আনোয়ারা প্রতিনিধি, সালাউদ্দিন জাহেদ নামের এক ছিচকে সন্ত্রাসীর সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কারণে ঘরছাড়া হয়েছেন বাঁশখালি উপজেলার ৩ নম্বর খানখানাবাদ ইউনিয়ন রায়ছাটা গ্রামের বাসিন্দা মৌলানা মোহাম্মদ ইসমাঈল। তিনি রায়ছাটা গ্রামের মৃত ইদ্রিস মৌলভীর পুত্র । ইসমাইল স্থানীয় একটি জামে মসজিদের খতিব ছিলেন। এদিকে সন্ত্রাসী সালাউদ্দিন জাহেদ চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার ১১ নম্বর জুঁইদন্ডি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। অভিযোগকারী মোহাম্মদ ইসমাঈল সন্ত্রাসী সালাউদ্দিন জাহেদের আপন ভগ্নিপতি হন। কয়েকবছর আগে সালাউদ্দীন জাহেদের ছোটো বোন শারজিনা আক্তারের সাথে বাঁশখালির মোহাম্মদ ইসমাঈলের বিয়ে হয়। পর পুরুষের সাথে পরকীয়ার কারণে বিগত ১৫-০১-২০২৩ ইংরেজি তারিখ স্থানীয় মান্যগন্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে স্বামী-স্ত্রী উভয়ই স্বেচ্ছায়-স্বজ্ঞানে তালাকপ্রাপ্ত হন এবং দেনাপাওনাও শেষ হয়। এরপর নানান ইস্যু তৈয়ার করে সালাউদ্দিন জাহেদ তার সঙ্গীয় সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে বাঁশখালির মোহাম্মদ ইসমাঈলের বসতবাড়িতে বারবার হানা দিতে থাকে । অভিযোগকারী ইসমাইল বলেন, জাহেদ আমার বাড়িতে এই বলে হানা দেয় যে- কখনো ৫ লাখ, কখনো ৭ লাখ, আবার কখনো ১০ টাকা তিনি বেআইনিভাবে দাবী করতে থাকে। এসব ঘটনা নিয়ে সালাউদ্দিন জাহেদ ইসমাইলের বাড়িতে একাধিকবার সন্ত্রাসী হামলাও চালায়। সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ এনে মোহাম্মদ ইসমাঈল আনোয়ারার বিদায়ী ইউএনও ইশতিয়াক ঈমন বরাবরে, আনোয়ারা থানায় এবং বাঁশখালির প্রশাসনিক এলাকায় একাধিক লিখিত অভিযোগও দায়ের করেন। ঐসব অভিযোগে ভুক্তভোগী ইসমাইল কিছুটা প্রতিকার পেলেও উপযুক্ত শাস্তি না হওয়ায় সালাউদ্দিন জাহেদ আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে । এদিকে সন্ত্রাসী সালাউদ্দিন জাহেদের বিরুদ্ধে রয়েছে পাহাড় সমান অভিযোগ। মরণ নেশা ইয়াবা ব্যবসা, চিংড়ি মাছের ঘের দখল, জমি দখল, রয়েছে উপকূলীয় এলাকার জেলেদের থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ। জাহেদ একজন পেশাদার সন্ত্রাসী হিসেবে এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে । আনোয়ারা- কর্ণফুলির প্রত্যন্ত অঞ্চলে সন্ত্রাসী হিসেবে ভাড়ায় খাটাসহ পাহাড় সমান অভিযোগ রয়েছে ছিচকে সন্ত্রাসী জাহেদের বিরুদ্ধে। জুঁইদন্ডি ইউনিয়নের বাসিন্দারা বলেন, দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম ইয়াবা কারবারি খুরুসকুল গ্রামের আবদুল মান্নান প্রকাশ কানা মান্নানের সাথে রয়েছে সালাউদ্দীন জাহেদের গভীর সম্পর্ক । নাম প্রকাশ না করার শর্তে জুঁইদন্ডি ইউনিয়নের খুরুসকুলের এক গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) বলেন, খুরুসকুল গ্রামের কানা মান্নান থেকে ইয়াবা নিয়ে সালাউদ্দিন জাহেদ খুচরা বাজারে বিক্রি করে। জাহেদের বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য কপিল উদ্দিন বাবু বলেন, সালাউদ্দিন জাহেদ আমার প্রতিবেশী চাচাতো ভাই হলেও তার চলাফেরা সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাঁকে আমরা সবসময় সামাজিকভাবে বয়কট করি। বাবু বলেন, তার নানান অপকর্ম আমাদেরকে ব্যথিত করেছে- মর্মাহত করেছে। তিনি বলেন, সালাউদ্দিন জাহেদ যুবলীগের রাজনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। ৫ আগষ্ট শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর সালাউদ্দিন জাহেদ হঠাৎ ভোল পাল্টিয়ে আনোয়ারার এক বিএনপি নেতার সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে। এরপর তিনি আরো বেপরোয়া হয়ে নানান অপরাধে জড়িত হয়ে পরে। সালাউদ্দিন জাহেদের বিষয়ে আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুনায়েত চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আনোয়ারা থানায় সদ্য যোগদান করেছি। তার বিষয়ে খোঁজখবর নেবো। ইতিমধ্যে সন্ত্রাসী- চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আনোয়ারায় অভিযান জোরদার করা হয়েছে। সালাউদ্দিন জাহেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব । তিনি বলেন, কে কোন দল করে সেটা বিবেচ্য বিষয় নয়, বিবেচ্য বিষয় হলো- দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালালে তার রেহাই হবেনা
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

