আজ বুধবার, ১১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ।   ২৫ মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জন্মদিনে নারীদের সুরক্ষায় ৫ প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের!

আরো খবর

বিশেষ প্রতিনিধি: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, দৈনন্দিন কাজকর্ম থেকে শুরু করে বৈশ্বিক অঙ্গনে রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক পর্যন্ত; ডিজিটাল বিশ্ব এখন আমাদের জীবনের প্রতিটি অংশকে প্রভাবিত করছে। প্রযুক্তি যে গতিতে বিশ্ব এবং বাংলাদেশ উভয়কেই বদলে দিয়েছে, তা আমাদের কেউই উপেক্ষা করতে পারে না।

নিজের ৬১তম জন্মদিনে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘অনেক সময় আমার স্ত্রী ও আমি বসে ভাবি—আমাদের শৈশবের পৃথিবী আর আজ আমাদের মেয়ের সামনে থাকা পৃথিবী কতটা ভিন্ন। আর অনেক অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকের মতো আমরাও একই সঙ্গে আশা ও উদ্বেগ অনুভব করি।

আজ সুযোগ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বড়, কিন্তু ঝুঁকিও ততটাই বিস্তৃত।’ তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ যদি সামনে এগোতে চায়, তাহলে আমাদের কন্যা, মায়েরা, বোনেরা, সহকর্মীরা—এভাবে ভয় নিয়ে বাঁচতে পারে না। প্রতিদিন অসংখ্য নারী শুধু কথা বলার জন্য, কাজ করার জন্য, পড়াশোনা করার জন্য বা স্বাধীনভাবে বাঁচার চেষ্টা করার জন্য হয়রানি, হুমকি, বুলিং এবং সহিংসতার মুখোমুখি হন।’‘এটা সেই বাংলাদেশ নয়, যে বাংলাদেশের স্বপ্ন আমরা দেখি।
আর এটা আমাদের সেই ভবিষ্যৎও নয় যা আমাদের কন্যারা প্রত্যাশা করে। নারীদের নিরাপদ বোধ করতে হবে—অনলাইনে এবং অফলাইনে, ঘরে এবং বাইরে, ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের প্রতিটি ধাপে।’এ বাস্তবতা গড়ে তুলতে, বিএনপি যে পাঁচটি জরুরি অগ্রাধিকার বাস্তবায়নের স্বপ্ন দেখে তা হলো—প্রথমত, একটি জাতীয় অনলাইন সেফটি সিস্টেম—যেখানে নারীরা খুব সহজে সাইবার বুলিং, হুমকি, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার, বা তথ্য ফাঁসের অভিযোগ জানাতে পারবেন। থাকবে ২৪/৭ হটলাইন, অনলাইন পোর্টাল, এবং প্রশিক্ষিত সাড়া-দাতার দল যারা দ্রুত, সম্মানজনক ও কার্যকর সহায়তা দেবে।
বড় প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলা ভাষায় কনটেন্ট মডারেশন আরো উন্নত হবে, এবং অপমানজনক কনটেন্ট দ্রুত অপসারিত হবে। দ্বিতীয়ত, সার্বজনীন জীবনে থাকা নারীদের জন্য সুরক্ষা প্রোটোকল—যেখানে সাংবাদিক, কর্মী, শিক্ষার্থী বা কমিউনিটি নেত্রী হিসেবে যারা আক্রমণের মুখে পড়েন, তাদের জন্য স্পষ্ট জাতীয় নির্দেশিকা থাকবে। থাকবে দ্রুত আইনি ও ডিজিটাল সহায়তা, গোপনীয়ভাবে অভিযোগ জানানোর পথ এবং এমন একটি পরিবেশ যেখানে কোনো নারীকে জনজীবনে অংশ নেওয়ার কারণে চুপ করানো হবে না।তৃতীয়ত, ডিজিটাল নিরাপত্তা শিক্ষা—স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ওরিয়েন্টেশন থেকেই ব্যবহারিক ডিজিটাল নিরাপত্তা শেখানো হবে। প্রশিক্ষিত শিক্ষকরা ‘সেফটি ফোকাল পয়েন্ট’ হিসেবে কাজ করবেন, আর বার্ষিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি তরুণদের ডিজিটাল পৃথিবীতে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে চলতে সাহায্য করবে।

চতুর্থত, নারীর প্রতি সহিংসতা ও হয়রানির বিরুদ্ধে শক্তিশালী কমিউনিটি-ভিত্তিক প্রতিক্রিয়া—কমিউনিটি হেল্প ডেস্ক, নিরাপদ পরিবহন রুট, উন্নত স্ট্রিট লাইটিং, এবং ট্রমা-সেন্সিটিভ রেসপন্ডারদের মাধ্যমে নারীদের প্রতিদিনের জীবনকে আরও নিরাপদ ও পূর্বানুমেয় করা হবে। পঞ্চমত, নারীর নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণ বাড়াতে জাতীয় পর্যায়ে উদ্যোগ; যেমন নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ, পরামর্শদাতা নেটওয়ার্ক, স্কুল-অফিস-কারখানায় শিশু পরিচর্যার বিস্তৃত ব্যবস্থা নারীদের নেতৃত্ব গ্রহণ, অর্জন, ও পূর্ণাঙ্গভাবে অবদান রাখার সুযোগ তৈরি করবে। কারণ, নারী এগোলে জাতি এগোবে। উল্লেখ্য, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

- Advertisement -
- Advertisement -