আজ বৃহস্পতিবার, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ।   ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আমি এখন এফডিসির দিকে তাকাই না, এফডিসি এখন ভূতুড়ে বাড়ি: ডলি জহুর

আরো খবর

বিনোদন ডেস্ক: দেশি চলচ্চিত্রের আতুরঘর হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)। একসময় শুটিং, ডাবিং, সম্পাদনা, প্রিন্ট-সবকিছু মিলিয়ে সেখানে ছিল কর্মচাঞ্চল্যে ভরা পরিবেশ। এখন সেটি অনেকটাই জৌলুশহীন, প্রাণহীন ও কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এই এফডিসি নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করলেন নন্দিত অভিনেত্রী ডলি জহুর। তিনি বলেন, ‘আমি এখন এফডিসির দিকে তাকাই না। ভাঙাচোরা এফডিসি দেখতে আমার আর ইচ্ছে করে না।’

কয়েক দশক ধরে অভিনয় করে দর্শকের ভালোবাসা কুড়িয়েছেন ডলি জহুর। এখনো তিনি নিয়মিত অভিনয় করছেন। সিনেমার চেয়ে বর্তমানে তাঁকে নাটকে বেশি দেখা যায়। আগামী ৩ জানুয়ারি থেকে প্রচারে আসছে তাঁর নতুন ধারাবাহিক নাটক ‘পরম্পরা’। সোমবার দুপুরে নাটকটি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এই গুণী অভিনেত্রী।

সেখানে এক প্রশ্নের জবাবে ডলি জহুর বলেন, ‘একসময় মনে হতো এফডিসিই আমার প্রাণকেন্দ্র, সেখানে অনেক কাজ করেছি। এখন সেখানে আগের মতো কাজ নেই। কেন জানি জায়গাটাকে নিস্তেজ মনে হয়, দেখতে ভালো লাগে না। সে জন্যই আর এফডিসির দিকে তাকাই না।’

তবে তিনি আশাবাদী, আবারও এফডিসি তার আগের অবস্থানে ফিরে আসবে। ডলি জহুর বলেন, ‘যেদিন এফডিসি আবার সুন্দর হবে, গোছানো হবে, সেদিন সেখানে যাব। তখন হয়তো কাজ করব না, কিন্তু দেখার জন্য হলেও সেখানে যাব।’

পারিবারিক মূল্যবোধ, প্রজন্মগত দ্বন্দ্ব ও ভালোবাসার গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে নতুন ধারাবাহিক ‘পরম্পরা’। তার কথায়, ‘নির্মাতা আশিস রায় যখন আমাকে কাজের প্রস্তাব দেন, তখন আর কিছু না ভেবেই রাজি হয়ে যাই। এবারও তাই হয়েছে। এখানে আমি পরিবারের সবচেয়ে প্রবীণ সদস্যের চরিত্রে অভিনয় করেছি। আসলে এটা আমাদের জীবনেরই গল্প। আমরা আমাদের জীবনের গল্পই বারবার দেখতে চাই, সামাজিক গল্পগুলো দেখতে চাই।’

নাটকটি নিয়ে বেশ আশাবাদী ডলি জহুর। তার ভাষ্য বলেন, “একসময় ‘এসব দিনরাত্রি’, ‘সকাল-সন্ধ্যা’সহ বেশকিছু ধারাবাহিক নাটক ছিল, যা দারুণ জনপ্রিয় হয়েছিল। শুধু দেশের দর্শকই নয়, বাইরের দেশের দর্শকেরাও সেগুলো দেখেছেন। আমার বিশ্বাস, ‘পরম্পরা’ দর্শক ভালোভাবে গ্রহণ করবে। কারণ, টিভি নাটক থেকে দর্শক কখনো মুখ ফিরিয়ে নেয়নি।”

সমালোচনা প্রসঙ্গে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি একজন শিল্পী। আমরা অনেক কাজ করি, সব কাজ যে ভালো হবে তা নয়। কাজ ভালো হলে দর্শক প্রশংসা করবেন, খারাপ হলে সমালোচনা করবেন। তাই আমরা বারবার বলি, আপনারা আমাদের সমালোচনা করুন। সমালোচনা না হলে ভালো–খারাপের পার্থক্য তো বুঝতেই পারব না।’

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের জুলাই মাসে সিনেমার পারিশ্রমিক নিয়ে আক্ষেপের কথা বলেন ডলি জহুর। সেসময় তিনি বলেন, ‘মায়ের অভিনয় করতাম, টাকা কম পেতাম। সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি থেকে চলে আসি ২০১১ সালে, এরপর আর কাজ করিনি। তখনও আমি ৩৪ লাখ পারিশ্রমিকের টাকা রেখে এসেছি।’

ডলি জহুর বলেন, ‘সেই সময় আমি অনেক সিনেমা করি, অনেকের কাছে টাকা পাইতাম। এমনও হয়েছে সিনেমা মুক্তি পেয়েছে তারপরও পুরো টাকাই পেতাম। ওই সময় আমি কেঁদে কেঁদে বলছি- ‘কিছু টাকা আমার তুলে দেন আমার স্বামীকে নিয়ে ব্যাংককে যাব। কষ্টের বিষয় হল- আমার পাওনা টাকা তোলার জন্য, যাকে দ্বায়িত্ব দিলাম তার কাছেও টাকা পাইতাম। এরপর তো আর ওই লোক যোগাযোগ করেই নাই নিজেও কোন টাকা দেয় নাই। এমন সময়ে এক পাইও ইন্ডাস্ট্রি থেকে পাইনি।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

- Advertisement -
- Advertisement -