নিজস্ব প্রতিবেদক:
মানিকগঞ্জ-১ সংসদীয় আসনে অধ্যাপক ড. খোন্দকার আকবর হোসেন বাবলুকে বিএনপির মনোনয়ন না দেয়ার ক্ষুব্ধ নেতাকর্মিরা। আজ সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে মওলানা আকরম খাঁ হলে এক সংবাদ সম্মেলনের নেতাকর্মিদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য. দলের প্রয়াত মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের জ্যেষ্ঠপুত্র ও মনোনয়ন প্রত্যাশী ড. খোন্দকার আকবর হোসেন।
৮ ডিসেম্বর সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের মওলানা আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত এক জরুরী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি জানান। এসময় তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও নীতিনির্ধারকদের প্রতি বিতর্কিত প্রার্থী বাদ দিয়ে ত্যাগী ও ক্লিন ইমেজের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার আহ্বান জানান। লিখিত বক্তব্যে ড. খোন্দকার আকবর হোসেন বাবলু বলেন, ‘‘ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আমরা যে ফ্যাসিস্ট সরকারকে উৎখাত করেছি, সেই সরকারের দোসর, সুবিধাভোগী এবং ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দলকে ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থে লাভবান হওয়া ব্যক্তিকে এই আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। যিনি নিজ এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, চাঁদাবাজি, ও বালু মহল দখলসহ নানা অপকর্মে জড়িত। আওয়ামী পরিবারের সন্তান ও বিতর্কিত শিল্পগোষ্ঠীর আশীর্বাদপুষ্ট ওই প্রার্থীর হাতে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা প্রতিনিয়ত নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।’’ বাবার রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও ত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘‘১/১১-এর জরুরি অবস্থার সময় যখন জিয়া পরিবারকে মাইনাস করার ষড়যন্ত্র হয়েছিল, তখন আমার বাবা খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন শত প্রলোভন ও হুমকির মুখেও দলের হাল ধরেছিলেন। সেই সময় তিনি আপোষহীনভাবে দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছিলেন। আজ জাতীয় ও মানিকগঞ্জের রাজনীতি থেকে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের পরিবারকে মাইনাস করার অপচেষ্টা চলছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী নির্বাচনের জন্য প্রার্থীর যোগ্যতার মাপকাঠি হিসেবে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, দলের প্রতি ত্যাগ ও জনপ্রিয়তার কথা বলেছেন। আমার ও আমার পরিবারের ওপর বিগত দিনে হওয়া হামলা-মামলা, জেল-জুলুম এবং এলাকায় আমাদের গ্রহণযোগ্যতা সেই মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ। কিন্তু দলের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা একটি সিন্ডিকেট টাকার বিনিময়ে অযোগ্য ও বিতর্কিত ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিয়েছে, যা দলের ইমেজের ক্ষতি করছে।’’ সংবাদ সম্মেলনে ড.বাবলু অভিযোগ করেন, ‘‘যোগ্যতা হিসেবে অবৈধ টাকা ও বিতর্কিত শিল্পগোষ্ঠীর প্রভাবকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। অবিলম্বে এই সিন্ডিকেট চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। আমি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি, মানিকগঞ্জ-১ আসনে মনোনয়ন পুনর্বিবেচনা করে আমাকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ দিন, যাতে আমি আমার বাবার অসমাপ্ত কাজ ও রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়ন করতে পারি।’’
সংবাদ সম্মেলনে ড. আকবর আরও বলেন, ‘আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য পরিচ্ছন্ন ভাবমূতির্, এলাকায় জনপ্রিয়তা, দলের প্রতি ত্যাগ-আনুগত্য ও সাংগঠনিক যোগ্যতাকে মনোনয়নের ক্রাইটেরিয়া হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সেই অনুযায়ী চেয়ারপারসনের ঘনিষ্ট ও অনেক নীতিনির্ধারক মনোনয়নের ব্যাপারে আমাকে আশ্বস্ত করেছিলেন। আমাকে এ-ও বলা হয়েছিল দলের চেয়ারপারসন আমার ব্যাপারে দলের ভাবপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং মহাসচিবকে সুন্দরভাবে মনোনয়ন দেয়ার পক্ষে বলেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রয়াত খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ছোট মেয়ে ডা. দেলোয়ারা বেগম পান্না, ছোট ছেলে খোন্দকার আকতার হামিদ পবন, ভাতিজা খোন্দকার রোমান, দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক শফিউল আলম বিল্টু এবং সিংজুরী ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল আউয়াল মাস্টারসহ মানিকগঞ্জ এবং ঢাকার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। শুরুতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি ও সুস্থতা কামনা করে দোয়া করা হয়।
আলোকিত প্রতিদিন/০৮ ডিসেম্বর ২০২৫/মওম

