আজ বৃহস্পতিবার, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ।   ২২ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

তারাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মবিরতি: ওষুধ-পরীক্ষা বন্ধ, চরম ভোগান্তিতে রোগীরা!

আরো খবর

 শফিউল মন্ডল (তারাগঞ্জ) রংপুর প্রতিনিধি : রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফার্মাসিস্ট ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের কর্মবিরতির কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চিকিৎসাসেবা নিতে আসা সাধারণ রোগীরা। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতালের ফার্মেসি ও প্যাথলজি বিভাগের সামনে রোগীদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। ওষুধ ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার সেবা বন্ধ থাকায় অনেকেই ক্ষোভ নিয়ে ফিরতে বাধ্য হন।
আলমপুর ইউনিয়নের ভীমপুর গ্রামের নুরজাহান বেগম সকাল ৯টায় শিশু সন্তানকে নিয়ে চিকিৎসা করাতে হাসপাতালে আসেন। কিন্তু চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়ার পরও ওষুধের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তিনি কোনো সেবা পাননি। হতাশ নুরজাহান বলেন, “ডাক্তার দেখানোর পরই ওষুধের জন্য আসছি। কিন্তু ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করিও ওষুধ পাওছি না। ছোট বাচ্চাটাক নিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছি। শুনোছি ফার্মেসী বন্ধ থুইয়া আন্দোলন করোছে। আমরা গরীব মানুষ ওই জন্য তো সরকারি হাসপাতালে আসি। কিন্তু এটে সেবা বন্ধ থুইয়া মানুষোক জিম্মি করি আন্দোলন করেছে, গরিব মানুষ কোনঠে যাইবে।
ইকরচালী গ্রামের গৃহবধূ মৌসুমী আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সারা দেশোত আন্দোলন চলছে। সগ আন্দোলন চাকরিজীবীর ঘরে। ওরা চাকরি করে, বেতন পায়, ফির আন্দোলন করে—আর হামরা সেই আন্দোলনের পাঠার বলি হই। ফার্মেসির কাছেই ব্যানার টানিয়ে কর্মবিরতি পালন করছেন ফার্মাসিস্ট ও টেকনোলজিস্টরা। তিন দিন ধরে দশম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে তারা কর্মবিরতি পালন করছেন। ফার্মাসিস্ট লুৎফর রহমান বলেন, “দশম গ্রেড বাস্তবায়ন আমাদের সার্ভিস স্ট্রাকচারের ন্যায্য অংশ। বহুদিন দাবি জানানো হলেও সমাধান হয়নি। দ্রুত দাবি বাস্তবায়ন হলে রোগীরাও আর ভোগান্তিতে পড়বেন না।”
হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগে গিয়ে দেখা গেছে, রক্তসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে না পেরে রোগীরা ফিরে যাচ্ছেন। দৌলতপুর গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, “ডাক্তার রক্ত পরীক্ষা দিতে বলছে, কিন্তু ল্যাবে কেউ নেই। পরীক্ষা না করেই ফিরে যেতে হচ্ছে। সবাই আন্দোলন করে, কিন্তু আমরা কৃষকরা ফসলের ন্যায্য দাম পাইনা—কই, আমরা তো আন্দোলন করি না!
প্যাথলজি বিভাগের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট রিনা আক্তার জানান, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা গ্রেড উন্নয়নসহ কয়েকটি ন্যায্য দাবি জানিয়ে আসছি। বাস্তবায়ন না হওয়ায় বাধ্য হয়েই কর্মবিরতি। সমস্যাটা আমাদেরও কষ্টের, কিন্তু দাবি মানা ছাড়া উপায় নেই। এক্সরে বিভাগেও একই চিত্র। রেডিওলজি বিভাগের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট কামরুজ্জামান সনেট বলেন, “এক্সরে বিভাগের কাজও বন্ধ। রোগীদের কষ্ট দিতে চাই না, কিন্তু বৈষম্যের সমাধান না হলে কর্মবিরতি ছাড়া আর উপায় থাকে না।
এদিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরাধীন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা (FWV), পরিবার কল্যাণ সহকারী (FWA) ও পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক (FPI)–দের নিয়োগ বিধি দ্রুত প্রকাশ ও বাস্তবায়নের দাবিতে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা নিয়োগ বিধি প্রকাশ না হওয়ায় মাঠপর্যায়ের কর্মীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ক্ষোভ আরও বাড়বে বলেও সতর্ক করেন তারা।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি
- Advertisement -
- Advertisement -