আজ বৃহস্পতিবার, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ।   ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আমতলীতে ১৫ শ কেজি জাটকা আটক, এতিম খানায় বিতরণের সময় থানা চত্বরে মাছ লুট

আরো খবর

মানাফি ইসলাম নাজমুল বরগুনা প্রতিনিধি ,বরগুনা আমতলী তে এতিমদের জন্য বরাদ্দকৃত ১৫০০ কেজি জাটকা ইলিশ মাছ আমতলী থানা থেকে লুট হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) প্রকাশ্য দিবালোকে এমন ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ইলিশ মাছ লুট হওয়ার ঘটনা মুহুর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ও নিন্দার ঝড় উঠে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেছেন নেটিজেনরা।

এমন আলোচিত ঘটনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রোকনুজ্জামান খাঁন জানেন না বলে তিনি দাবি করেছেন। স্থানীয়রা উপজেলা প্রশাসনের গাফিলতিকে দায়ী করেছেন। জানা যায়, গত ১ নভেম্বর থেকে সাগর ও নদীতে জাটকা ইলিশ শিকার করা নিষিদ্ধ। কিন্তু তালতলী, কলাপাড়া ও আমতলী উপজেলার অসাধু জেলেরা সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে অবাধে মাছ শিকার করছেন।

জেলেদের শিকার করা জাটকা ইলিশ বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে চারটি পরিবহন গাড়ীতে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় পাচার হচ্ছিল। ওই মাছ নৌ-বাহিনীর সদস্য ও উপজেলা মৎস্য বিভাগ জব্দ করে। জব্দ মাছ তারা আমতলী থানায় মজুদ রাখেন। বিকেলে ওই মাছ স্থানীয় ৫০ টি এতিম খানায় বিতরণ করা হচ্ছিল।

ওই মুহুর্তে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ দুই শতাধিক মানুষ থানা কম্পাউন্ডের ভিতরে প্রবেশ করেন। তারা মাছগুলো লুট করে নিয়ে যায়। প্রকাশ্য দিবালোকে থানার মধ্যে এভাবে মাছ লুট হওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেছেন সাধারণ মানুষ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, ‘পুলিশের সামনে জাটকা ইলিশ লুট হলেও তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি। রাজনৈতিক দলের লোকজন মাছ লুট করছে। উপজেলা প্রশাসন সঠিকভাবে মাছ বিতরণ করলে এমন হতো না। তাদের গাফলতির কারনেই এমন ঘটনা ঘটেছে।’

তারা আরও বলেন, বুধবার রাতেও জাটকা ইলিশ জব্দ করা হয়েছিল। কিন্তু উপজেলা প্রশাসন পরিবহন গাড়ী ও জব্দকৃত মাছের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত দেয়নি। ফলে থানায় এমন ঘটনা ঘটেছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।’ প্রত্যক্ষদর্শী গাজী নাসির উদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন বলেন, ‘পুলিশের সামনে থেকে জব্দকৃত জাটকা ইলিশ লুট হওয়া খুবই দুঃখজনক।

তিনি আরও বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসন যদি সঠিকমত বন্ঠন করলে এমন হতো না। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানাই।’আমতলী উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা তন্ময় কুমার বলেন, ‘আমি প্রশিক্ষণে আছি। জব্দকৃত ১৫০০ কেজি মাছ ৫০ টি এতিম খানায় বিতরণকালে অপরিচিতি শতাধিক লোকজন এসে মাছ লুট করে নিয়ে গেছে।’

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, ‘জব্দকৃত অর্ধেক মাছ সঠিকভাবে বন্ঠন করা হয়েছে। বাকী অর্ধেক মাছ মানুষ নিয়ে গেছে। আমি ঠেকানোর চেষ্টা করেও পারিনি।’

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রোকনুজ্জামান খাঁন বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। থানা একটি সুরক্ষিত জায়গা, সেখান থেকে মাছ লুট হওয়ার প্রশ্নই আসেনা। তারপরও যদি লুট হয়ে থাকে, জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

- Advertisement -
- Advertisement -