আজ মঙ্গলবার, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ।   ১০ মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

দিবাস্বপ্ন দেখা বন্ধ করুন: রাজনাথকে সিন্ধের মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

আরো খবর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সিন্ধ প্রদেশ আবারও ‘ভারতে ফিরতে পারে’— বলে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং সম্প্রতি যে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন তার কড়া জবাব দিয়েছেন পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলী শাহ।

তিনি বলেছেন, সিন্ধ পাকিস্তানেরই অংশ ছিল, আছে এবং থাকবে। ভারতকে দিবাস্বপ্ন দেখা বন্ধ করতে হবে। ২৫ নভেম্বর মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ বলেন, “সিন্ধ পাকিস্তানের অবিচ্ছেদ্য অংশ, ছিল, আছে এবং থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, রাজনাথ সিং “ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞ”। তার ব্যাখ্যা, ১৯৩৬ সালেই সিন্ধ তৎকালীন বোম্বে প্রেসিডেন্সি থেকে আলাদা হয়েছিল। যা পাকিস্তান সৃষ্টির অনেক আগের ঘটনা। সিন্ধের মানুষের কাছে সবসময়ই তাদের নিজস্ব মর্যাদা, স্বায়ত্তশাসন এবং রাজনৈতিক পরিচয় গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, অন্য দেশের বিষয়ে দিবাস্বপ্ন না দেখে ভারতের মন্ত্রীর উচিত নিজেদের ভেতরের বিভাজন নিয়ে ভাবা।

প্রসঙ্গত, রাজনাথ সিং সম্প্রতি বলেছেন, “আজ সিন্ধ ভারতের অংশ না হলেও সভ্যতার দিক থেকে তা ভারতেরই অংশ। আর সীমান্ত তো বদলাতে পারে—কে জানে, হয়তো কোনো একদিন সিন্ধ আবার ভারতের সঙ্গে যুক্ত হবে।”

তিনি আরও দাবি করেন, তার প্রজন্মের সিন্ধি হিন্দুরা নাকি কখনোই পাকিস্তানের সঙ্গে প্রদেশটির যুক্ত হওয়াকে মেনে নেননি।

পরে গত রবিবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ভারতীয় মন্ত্রীর মন্তব্যকে “বিভ্রান্তিকর, ইতিহাস বিকৃতকারী এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি” বলে নিন্দা জানায়। এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, রাজনাথ সিংয়ের বক্তব্য “সম্প্রসারণবাদী হিন্দুত্ববাদী মানসিকতার” প্রতিফলন।

পাকিস্তান আরও বলেছে, ভারতকে উসকানিমূলক বক্তব্য বন্ধ করে নিজেদের নাগরিকদের নিরাপত্তার দিকে মনোযোগী হতে হবে— বিশেষত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতি ধর্মীয় সহিংসতার ঘটনায় দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং ইতিহাস বিকৃতির কারণে যে বৈষম্য চলছে তা বন্ধ করতে হবে।

কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে এফও জানায়, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব এবং কাশ্মীরিদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী জম্মু-কাশ্মীর বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানে ভারতকে ‘বিশ্বাসযোগ্য উদ্যোগ’ নিতে হবে। পাকিস্তান ন্যায়বিচার ও আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে শান্তিপূর্ণ সমাধানে অটল থাকলেও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ থাকবে।

সূত্র: জিও নিউজ

আলোকিত প্রতিদিন/২৫ নভেম্বর ২০২৫/মওম

- Advertisement -
- Advertisement -