আজ বৃহস্পতিবার, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ।   ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা: খন্ডকালীন চাকরিতে শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন

আরো খবর

রিপন পাল :

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ৩০তম আসরে প্যাভিলিয়নসহ ৩২৭টি স্টলে খন্ডকালীন চাকরিতে শিক্ষার্থীরা উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। মেলার স্টল ও প্যাভিলিয়নের অধিকাংশ বিক্রয় প্রতিনিধি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। প্রতিবছরই মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলায় খন্ডকালীন চাকরিতে তারা কাজ করেন। এতে আয় তো হয়ই, পাশাপাশি উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন বুনেন তারা।
৯ জানুয়ারি শুক্রবার তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করেও মেলায় আসেন দর্শনার্থীরা। সরেজমিনে দেখা গেছে, মেলার কিছু স্টলের নির্মাণকাজ এখনো শেষ হয়নি। তবে মেলা শুরুর পর শীত উপেক্ষা করে শুক্রবার সকাল থেকেই দর্শনার্থীরা মেলায় আসতে শুরু করেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে প্রচুর দর্শনার্থীরা মেলায় প্রবেশ করে। দুপুরের পর মেলা ছিল ক্রেতা-দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত। সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা গেছে গৃহস্থালি, প্রসাধনী ও আসবাবপত্র ও শিশুপার্কে পার্কে। বিভিন্ন রাইডের টিকিটের মূল্য ৫০টাকা থেকে ১২০ টাকা মধ্যে।
ব্যবসায়ীরা জানান, সাধারণত জানুয়ারি মাসে শিক্ষার্থীদের তেমন লেখাপড়ার চাপ থাকে না। সে জন্য প্রতিবছরই বাণিজ্য মেলার বিভিন্ন স্টলে তারা এক মাসের জন্য কাজ নেন। এর মধ্য দিয়ে অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি বিভিন্ন নামিদামি ব্র্যান্ড ও স্টলে কাজের মাধ্যমে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন শিক্ষার্থীরা। এ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন বুনেন শিক্ষার্থীরা।
এবারের মেলায় চার হাজারের অধিক শিক্ষার্থী খন্ডকালীন কাজ করছেন। পূর্বাচলে মেলা শুরু হওয়ার পর থেকেই এক মাস ঘিরে রূপগঞ্জ ও তার আশপাশের এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। মেলার আশপাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন দোকানপাট। মেলায় মাস জুড়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আয়ও বেশি হয়।
হোমটেক্সের বিক্রয় প্রতিনিধি ও তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী জান্নত আরা বলেন, আমি (রাজধানীর) মালিবাগ এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করি। ওখানকার স্থানীয় একটি কলেজে লেখাপড়া করছি। বাণিজ্য মেলা হলেই মনের মধ্যে অন্যরকম এক আনন্দ বিরাজ করে। আমি এ নিয়ে দ্বিতীয়বার মেলায় চাকরি করছি। মেলার পরিবেশও আমার অনেক ভালো লাগে। আমার ইচ্ছে ভবিষ্যতে নিজে উদ্যোক্তা হয়ে দেশের জন্য কিছু করবো।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের কর্মী জিনিয়া আক্তার বলেন, আমি প্রতিবছরই মেলায় এক মাসের জন্য চাকরি করি। আমার হস্তশিল্পের বিভিন্ন জিনিস তৈরি করতে ভালো লাগে। ভবিষ্যতে আমার উদ্যোক্তা হওয়ার ইচ্ছা। আমার স্বপ্ন নিজের একটি বুটিক হাউজ থাকবে।
এশিয়া পেসিফিক জোনের বিক্রয় প্রতিনিধি শান্ত সরকার বলেন, আমি মহাখালীতে অবস্থিত জাতীয় বিশ্ব বিদ্যালয়ের অধীনে একটি কলেজে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে মার্কেটিংয়ে পড়ছি। জানুয়ারি মাসে লেখাপড়ার চাপ কিছুটা কম থাকায় বাণিজ্য মেলায় চাকরি করছি। এতে করে বাড়তি আয়ের পাশাপাশি আমি অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারছি। যেহেতু আমি মার্কেটিংয়ের শিক্ষার্থী, এটি আমার জন্য একটি সুযোগ ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি কানেক্ট করার।
খাদিজা আক্তার নামে একজন বিক্রয়কর্মী বলেন, আমার বাসা রাজধানীর শ্যামলী এলাকায়। আমি ওখানকার স্থানীয় একটি কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। পরীক্ষার দেরি আছে তাই মেলায় এক মাসের জন্য বিক্রয়কর্মীর চাকরি নিয়েছি। সামনে পড়াশোনা শেষ করে ব্যবসা করার ইচ্ছে আছে। তাই নিজেকে প্রস্তুত করে নিলাম এখান থেকে। আশা করছি, নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় এ অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে।
রূপগঞ্জের বরপা এলাকা থেকে মেলায় আসা অন্তু রহমান বলেন, তীব্র শীত থাকার পরও মেলায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বেড়াতে এসেছি। অন্যান্য বছর মেলা শুরুর দিকে না জমলেও এবার শুরু থেকেই জমে উঠেছে।
রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড এলাকার জুতা ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, আমার দোকান ঢাকার এলিফ্যান্ট রোড এলাকায়। এবারই প্রথম মেলায় অংশগ্রহণ করছি। শুনলাম এখানে নাকি ঢাকার মতো বেচাবিক্রি হয় না। তবে এবারের মেলায় ভিন্নরূপ দেখছি। এবার শুরু থেকেই জমে উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রত্যাশার চেয়ে বেশি দর্শনার্থী ছিল।
অর্গানিক রিবানা কসমেটিকসের ইনচার্জ মাইশা ইসলাম অন্তু বলেন, আমার ঢাকার নিউ মার্কেট এলাকায় দোকান রয়েছে। আমি প্রতিবছরই মেলায় কসমেটিকসের দোকান নিয়ে অংশগ্রহণ করি। মেলায় এবার প্রথম দিকেই অনেক বেশি দর্শনার্থী দেখতে পাচ্ছি। আশা করছি, আমাদের বিক্রিও এবার ভালো হবে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর(ইপিবি) সচিব তরফদার সোহেল রহমান জানান, এবারের মেলায় বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়ার ১১টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে। বাণিজ্য মেলার ৩০তম আসর সফল করতে ইপিবি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নিরাপত্তার স্বার্থে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে মেলার প্রতিটি অংশে। দর্শনার্থীদের সুবিধার কথা চিন্তা করে এবারো ই-টিকেটিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর(ইপিবি) মহাপরিচালক বেবী রানী কর্মকার বলেন, তীব্র শীত উপেক্ষা করে দর্শনার্থীরা মেলায় আসছেন। মেলায় ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে প্রায় প্রতিটি ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। বেকার তরুণদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা এখানে কাজ করছেন। এটা একটা ভালো দিক। সামনে শিক্ষার্থীরা যাতে আরও বেশি আগ্রহী হয় সে ব্যাপারেও আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করবো।

আলোকিত প্রতিদিন/০৯ জানুয়ারি ২০২৬/মওম

- Advertisement -
- Advertisement -