরিচিত কিউ আর কোড প্রদর্শনের সাথে সাথেই স্ক্যানারের কল্যাণে যাবতীয় তথ্য পৌঁছে যায় ই-গেইটে। আর তথ্যপ্রাপ্তির কল্যাণে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে কয়েক সেকেন্ডের জন্য খুলে যায় এই গেইট। একজন দর্শনার্থী প্রবেশের পর আবারও স্বয়ংক্রিয়ভাবে এ গেট বন্ধ হয়ে যায় এবং পরবর্তী দর্শনার্থী প্রবেশের জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়। এভাবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে হাজার হাজার দর্শক মেলায় প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে এ বছরও।
বিএসএম এন্টারপ্রাইজের বিক্রয় প্রতিনিধি রাব্বি আহম্মেদ বলেন, রবিবার দর্শনার্থী এসেছে প্রচুর। বিক্রিও হয়েছে বেশ। দিন দিন মেলা জমে উঠছে।
আক্তার ফার্নিচারের প্যাভিলিয়ন ইনচার্জ দুলাল রায় বলেন, বিক্রি যেমনই হোক, মেলায় প্রচার প্রচারণা হচ্ছে প্রচুর। নতুন নতুন পণ্যগুলো দর্শনার্থীদের দেখানো হচ্ছে। অনলাইনে পণ্য দেখা ও ক্রয়ের জন্য অর্ডার দেওয়ার প্রক্রিয়াও ক্রেতা দর্শনার্থীদের কাছে তুলে ধরা হচ্ছে। সাড়াও পাচ্ছি বেশ।
রাজধানীর পরীবাগ থেকে আসা গৃহবধূ জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, মেলার শিশু পার্কের প্রবেশ টিকিটের মূল্য বেশি নেওয়া হচ্ছে। হাজি বিরিয়ানি হাউজে খাবারের দাম বেশি আদায় করা হচ্ছে বলেও কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন। তবে হাজি বিরিয়ানির বিক্রয় প্রতিনিধি সগির আহম্মেদ তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ভারতীয় কাশ্মীরি সিল্ক কার্পেটের বিক্রয় প্রতিনিধি রিপন চন্দ্র পাল বলেন, কনকনে শীতের পোশাকে ছাড় দেওয়ায় ক্রেতারা খুশি। বিক্রিও হচ্ছে প্রচুর।
অর্গানিক রিভানা কসমেটিকসের ইনচার্জ মাইশা ইসলাম অন্তু বলেন, ছুটির দিনে অন্যান্য দিনের তুলনায় ক্রেতা দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বেশ ভালোই। কেনাবেচা হচ্ছে প্রচুর। রবিবার ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের আগমনে মেলা প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে উঠে।
মেলায় প্রবেশের টিকিটের দায়িত্বে নিয়োজিত হৃদয় হাসান বলেন, রবিবার লক্ষাধিক মানুষ টিকিট কেটে মেলায় প্রবেশ করেছে। গতকাল বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৩৫হাজারেরও বেশি মানুষ টিকিট কেটে মেলায় প্রবেশ করেছে। জমে উঠেছে অতি আকাঙ্খার বাণিজ্য মেলা।
বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর(ইপিবি) সচিব তরফদার সোহেল রহমান বলেন, গত শুক্র ও শনিবার ছুটির দিনে মেলায় প্রচুর দর্শনার্থীর সমাগম হয়েছে। পণ্য বিক্রিও হয়েছে প্রচুর। এবারের মেলা ব্যবসা সফল হবে বলে তিনি আশা করছেন।
আলোকিত প্রতিদিন/ ১১ জানুয়ারি ২০২৬/মওম

